বোরিং লাগলে ফড়িং ধরো
ফুর্তি লাগলে এসো
একলা লাগলে ফোঁকলা দাঁতে
খিলখিলিয়ে হেসো!
মন ভাল নেই বলতে গিয়ে
মন করোনা স্যাড
খারাপ মনের মানুষকে সব
ভাবে লোকে ব্যাড!
একলা থাকো দোকলা থাকো
রইবে নিজের মত
চাইলে পরে এদিক সেদিক
বাড়বে শুধু ক্ষত!
বোরিং লাগলে ফড়িং ধরো
ফুর্তি লাগলে এসো
একলা লাগলে ফোঁকলা দাঁতে
খিলখিলিয়ে হেসো!
মন ভাল নেই বলতে গিয়ে
মন করোনা স্যাড
খারাপ মনের মানুষকে সব
ভাবে লোকে ব্যাড!
একলা থাকো দোকলা থাকো
রইবে নিজের মত
চাইলে পরে এদিক সেদিক
বাড়বে শুধু ক্ষত!
আজ হতে প্রায় ছয় বছর আগে আইআরসি’তে বাংলায় চ্যাট করার জন্য একটি স্ক্রিপ্ট লিখেছিলাম। প্রথমে দেখে অনেকেই আনন্দ পেলেও সেই বাংলা চ্যাট রুমের প্রতি কারো আকর্ষণই দুই-একদিনের বেশি স্থায়ী হয়নি। বাংলা লেখা ঝামেলাপূর্ন বা বাংলা লেখালেখিতে আইআরসি ব্যবহারকারীদের অনাগ্রহের কারণেই হয়তোবা। অনেক সময় নষ্ট করে ঐ স্ক্রিপ্ট লেখার পরও যখন লোকজন বাংলায় চ্যাট করতে আগ্রহী হলো না তখন বেশ হতাশ হয়েছিলাম, ভেবেছিলাম ইন্টারনেটের স্মার্ট বাঙালিদের বাংলার প্রতি আগ্রহী নাই, বা বাংলা লেখার প্রতি তাদের কোন দুর্বলতা নাই। তার পরের বছরেই আমার এই ভুল ভেঙ্গে গেল যখন একটি বাংলা ব্লগ সাইট (সামহোয়্যারইন) এর আবির্ভাব ঘটলো এবং দলে দলে লোকজন অনলাইনে বাংলা লিখতে শুরু করলো। তারপর একে একে অনেক ব্লগ সাইট এলো, বাংলা ভাষায় ব্লগিং রীতিমত জনপ্রিয় একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ালো। আজকে গুগলে বাংলায় কোন কিছু লিখে সার্চ দিলে অনেককিছুই পাওয়া যায় যা মাত্র চার বছর আগেও পাওয়া যেত না। বাংলা ভাষাকে অনলাইনে এতটা জনপ্রিয় করার জন্য বাংলা ব্লগ সাইটগুলোর কাছে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের ঋণ শোধ হওয়ার মত নয়। এই ধারাবাহিকতায় সোনার বাংলা ব্লগের আগমনকে তাই স্বাগত জানাই। (more…)
সম্প্রতি বাংলাদেশের নাগরিকরা নিজেদেরকে বাংলাদেশি বলার অধিকার হারিয়েছেন। আমরা হঠাৎ করে অফিসিয়ালি বাঙালি হয়ে গেলাম এবং বাংলাদেশি বলে কোন জাতির অস্তিত্ব আর রইলো না। ভারতীয় বাঙালি আর বাংলাদেশের বাঙালি মিলে এখন তৈরি হলো নতুন এক জাতীয়তা। ভারতীয় বাঙালিদের সাথে বাংলাদেশ নামক ভূ-খন্ডের মানুষদের এক করতে পেরে আওয়ামীলীগ ও তাদের সমর্থকরা তৃপ্তির ঢেকুর তুললেও তারা বুঝতে পারছেন না যে বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের মনে তারা কি প্রশ্ন তৈরি হওয়ার অবকাশ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। বিষয়টা আরেকটু খোলাসা করি-
এই দেশে জাতীয়তার পাশাপাশি জাতির জনক নিয়েও একটা বিশাল রকমের বিতর্ক রয়েছে। যদিও সরকার আইন করে জাতির জনক সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অনেকটা নিষিদ্ধের মত করে দিয়েছে তথাপিও এই বিতর্ক অনাদীকাল পর্যন্ত চলতে থাকবে। আর সেই ধারাবাহিকতাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যত নাগরিকরা যারা বাংলাদেশি বলে কোন জাতির অস্তিত্ব খুঁজে পাবে না তারা কেঁচো খুড়তে সাপ বের করে ফেলতে পারে।
বিষয়টা কেমন হতে পারে তার একটা সরল চিত্র তৈরি করি-
২০৮০ সাল, রিশান আজকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সম্পর্কে একটা আর্টিকেল পড়ে বেশ এক্সাইটেড। নিজে বাঙালি হলেও বাঙালির ইতিহাস রিশান ঠিক ঠিক মত জানে না। হাই স্পিড কমিউনিকেশন প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে নিমিষেই সে বাঙালি জাতির ইতিহাস সমর্পর্কিত গোটা দশেক বই ও তথ্যপাতা ডাউনলোড করে ফেললো।
৩ মাস পর
রিশান খুবই কনফিউজড। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর বাবা এমনকি দাদাও বাঙালি ছিলো, এই তথ্যটা তাকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে। যে ব্যক্তি জন্মের আগেই বাঙালি নামক একটা জাতির অস্তিত্ব ছিলো সেই জাতির জনক তিনি কিভাবে হলেন সেটাই তার মাথায় ঢুকছে না। রিশান আরো অবাক হলো ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নতুন কোন জাতির অস্তিত্ব তৈরি হতে না দেখে। ১৯৭১ নিয়ে রিশান এবার সার্চ করবে ঠিক করেছে…
–
বেচারা রিশান… বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদ বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব পেলে হয়তো সে হয়তো নিজেকে কিছুটা হলেও প্রবোধ দিতে পারতো। বাংলাদেশি নামক কোন জাতির অস্তত্ব সম্পর্কে ততদিনে সকল ডাটাবেস ও বই-পুস্তক থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
নাহ, অনেক ভেবে দেখলাম… ক্ষমতায় যেতে পারলেই জীবন স্বার্থক! যে দেশের জনগন উচ্চ হারে ভ্যাট ট্যাক্স সব ঠিকই দেয় কিন্তু সেই ভ্যাট আর ট্যাক্সের টাকা সরকার ইচ্ছে মত অপচয় আর মেরে দিলেও কিছু মনে করে না, এমনকি সরকারের কাজকর্ম নিয়ে মাথা ঘামানোকে আজাইরা কাজ.. আবার হাজারো অপকর্মের পরেও ইনিয়ে বিনিয়ে সমর্থন করার লোকেরও অভাব হয় না… দেশ নিয়ে বড় বড় চিন্তা করা লোকেরাও চুপচাপ থাকতে পছন্দ করে… জাতির বিবেক খ্যাত বুদ্ধিজীবীরা ইনিয়ে বিনিয়ে সকল অপকর্মের পক্ষে নানা রকম যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে… সেই দেশে ক্ষমতায় যাওয়া খুবই মজাদার সন্দেহ নাই। তাই ঠিক করলাম ক্ষমতায় যেতে হবে…
হ্যাঁ ভাইসব.. ঠিক করলাম ক্ষমতায় যেতে হবে, জনগণের ভ্যাটের টাকায় মৌজ করতে ইচ্ছে করে ভাইসব… তাই আগামী নির্বাচনে আপনাদের সাথে চাই। নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ দিয়ে শুরু করলাম আমার নির্বাচনী প্রচারণা-
আমি ক্ষমতায় এলে-
* অবশ্যই দেশের মানুষের উপরে আরো বেশি বেশি হারে ভ্যাট ও ট্যাক্স আরোপ করবো..
* জিনিস পত্রের দাম নিয়ে আপনাদের একদমই ভাবতে হবে না ভাইসব। কারণ ঐগুলি আপনাদের নাগালের বাইরেই থাকবে… ১০০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর পরিষ্কার প্রতিশ্রুতি রইলো ভাইসব। ভাববেন না যে পরে এটা অস্বীকার করবো… আমি মোটেও সেরকম না ভাইসব…
* ভ্যাট এবং ট্যাক্সের টাকায় নিজের বাপ-দাদা এবং ফর্টিন জেনারেশনের নামে এটা সেটা বানাবো (বানাতে খরচ বেশি মনে হলে আগের বানানো জিনিসে নিজের ফর্টিন জেনারেশনের নাম বসিয়ে দেব)…
* বিরোধী দলকে অবশ্যই শায়েস্তা করবো। বিরোধী পত্র-পত্রিকা পেলেই সেগুলো বন্ধ করে সম্পাদকদের ধরে সব জেলে পুরে রাখবো..
* বিরোধী দলের লোকদের দমন করার জন্য যত টাকা লাগে খরচ করবো… দরকার হলে দেশে আরো জেলখানা ও টর্চার চেম্বার বসাবো…
* ছাত্র সংগঠন বানাবো একটা। তাদের দায়িত্ব থাকবে দেশের শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করা এবং যাবতীয় টেন্ডারবাজী এবং অপকর্মের দায়িত্ব তাদের উপরে থাকবে। কি করবো বলুন, শুধু ট্যাক্স আর ভ্যাটের টাকায় তো খুব বেশি কিছু করা সম্ভব না…
* টেন্ডারবাজী নিয়ে আমার নিজেদের দলের লোকেরা মারামারি শুরু করলে অবশ্যই তাদেরকে নিজেরা নিজেরা মারামারি না করে বিরোধী দলের উপরে ঝাপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেব ভাইসব।
* যেহেতু নতুন ছাত্র সংগঠন করবো সেহেতু সেখানে অভিজ্ঞ লোকজনের অভাব হলে বিনা অভিজ্ঞতা ও জমানতে সরকারি বড় বড় কাজগুলো আমার দলের লোকজনের পাওয়ার ব্যবস্থা করবো… (আমার দলে যারা যোগ দিতে আগ্রহীরা নিশ্চই এবার খুব উৎসাহ বোধ করছেন! অতিসত্বর যোগাযোগ করুন)..
* বিনা টেন্ডারেও আমার দলের লোকজনের কাজ পাওয়ার বিশেষ সুবিধা থাকবে ভাইসব…
* সরকারি সকল চাকুরি ও সুবিধাতে শুধু আমার দলের লোকজনকেই নেওয়া হবে ভাইসব…
* ভ্যাট-ট্যাক্সের টাকা বিনা ঝামেলায় হজম করার পথ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর আরো বড় অঙ্কের উৎকোচ পেতে বিদেশীদের সাথে চুক্তি করা শুরু করবো … দরকার হলে সের দরে দেশ বিক্রি করে দেব ভাইসব…
* দেশের টেলিফোন কোম্পানী থেকে শুরু করে সকল দেশী উদ্যোক্তাদের সাইজ করা হবে ভাইসব। সবকয়টা বন্ধ করে বিদেশী বিনিয়োগ নিশ্চিত করবো ভাইসব…
* দেশী ফ্যাক্টরির বিদ্যুত-পানি-গ্যাস সুবিধা কমিয়ে দেওয়া হবে ভাইসব.. কারণ ওগুলো পার্শ্ববর্তী দেশে রপ্তানী করে আরো অর্থ আয়ের পথ করতে হবে ভাইসব.. আপনারা জানেন আমার টাকা পয়সার অভাব কখনোই মিটবে না ভাইসব…
* দেশে বিদ্যুত সমস্যা একদমই থাকবে না ভাইসব.. কারণ দেশে বিদ্যুৎ-ই থাকবে না ভাইসব।
* তারপরও যদি আপনাদের মনে হয় দেশে গ্যাস-বিদ্যুত দরকার, তা হলে পাশ্ববর্তী দেশ থেকে উৎকোচ ও বিশেষ ব্যক্তিগত ও দলীয় সুবিধা আদায়পূর্বক গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি এমনকি বাতাসও আমদানি করার চুক্তি করে ফেলবো ভাইসব, আপনারা একদমই টেনশন নিবেন না…
আরো কত কিছু যে করবো ভাইসব… আপনারা শুধু আমাকে নির্বাচিত করে পরবর্তী পাঁচ বছর দেশ নিয়ে চিন্তা করাকে আজাইরা কাজ মনে করবেন প্লিজ!
দেখুন আমি অন্য সব রাজনৈতিক দলের মত মিথ্যা অঙ্গীকার করি না। আমি যা বলেছি তা অক্ষরে অক্ষরেই পালন করে ছাড়বো ভাইসব….. আগামী নির্বাচনে আপনারা আমাকে অবশ্যই ভোট দিবেন প্লিজ!
চেয়্যারম্যান
বাংলাদেশ ত্রিভুজ পার্টি
স্ট্রেইট-কাট হওয়া ভাল। যার পছন্দ হবে না দুইদিন পর তার সাথে এমনিতেই ঝামেলা হবে, তারচাইতে প্রথমেই কেটে পড়ুক…
আমি সর্বাবস্থায় সুখী। যখন খারাপ সময় আসে তখন ভবিষ্যতের ভাল সময়ের কথা ভেবে সুখী হই, আর যখন ভাল সময় আসে তখন বর্তমানের ভালকে উপভোগ করি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব গুরুত্বপূর্ন একটি নিয়ামক হচ্ছে ধর্ম। এখানে কেউ ধর্ম প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করেন আর কেউ ধর্ম বিলুপ্তের রাজনীতি। ধর্ম প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগন ডানপন্থী হিসেবে জানে আর ধর্ম বিলুপ্তের রাজনৈতিক দলগুলোকে বাম।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাম রাজনৈতিক দলগুলোর জনসমর্থন খুবই কম যা বিভিন্ন নির্বাপনে এদের প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। বাংলাদেশের মানুষ জনগত ভাবে মুসলিম হলেও সত্যিকার ধার্মিক বা সঠিক ভাবে ধর্ম পালন করা লোকের সংখ্যা নিতান্তই হাতে গোনা। এদেশের বেশিরভাগ মুসলিমই নিজেদের ধর্ম সম্পর্কে অনেক ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করেন এবং এই আধা ধার্মিকেরা ধর্ম পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে ফেলেন যার কারণে ধার্মিকদের বিষয়ে এদেশে বেশ নেতিবাচক একটা ধারণাই যুগের পর যুগ ধরে তৈরি হচ্ছিল। নির্বাচনগুলোতে চরম ভাবে প্রত্যাখ্যাত হলেও ধার্মিকদের এসব ভুলগুলোকে পুঁজি করেই বামরা ধীরে ধীরে তারা জনগনের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে করতে সমর্থ হয়েছিল ফলশ্রুতিতে এদের তৈরি মিডিয়াগুলোই এদেশে অধিকতর জনপ্রিয় হতে শুরু করে। এবং একটা সময়ে এসে দেখা গেল দেশের গোটা মিডিয়া অঙ্গনই তাদের নিয়ন্ত্রনে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম যে একটা বড় নিয়ামক এটা অনেকেই সচেতন ভাবে হয়তো লক্ষ্য করেননি। তারা হয়তো লক্ষ্য করেননি এদেশে রাজনীতি করতে এসে আমাদের নেতারা ও মিডিয়া মৌলবাদ, স্যেকুলার, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি টার্মগুলো বেশি আউড়ায়। বামপন্থী মিডিয়াগুলো একটা সময়ে মৌলবাদী, ফতোয়াবাজ, ধর্মান্ধ শব্দগুলো এত বেশি ব্যবহার কত যে এদের খবর ও আলোচনাগুলোতে যাওয়ার আগেই বলে দেওয়া যেত কি কি শুনতে হবে। তবে আধা-ধার্মিক বাঙালির ধর্মীয় উগ্রতায় এত বেশি মানুষ বিরক্ত ছিল যে এদের কথাগুলো গিলতে কারো অরুচী হয়নি তখন। যদিও ২০১০ সালে এসে এই এরাই আবার ‘অমুকের কথা ধর্মানুভূতিতে আঘাত হেনেছে, তার কল্লা চাই’ টাইপ খবর পরিবেশন ও মোটা বুদ্ধি সম্পন্ন ধর্মান্ধদের প্রমোট করা শুরু করে। এতে একটা বিষয়ই পরিষ্কার হয় যে ধর্মান্ধতা দূর করার কোন ইচ্ছে এদের কোন কালেই ছিল না এবং এখনো নাই। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বিগত বছরগুলোতে ধর্মান্ধদের বিভিন্ন কাজকর্মের সমালোচনা করলেও কিভাবে ধর্মান্ধতা দূর করা যায় এধরনের কোন গঠনমূলক আলোচনা বা পদক্ষেপ নেওয়ার ইতিহাস এদের নাই।
বাম রাজনৈতিক দলগুলো একটা সময়ে এসে এটা ভাল ভাবেই উপলদ্ধি করতে সমর্থ হলো যে এই দেশে আর যাই হোক, ধর্মের সরাসরি বিরোধীতা করে কোন কিছু করা সম্ভব না। অতঃপর তারা একটু টেকনিক্যালি আগাতে শুরু করলো, তাদের নতুন লেবাস হলো ধর্মনিরপেক্ষতা আর নেতা হলো শেখ মুজিবর রহমান। অথচ ৭১ পরবর্তী সময়ে শেখ মুজিবর ছিলেন এদের চরম ও পরম শত্রু। এদের নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা শেখ মুজিবর রহমান কে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করেছিল এমনকি এদের এক গুরু ড. আহমদ শরীফ শেখ মুজিব কে জঘন্য ভাষায় গালাগাল দিত। তিনি তার লেখা বিভিন্ন প্রবদ্ধেও শেখ মুজিবকে গালাগাল দিয়েছেন। ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এদের প্রতিক্রিয়াগুলো তৎকালীন পত্রপত্রিকায় পাওয়া যাবে। সেই তারাই ২০১০ সালে এসে আওয়ামীলীগের একটা বড় অংশ জুড়ে রাজত্ব করতে শুরু করেছে।
ধারণা করা যায় আগামী ৫ বছরের ভেতরে আওয়ামীলীগ তার নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে একটি মুখোশধারী ধর্ম বিরোধী ও জনবিরোধী দলে পরিনত হবে। তখন আওয়ামীলীগের প্রতি বামদের আচরণ কেমন হতে পারে? আমার ব্যক্তিগত ধারণা হচ্ছে আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব মোটামুটি বিলুপ্ত করার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবকিছুই এরা করে যাবে। একই সাথে ডানদলগুলোকেও শায়েস্তা করার যাবতীয় ব্যবস্থা এর গ্রহণ করবে।
একটা বিষয় হয়তো অনেকেই লক্ষ্য করেন নাই যে, সরকারের গত দুই বছরের কাজের দায় পুরোপুরিই আওয়ামীলীগের উপরে আরোপ করা হচ্ছে। সাহারা খাতুনের উস্কানীতে ছাত্রলীগ অপকর্ম করে দোষ হয় আওয়ামীলীগের, দেশে পত্র পত্রিকা বন্ধ থেকে শুরু করে নানা ধরনের অপকর্মের যাবতীয় দোষও কিন্তু আওয়ামীলীগের ঘাড়েই বর্তাচ্ছে। প্রতিপক্ষের মিডিয়া বন্ধ করা, দলীয় নেতাদের নির্যাতন থেকে শুরু করে যাবতীয় অপকর্মের দায় কাধে নিয়ে আওয়ামীলীগ ধংসের পথে এগুবে কিন্তু বামরা থেকে যাবে ধরা ছোঁয়ার উর্দ্বে। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার কূটকৌশল বামদের চাইতে ভাল আর কেউ জানে না।
মাঝে মাঝে প্রশংসা করুন একটু ভিন্নভাবে। যার প্রশংসা করবেন সে যদি সেটাকে সমালোচনা মনে করে রাগ করে তাহলে বুঝবেন প্রশংসাটা তার প্রাপ্য ছিলো না বরং সে সমালোচনারই যোগ্য। অতঃপর নিজেকে ধন্যবাদ দিন, প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়ার জন্যে।
রুপ জিনিষটা হচ্ছে চিঠির খামের মত। খামটা সুন্দর না হলে অনেকেই সেটা খুলে দেখার আগ্রহ বোধ করে না.. কিন্তু শেষ পর্যন্ত খামের ভেতরের চিঠিটাই বেশি গুরুত্ব পায়। খামটা পড়ে থাকে টেবিলের নিচে বা অন্য কোথাও…
কম্পিউটার বস্তুটার সাথে প্রথম পরিচিত হয়েছি সেই ডস আমলে। সেসময় কম্পিটার মানে সাদাকালো মনিটরে কোনরকমে প্রিন্স অব পার্সিয়া বা পিংপং গেমটা ওপেন করে গেম খেলা। পিসিতে মাউস বস্তুটা তখনো ওভাবে প্রচলিত হয়নি (উইন্ডোজ ৯এক্স বাজারে আসার আগের কথা এটা) যদিও তখন বাজারে উইন্ডোজ ৩.১ পাওয়া যাচ্ছিলো। ঠিক এসময় জীবনে প্রথম ম্যাক দেখি, সাথে মাউস। পিসির রাজ্যে যখন গভীর অন্ধকার (ডস প্রম্পটের যুগ) তখন প্রথমবারের মত মাউস দেখে অনেক এক্সাইটেড হলেও সেটা বেশিক্ষন টেকেনি; খুব সম্ভবত ম্যাকে গেম না থাকার কারণে।
![]()
ছবি: আইবিএম পিসি – ডিএক্স-টু (ওয়েব থেকে)
ঘুটঘুটে অন্ধকার পিসির রাজ্যে যেদিন প্রথম রঙ্গিন মনিটরে উইন্ডোজ ৯৫ দেখি সেদিনটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা দিন সন্দেহ নাই। এই খুশি মাউস বা উইন্ডোজের গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস দেখে হয়নি বরং Wolfenstein 3D নামের একটা থ্রিডি গেম দেখে হয়েছিলাম। আমার জীবনে দেখা প্রথম অসাধারণ গ্রাফিক্স(!) এর গেম ছিলো ওটা। তারপর ধীরে ধীরে ডুম, ডুম-২, এনএফএস আরো কত গেম আসলো। উইন্ডোজ ৯৫ থেকে ৯৮ এ আসার পর আমাদের কম্পিউটিং আরো রঙ্গীন হয়ে উঠলো…. ততদিনে গেমিং এর চাইতে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বেশি আনন্দদায়ক আমার কাছে। জি-বেসিক ছেড়ে তখন কিউ-বেসিক আর ফট্রানে কাজ করা শুরু করেছি মাত্র। ঠিক এসময়টায় আবার ম্যাকের সাথে পরিচয় ঘটে। এবারো ম্যাক ভাল লাগলো না; কারণ আর কিছুই না- ম্যাকে কিউ-বেসিক কাজ করে না। (more…)
মুসা ইব্রাহীম-এর এভারেস্ট জয় করা নিয়ে প্রথম থেকেই বিতর্ক চলছে। একজন বাংলাদেশি এভারেস্টে ওঠেছেন এতে আমাদের আনন্দিত হওয়ার কথা.. প্রশ্ন যদি তুলতেই হয় তাহলে তোলা উচিত এমন কোন দেশের যারা আমাদের এই গৌরব মেনে নিতে পারছেন না। কিন্তু ঘটলো উলটো টা… আমাদের দেশের ভেতরেই কিছু মানুষ এর বিরুদ্ধে একদম প্রথম থেকে লেগে গেলেন। তখন পর্যন্ত কারো হাতেই এমন কোন আলামত ছিলো না যা থেকে দাবী করা যায় যে মুসা এভারেস্টে ওঠেছেন কি ওঠেন নাই। কিন্তু দেখা গেল কিছু লোক প্রথম থেকেই জোর গলায় দাবী করে বসলেন যে মুসা এভারেস্টে ওঠেন নাই। প্রমাণ হিসেবে তারা এমন সব তথ্য দিতে শুরু করলেন যেগুলো পড়লে সত্যিই মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। আর মানুষ সত্যি কথার চাইতে মিথ্যা কথা বেশি দ্রুত বিশ্বাস করে। সত্যি ঘটনার হাজারটা প্রমাণের জন্য যে লোকটা অপেক্ষা করে সেও একটা প্রমাণ বা অতিরঞ্জিত কোন মিথ্যা তথ্য শুনে হুট করে কোন বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে বসে। মানুষের এই আজগুবি নেচার থেকে আমিও পুরোপুরি মুক্ত নই, যে কারণে একজন বাংলাদেশির এভারেস্ট বিজয়ের খবর শুনে নাচতে নাচতে ব্লগে এসে একটা পোস্ট পড়ে কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম। সামহোয়্যারইন ব্লগে তখন মুসা ইব্রাহীমের খবর স্টিকি পোস্ট। সেখানেও লিখেছিলাম যে কনফিউশন দূর না হওয়া পর্যন্ত অভিনন্দন স্থগিত।
এর ভেতরে অফিসের নানা ব্যস্ততায় আর মুসা ইব্রাহীমের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হয়নি.. মাঝে মাঝে ব্লগারদের শেয়ার করা ফেসবুক লিঙ্ক থেকে কোন ব্লগের কোন পোস্টে এসে পড়ে চলে যাই। এর ভেতরে খাগড়াছড়িতে একটা ছোটখঅট ট্রেকিং করতে ভ্রমণ বাংলাদেশের সাথে রওনা হয়ে যাই। ভ্রমণ বাংলাদেশ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রাচীনতম একটা এডভেঞ্চার/মাউন্টেইনিং/ট্রেকিং/ভ্রমণ ক্লাব যাদের সাথে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অভিযানে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। মীর শামসুল আলম বাবু ভাইয়ের সাথেও ওখানেই আমার প্রথম পরিচয়। বিভিন্ন অভিযানে রাতের বেলা ক্যাম্প-ফায়ারে বসে আমাদের যেসব গল্প হতো সেগুলোর বেশির ভাগই জুড়ে থাকতো এইসব মাউন্টেইনিং ও নানা দুঃসাহসী কাহিনী ও অভিযাত্রীদের কথা। সুতরাং খাগড়াছড়ি ট্রেকিং এ রওনা হওয়ার সময় বাবু ভাইকে ফোন দিলাম, মুসা ইব্রাহীম সত্যিই এভারেস্ট জয় করেছেন কিনা জানতে চেয়ে। বাবু ভাই এর উত্তর ছিলো, “কি মনে হয়?” তারপর জানালেন তিনি একটু ব্যস্ত আছেন এটা নিয়ে আমাদের পরে কথা হবে।
গত কয়েকদিন ধরে মুসা ইব্রাহীম এর এভারেস্ট জয় করা নিয়ে ব্লগ,ফেসবুক ও বিভিন্ন অনলাইন কমিউনিটিতে যে আলোচনা শুরু হয়েছে তার সূত্র ধরে কিছুক্ষন আগে বাবু ভাইকে আবার কল দিলাম। ঘন্টা খানেকের বেশি সময় ধরে বাবু ভাই নানা কথা বললেন। সেগুলো তুলে ধরার আগে মীর শামসুল আলম বাবু সম্পর্কে ব্লগারদের কিছু তথ্য জানা জরুরী।
বাংলাদেশে ট্রেকিং বা মাউন্টেইনিং বিষয়টা খুব বেশি জনপ্রিয় না হলেও জেনে অনেকে অবাক হবেন যে এই দেশেও প্রচুর ছেলে মেয়ে মাউন্টেইনিং এর উপরে প্রশিক্ষন কোর্স করে ফেলেছেন। এইচএমআই (HMI = Welcome to Himalayan Mountaineering Institute) ও এনআইএম (NIM = Nehru Institute of Mountaineering) থেকে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন বাংলাদেশি প্রশিক্ষন প্রাপ্ত হয়েছেন যারা নিজেদের সার্টিফাইড মাউন্টেইনার বলতে পারবেন। এদের ভেতর শুধুমাত্র একজন আছেন যিনি HMI থেকে মাউন্টেইনিং প্রশিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত। সাদা বাংলায় এদেশে মাউন্টেইনিং প্রশিক্ষন দেয়ার মত অফিসিয়াল স্বীকৃতি আছে শুধুমাত্র এক ব্যক্তির। এই ব্যক্তিই হচ্ছেন মীর শামসুল আলম বাবু। বাংলাদেশে মাউন্টেইনিং নিয়ে লেখা একমাত্র বইটাও মীর শামসুল আলম বাবুর লেখা। বাবু ভাইয়ের আরো অনেক গুন ও পরিচয় আছে যেগুলো দিয়ে লেখা বড় না করে মূল আলোচনায় ফিরে যাওয়া যাক।
ব্লগের সাম্প্রতিক কিছু পোস্টের প্রেক্ষিতে বাবু ভাইয়ের সাথে ঘন্টা ব্যপি আলোচনা থেকে যে তথ্যগুলো ওঠে এসেছে সেগুলো অনেকেই জানেন না বা জানার সুযোগ নাই বিধায় মুসা ইব্রাহীম এর এভারেস্ট জয় করা নিয়ে বিতর্কটা আরো জমজমাট হয়ে যাচ্ছে। আবার এই কথাও সত্য যে আমরা যারা মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয় করা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও যুক্তি তুলে ধরছি তারা কেউই কিন্তু মাউন্টেইনিং সম্পর্কে পরিষ্কার কিছু জানি না। একই সাথে বাতাসে অনেক কথা ছড়ানো হয়েছে যেগুলোর কোন সত্যতা নেই, যেমন- পেপসির (ট্রান্সকম) অর্থায়নে পাঠানো মাউন্টেইনার মুহিত এর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে মুহিত নাকি ঐ এলাকায় কাউকে জিজ্ঞেস করে মুসা ইব্রাহিম নামের কোন ব্যক্তির সন্ধান পাননি যিনি এভারেস্ট জয় করতে গিয়েছেন (এই কাজটি ইমেল মারফত প্রথম প্রচার করেন সজল খালেদ যার জন্য পরে তিনি ক্ষমা প্রার্থনাও করেছেন। সজল খালেদের মেইলের অংশ বিশেষ মন্তব্য-২৩ এ পাওয়া যাবে।) বাবু ভাই জানালেন মুহিত দেশে ফিরে জানিয়েছে যে এরকম কিছু তিনি বলেন নাই। একই ভাবে অতীতের বিভিন্ন ঘটনার বিষয়েও ব্লগ ও ওয়েবে অনেক রঙ চড়ানো হয়েছে বলে বাবু ভাই জানালেন। অতীতের ঘটনা ছাড়াও এভারেস্ট জয় করার পর প্রথম আলোর অতিরিক্ত বাড়াবাড়িমূলক লেখাগুলো বিশেষ করে আনিসুল হকের বিভিন্ন লেখাও নানা রকম বিভ্রান্তিকর তথ্য এসেছে যেগুলো এই সন্দেহের দাবানলে জ্বালানী হিসেবে কাজ করছে। যেমন, এভারেস্টে চড়তে গিয়ে মুসা ইব্রাহীম লেডারের উপরে ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন যা আসলে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বাবু ভাই। এছাড়াও আরো বেশ কিছু সঙ্গতিহীন তথ্য তিনি প্রকাশ করেছেন যার একটি হচ্ছে ২০০৯ এ এভারেস্টে বুদ্ধমূর্তি স্থাপণ করা হয়। মাউন্টেইনিং সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকা, মুসা ইব্রাহীম ফেরার আগেই পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে স্টোরি তৈরি করতে গিয়ে এবং কাহিনীতে একটু নাটকীয়তা আনতে গিয়ে হয়তো আনিসুল হক নিজের অজান্তেই এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ফেলেছেন যা মুসা ইব্রাহীমের কট্টর বিরোধী গোষ্ঠী চতুর ভাবে ব্যবহার করছে এবং করবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুসা ইব্রাহীমকে নিয়ে প্রথম আলোর অতিরিক্ত বাড়াবাড়িও তাঁর জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মুসা ইব্রাহীম যখন এভারেস্ট জয় করতে যাচ্ছিলেন তখন ট্রান্সকমের (উল্লেখ্য, ট্রান্সকম, প্রথম আলো এবং ডেইলী স্টার এর মালিক এক ব্যক্তি) পক্ষ হতে পেপসির স্পন্সরে আরেকজনকে (মুহিত) এভারেস্ট জয় করার জন্য আলাদা ভাবে পাঠানোর আয়োজন করা হচ্ছিলো। বিএমটিসি’র এনাম আল হক’কে তখন আনিসুল হক (তিনি নর্থ আলপাইন ক্লাবের সভাপতি) অনুরোধ করেছিলেন যাতে মুসাকে মুহিত এর সাথে একসাথে পাঠানো হয়। সেসময় এভারেস্ট জয় করার মত টাকা মুসা ইব্রাহীমের ছিলো না অপর দিকে মুহিত এর জন্য ট্রান্সকম পেপসি থেকে স্পন্সর জোগাড় করে দেয়। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হচ্ছে মুসা ইব্রাহীমকে মুহিত এর সাথে পাঠাতে এনাম আল হক রাজী হননি বা এখানে আরো কিছু ফ্যাক্ট কাজ করতে পারে বলে বাবু ভাইয়ের ধারনা। যেমন, এনাম আল হক এর সাথে মুসা ইব্রাহীমের অতীত তিক্ততা বা ট্রান্সকম গ্রুপের অনাগ্রহ বা পেপসি এর অনুমোদন। এখানে উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে পেপসি ট্রান্সকম কতৃক মার্কেটিং হলেও এর মূল নিয়ন্ত্রকরা থাকেন ভারতে (দিল্লী)। এখন দিল্লী থেকেও বিষয়টি এপ্রুভ করার বিষয় জড়িত। তবে এটাও সত্য যে মুহিত এবং মুসা ইব্রাহীম পরস্পরের প্রতিযোগী হিসেবে এভারেস্ট জয়ে নেমেছিলেন এবং ট্রান্সকম গ্রুপ খুব করে চেয়েছিলো যাতে মুহিত জয়ী হতে পারে মতান্তরে প্রথম আলোর সবাই চেয়েছিলো মুসা আগে এভারেস্ট জয় করুক। (মন্তব্য- ২৩ দ্রস্টব্য)
এখানে আরো কিছু রাজনীতি আছে। যারা হালকা পাতলা ভাবেও এসব ক্লাবগুলোর সাথে জড়িত তারা সেসব রাজনীতির খবর রাখেন। আপাতত সে বিষয়ে বিস্তারিত না জানলেও এটা বোঝা যায় যে যে মুসা ইব্রাহীম বাঙালির চিরায়ত লবিং-গ্রুপি রাজনীতির শিকার। একই সাথে মুসা ইব্রাহীমেরও কিছু ভুল আছে… যেমন তিনি ফেসবুকে অচেনা অজানা বা অখ্যাত কোন ব্লগারের পাঠানো প্রশ্নের জবাবে উত্তেজিত হয়ে বা ভুল দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলেছেন (ফেসবুকের স্ক্রিন শর্টগুলোর বিষয়ে)। এ বিষয়ে বাবু ভাইয়ের মতামত হচ্ছে, চারিদিকে এত গ্রুপিং ও অতিরঞ্জিত তথ্যের আদান প্রদানে মুসা বিরক্ত হয়ে থাকতে পারে। এই বিষয়ে আমার ধারণা হচ্ছে মুসা ইব্রাহীমের ফেসবুক একাউন্ট থেকে তার প্রিয়জন বা এরকম কেউ লগইন করে হয়তো রাগ সামলাতে না পেরে ওধরনের উত্তর দিয়েছেন। অথবা মুসা ইব্রাহীম নিজেও ওটা করে থাকতে পারেন, যদিও এধরনের কথা বলা তাঁর জন্য শোভন ছিলো না।
এভরেস্টের চূড়ায় বৌদ্ধমূর্তির সাথে মুসা ইব্রাহীমের ছবির বিষয়ে বাবু ভাইয়ের অভিমত হচ্ছে, “হয়তোবা মুসার ক্যামেরা কাজ করছিলো না.. বা ব্যাটারী শেষ হয়ে গিয়েছিলো.. বা যাকে ছবি তুলতে দিয়েছিলেন সে ঠিকঠাক মত ছবি তুলতে সক্ষম হননি”। এভারেস্টের মত খুব উঁচুতে আরোহন করার পর অনেকেই স্বাভাবিক চিন্তা ভাবনা ও কাজ করতে সক্ষম হন না। Altitude sickness বলে একটা বিষয় আছে যাকে AMS(acute mountain sickness), altitude illness, hypobaropathy বা soroche বলেও চিহৃত করা হয়। এই বিষয়ে আগ্রহীরা আরো জানতে গুগলের সাহায্য নিতে পারেন। এসব সমস্যার কারণে মাউন্টেইনাররা স্বাভাবিক চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। অনেক সময় Hallucination এ ভুগতে থাকে। ঐ অবস্থায় বুদ্ধ মূর্তির সামনে বসে খুব পোজ দিয়ে ছবি তোলার গুরুত্ব বা বিষয়টা ঠিকঠাক মত হচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। আর এভারেস্টের মাথায় বুদ্ধ মূর্তির সামনে ছবি-ই এভারেস্ট সামিটের একমাত্র বা খুব গুরুত্বপূর্ন প্রমাণ নয়। এভারেস্ট জয়ী হিলারীও এভারেস্টের মাথায় নিজের কোন ছবি তুলে আনেননি বা আনতে ভুলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাই বলে কেউ তাঁর এভারেস্ট জয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেনি। আর মুসা ইব্রাহীম কোন ছবি প্রকাশ করেননি এই দাবীও ঠিক না বলে বাবু ভাই জানালেন। তবে অনলাইনে বিভিন্ন লোকের অনুরোধে বা ব্লগার/কমিউনিটি সদস্যদের দাবীর মুখে মুসা ইব্রাহীম কিছু উপস্থাপণ করছেন না কেন জানতে চাইলে বাবু ভাই বললেন, হয়তো কোন একটা সমস্যা থাকতে পারে। সেটা স্পন্সর বিষয়ক হতে পারে বা ভুল কারো পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় মুসা ইব্রাহীম পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে।
কেউ সত্যিকার অর্থেই জয় করে থাকলে অন্য আরো মাউন্টেইনারদের কাছে সেই বিবরণ বিশদ ভাবে তুলে ধরলে অভিযানের বিভিন্ন টেকনিক্যাল তথ্য (যেগুলো শুনে মাউন্টেইনাররা বুঝতে পারেন আসলেই সত্য বলছেন না বানানো গল্প) বিশ্লেষণ করে বাদবাকী মাউন্টেইনাররা নিশ্চিত হতে পারেন। তারপর তাদের বক্তব্যগুলো যথাযথ ভাবে প্রচার করার ব্যবস্থা করা হলে মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক হালে পানি পাবে না বলে বাবু ভাই মনে করেন। এই বিষয়ে মুসা ইব্রাহীম ও দেশের নামকরা মাউন্টেইনারদের যৌথ ভূমিকার গ্রহণ করা উচিত।
যাই হোক, আমরা চাই জাতীয় এই অর্জন নিয়ে যেন আর কোন বিতর্ক সৃষ্টি না হয়।
বিঃদ্রঃ মুসা ইব্রাহীম এর এভারেস্ট জয় নিয়ে বাবু ভাইয়ের একটা লেখা গত ৩০ মে, ২০১০ প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছিলো। নানা জনের নানা কথায় কান না দিয়ে মাউন্টেইনারদের বক্তব্যগুলো আমাদের দেখা উচিত। ব্যক্তিগত ব্যস্ততা কমলে আগমী ৩০ জুনের পর সাম্প্রতিক বিতর্ক ও মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয় বিষয়ক আরেকটি লেখা বাবু ভাই দেয়ার চেস্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।
পেছনের বেঞ্চে বসে থাকা এক ছাত্র সামনের বেঞ্চে বসে থাকা আরেক ছাত্রের নামে শিক্ষকের কাছে নালিশ দিচ্ছে,
স্যার, সজীব আমারে গুতা দিছে
সজীব সামনের বেঞ্চ থেকে তোকে গুতা দিলো কেমনে?, স্যার জানতে চাইলো
ফেসবুকে পোক দিছে স্যার, এই যে দ্যাখেন… বলেই মোবাইলে খুলে রাখা ফেসবুক উইন্ডো স্যারকে দেখিয়ে দিলো।
–
মৌলিক কৌতুক / ত্রিভুজ / ৯ জুন, ২০১০