বাংলা ব্লগ
Simple Living High Thinking

কয়েকদিন আগেই বলেছিলাম যে আরো নতুন নাটক দেখতে যাচ্ছি আমরা। সেই নাটকের দ্বিতীয় এপিসোড দেখলাম। আমার মতে পুরোপুরিই অযৌক্তিক ভাবে বলাকা ভাস্কর্যে হামলা চালানো হয়েছে। কেন করা হলো? কারা করলো? এই প্রশ্নগুলোর জবাব দেয়ার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে সময়। সামনে নির্বাচন। আওয়ামীলিগের তরফ থেকে নেত্রীর ছেলে ‘জয়’ ঘোষনা করেছেন বাংলাদেশে ইসলামিজমের এখন জয়জয়কার চলছে। এই এলাকায় বোরখা বিক্রি বেড়ে যাওয়া নাকি সেটার প্রমাণ। এই দেশে বোরখা বা হিজাব করা যাবে না.. আমেরিকান সেনা কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে আওয়ামীলিগ এসে এইসব হিজাবওয়ালাদের দেখে নিবে ঘোষনা করে দিয়েছে। তুরষ্কের মত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে হবে আমাদের যেখানে হিজাব নিষিদ্ধ হবে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে বাংলাদেশী হিজাবওয়ালাদের আবার আমেরিকানরা ‘মডারেট’ মুসলিম মনে করে। তাদের কাছে এদেরকে সন্ত্রাসী প্রমাণ করতে গত বেশ কিছু বছর ধরেই আওয়ামীলিগের নেত্রী ও বুদ্ধিজীবি ও উচ্ছিষ্ট ভোগীরা প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনেক লবিং টবিং করে বাংলাদেশকে একবার ব্লাক লিষ্টে ফেলতেও সক্ষম হয়েছিলেন প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। দু:খজনক ভাবে হিলারী ক্লিনটনের লবিং এ সেই লিষ্ট থেকে মুক্ত হয়েছিলাম আমরা। তারপর তো কতকিছু… তাও ফলাফল প্রায় শূণ্য… এভাবে তো চলবে না! কিছু একটা করতে হবে!!

নাটকের প্রথম দৃশ্যে দেখা গেল একদল লোক কল্পিত বাউলের মূর্তি ভাঙছে। দোষ চাপানো হলো সেনাবাহিনীর উপর। কিছুদিনের ভেতরেই ঘোষনা দেয়া হলো সেনাবাহিনী মৌলবাদীদের আস্তানা হয়ে গিয়েছে। আমেরিকান সেনাকে সাথে নিয়ে আমাদের ভবিষ্যত আওয়ামী নেতা জয় বাংলাদেশী সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করলেন। সেনাবাহিনীকে আক্রমন করার অযুহাত পাওয়া গেল… এবার?

নাটকের দ্বিতীয় দৃশ্যে ‘আল বাইয়িন্যাত’ নামের একটা দল গিয়ে হামলা করলো বলাকা ভাষ্কর্যে। সাথে সাথে ব্লগ, নিউজপেপার সব জায়গায় ঐ তথাকথিত ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। নিউজ, ব্লগপোস্ট ইসলাম বিদ্বেষীদের মন্তব্য দেখে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে তারা এই ঘটনায় যারপর নাই আনন্দিত!

এখন ঘটনা হলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা ঐ বকের ভাস্কর্য (লক্ষ করে দেখুন এবার কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষী শিবির ওটাকে ভাষ্কর্য বলছে না, মূর্তি বলছে) ভেঙ্গে কি ইসলাম কায়েম হলো? এবং লক্ষনীয় বিষয় হলো কারা সেই স্লোগানগুলো দিয়েছে? তাদের অতীত ইতিহাস কী?

তাদের পরিচয় দেয়ার আগে একটু নিকট ও দূর অতীত ঘেঁটে দেখি। প্রথমে নিকট অতীতে যাই…. সামহোয়্যারইন ব্লগে আমি মূলত ইসলাম বিদ্বেষীদের ইসলাম নিয়ে বানোয়াট প্রচারনা ও ফালতু অপপ্রচারের জবাব দিতে জয়েন করেছিলাম। সেই গোষ্ঠী পৃথিবীর সব কিছু মেনে নিলেও ইসলামকে মেনে নিতে নারাজ। কিন্তু কিছুদিনের ভেতরেই অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম যে এরা ইসলামী সব গোষ্ঠীকে ঘৃনা করলেও কাদিয়ানীদের ঘৃনা করে না। বরং কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে আমি এবং আশরাফ রহমান পোস্ট করায় এরা আমাদের পাল্টা আক্রমন করে কাদিয়ানীদের পক্ষে কথা বলা শুরু করলো। এই বিষয়টা পত্রিকায়ও দেখেছি.. এদের সমমনারা কাদিয়ানীদের স্বার্থ রক্ষ্যায় সবসময় তৎপর! দূর অতীতের দিকে তাকালেও প্রচুর নজীর পাওয়া যায়। পুরো বিশ্বে যারা ইসলামকে সমূলে নির্মূল করতে এক পায়ে খাঁড়া তারাই আবার কাদিয়ানীদের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে গলার রগ ফুলিয়ে ফেলে!

যাই হোক, ফিরে আসি ভাষ্কর্য ভাঙ্গার বিষয়ে। ভাষ্কর্য ভাঙার এবারের নাটকটা খুব বেশী কাঁচা হয়ে গিয়েছে। আমাদের এই ইসলাম বিদ্বেষী ও কাদিয়ানীদের বন্ধু শিবির সম্ভবত ভুল করেই ‘আল বাইয়িন্যাত’-কে সিলেক্ট করে ফেলেছে। আচ্ছা এবার বলেন দেখি ‘আল বাইয়িন্যাত’ কারা? তাদেরকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবে আমার সাথে কে কে একমত? হাত তুলেন….

‘আল বাইয়িন্যাত’ নামের এই গ্রুপটাকে সমূলে নির্মূল করা হোক। বাংলাদেশে এদের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হোক।


একই সাথে সামহোয়্যারইন ব্লগ, প্রথম আলো ব্লগ , আইডি ফোরামইসলাম গ্রুপে প্রকাশিত।

আগের লেখাটা দেয়ার পর আওয়ামীলিগের ‘A Secular Plan’ এর পক্ষে প্রচুর বক্তব্য পাওয়া গিয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে তারা কিন্তু মাদ্রাসার ছাত্র নন (বা প্রায় সবাই সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত) এবং মাদ্রাসা সিস্টেমের ঘোর বিরোধী। মূল আলোচনা শুরু করার আগে তাদের মন্তব্যগুলোর বিষয়ে কিছু বলে নিতে হচ্ছে তাই-

প্রথমেই এটা সবার বুঝা উচিত যে ‘A Secular Plan’ নামে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রচারনাটা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। দ্বিতীয়ত এতে মার্কিনিদের একটা সুস্পষ্ট আগ্রাসনের পথ খুলে দেয়া হচ্ছে।

একজন বাংলাদেশী নাগরিক হয়েও দেশের বিরুদ্ধে এধরনের আত্মঘাতী প্রচারণার পক্ষে যেতে তাদের একটুও বাঁধেনি। দেখা যাচ্ছে তথাকথিত আধুনিক শিক্ষা তাদের ভেতরে দেশপ্রেম ও দেশাত্ববোধ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ! এদেরকেই আবার মাঝে মাঝে দেখা যায় বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে প্রমাণ করতে কালঘাম ছুটিয়ে ফেলেন। তাদের নেতৃরা দেশের বাইরে গিয়ে দেশের দূর্নাম করতে সিদ্ধহস্ত। অথচ অন্যদিকে মাদ্রাসার শিক্ষক বা ছাত্রদের কোনদিন দেখা যায়নি বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিতে। এমনকি দেশের বাইরে গিয়ে দেশের নামে দূর্নাম রটানোতেও তাদের কোন ভূমিকা কোন কালেই ছিলো না।

তো যাই হোক, কথা হচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে। তথাকথিত প্রগতিশীলরা ও তাদের বিদেশী সাহায্যপুষ্ট মিডিয়া দ্বারা সৃষ্ট প্রচলিত ধারনা হচ্ছে মাদ্রাসায় সব অকাট মূর্খ আর বোধশক্তিহীন জড়পদার্থ তৈরি হয়। কিন্তু দেখা গেল মিডিয়ার এই প্রপাগান্ডাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই ‘বোধশক্তিহীন জড়পদার্থ’রা ঢাকা ভার্সিটির মত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠিন ভর্তিপরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করে ফেলছে। তাদের কেউ কেউ নাকি আবার ঢাকা ভার্সিটির “গ” এবং “খ” বিভাগে প্রথম দ্বিতীয়ও হয়ে গিয়েছে। প্রপাগান্ডায় অশ্ব ডিম্ব প্রসবে ব্যার্থ হওয়ায় অত:পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন করে এদের রুখাতে হয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় তার আমেরিকান সেনা বন্ধুকে সাথে নিয়ে এখন আবার সেনাবাহিনীতেও এদের নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছেন। তারা এই বিষয়ে এতই মদদপুষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী যে নির্বাচন হওয়ার এক মাস আগেই এই বিষয়ক খোলাখুলি ঘোষণাও দিয়ে ফেলেছেন।

তো আওয়ামীলিগের নেতৃত্বে ‘A Secular Plan’ এর অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে মাদ্রাসা ছাত্রদের নিষিদ্ধ করার কার্যক্রমটা কতদূর পর্যন্ত বাস্তবায়ন হতে পারে তার একটা হিসেব করে ফেলি-
১) মাদ্রাসা ছাত্রদের সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোন মাদ্রাসা ছাত্র সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পায় তার ব্যবস্থা নেয়া হবে
২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সকল পাবলিক বিশ্বিবিদ্যারয়ে মাদ্রাসা ছাত্রদের নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হবে। উল্লেখ্য ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদ্রাসার ছাত্রদের নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েও গিয়েছে।
৩) সকল সরকারী অফিস-আদালত মাদ্রাসা ছাত্রদের জন্য নিষিদ্ধ হবে। যারা ইতিমধ্যে মাদ্রাসা থেকে পাশ করে নিজ যোগ্যতাবলে ওখানে প্রবেশ করেছেন তাদেরকে কোন না কোনভাবে বহি:স্কার করা হবে।
৪) মাদ্রাসা ও এর সাথে জড়িতদের জন্য সরকারী সকল সুবিধা বাতিল করা হবে। এমনিক মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করলেও আশ্চর্য হওয়ার মত কিছু থাকবে না।

সর্বপরি মাদ্রাসা এবং মাদ্রাসার ছাত্রদের এদেশের যাবতীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত করার মহা-পরিকল্পনা নিয়ে আওয়ামীলিগ ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।

কথা হচ্ছে কেন তাদেরকে এভাবে বঞ্চিত করা হবে? প্রাথমিক ভাবে বলা হচ্ছে মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা দুর্বল এবং এর মান উন্নয়ন করতে হবে। বেশীর ভাগ মাদ্রাসাগুলের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে আমার মনেও প্রশ্ন আছে। কিন্তু এটা তো আমাদের জাতীয় বাস্তবতা। আমাদের মত দরিদ্র একটি দেশে এই বাস্তবতা কাটিয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন। মজার বিষয় হচ্ছে আমাদের সাধারণ শিক্ষার জন্য দেশজুড়ে যে হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে সেগুলোর শিক্ষার মান ও পরিবেশও আশংকাজনক খারাপ। কিন্তু সেগুলো বন্ধ করে দেয়ার কথা আজ পর্যন্ত কেউ উচ্চরণও করেনি। শুধু মাদ্রাসা’ই তাদের আক্রমনের লক্ষ্যবস্তু! কেন?

আরো যুক্তি দেখানো হয় মাদ্রাসা থেকে টেরোরিস্ট তৈরি হচ্ছে.. তাই মাদ্রাসা শিক্ষা ক্ষতিকর। আমি দাবী করছি না যে মাদ্রাসার কেউ কেউ সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে না। কিন্তু এর জন্য তার মাদ্রাসা শিক্ষাকে দায়ী করাটা কতটুকু সাজে? বিশ্বের বেশীর ভাগ সন্ত্রাসী-ই কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত নয়। The New York Times এর The Madrassa Myth শিরোনামের লেখাটায় PETER BERGEN and SWATI PANDEY পরিষ্কার ভাবেই বলেছেন যে সাধারন স্কুল-কলেজ শিক্ষিতদের ভেতরেই সন্ত্রাসী বেশী। যারা দুই-একটি ঘটনা উল্লেখ করে গোটা মাদ্রাসা সিস্টেমটাকেই সন্ত্রাসী বানানোর কারখানা হিসেবে ঘোষনা করছেন তারা কেন সাধারণ স্কুল-কলেজকে সন্ত্রাসী তৈরির কারখানা হিসেবে ঘোষনা করছেন না কেন সেটাই প্রশ্ন। যে অযুহাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পক্ষে ঠিক একই কারণে কেন তারা সাধারণ স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রদের থেকে সকল নাগরিক সুবিধা কেড়ে নিতে চাচ্ছেন না?

এরকম অনেক প্রশ্নই তোলা সম্ভব। সবগুলো বিবেচনা করলে শিক্ষার মান, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি কিন্তু ধোপে টেকে না। তাহলে মাদ্রাসার বিষয়ে তাদের ক্ষোভটা আসলে কোথায়?

এরজন্য আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষা চালুর ইতিহাসটা জানতে হবে। ইসলামের উপর ব্রিটিশ ও হিন্দুদের যৌথ আক্রমন থেকে মুসলিম প্রজন্মকে রক্ষার জন্যই মূলত মাদ্রাসা শিক্ষা চালু করা হয়েছিলো। সেই ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ব্রিটিশ ও হিন্দুদের অনুগতরা এখনো মুসলমান ও ইসলামকে খেয়ে ফেলার প্রচেষ্টায় রত। এখন তারা এতটাই শক্তিশালী যে প্রকাশ্যে ইসলামকে শত্রু হিসেবে ঘোষনা করার দু:সাহস দেখাচ্ছে। বলা হচ্ছে, ইসলামই (Islamism) হচ্ছে বাংলাদেশের সংবিধান ও তার সেকুলার উপাদানের প্রধান বিপদ।

আর তাই মার্কিন সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোষনা দেয়া হয়- “বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক কর্তব্য বা তাঁর ভাষায় ‘A Secular Plan’ হচ্ছে ইসলামি রাজনীতির বা তাঁর ভাষায় ‘ইসলামিজম’ ঠেকাতে বাংলাদেশে পরিপূর্ণ যুদ্ধে নেমে পড়া।”

…(চলবে)..

ফরহাদ মজহারের ‘নির্বাচন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সমরনীতি’ শিরোনামে প্রকাশিত লেখাটি পড়লাম। সত্যি কথা বলতে কি একজন বাংলাদেশী মুসলিম হিসেবে আতংকিত হয়েছি। আমাদের রাজনৈতিকরা আমাদের দেশের জন্য খারাপ এটা আমরা সবাই জানি। আবার এদের ভেতরে ‘আওয়ামীলিগ’ নামের দলটি ইসলামের জন্য ক্ষতিকর এটাও জানি। কিন্তু কতটুকু ক্ষতিকর হতে পারে সেটা বুঝতে হলে ইসলাম সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন হতে হয়। সাধারন গরু খাওয়া মুসলিমরা এর গুরুত্ব বুঝতে বরাবরের মত্ই অক্ষম হবে বলে আমি মনে করি। এবং নিজেকে আমি একজন গরু খাওয়া মুসলিম মনে করি না। এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলিগের ‘A Secular Plan’ জানতে পেরে তাই বাংলাদেশের ইসলাম ও প্রাকটিসিং মুসলিমদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত!!


যারা লেখাটি এখনো পড়েননি তাদের জন্য ইউনিকোডে পড়ার উপযোগী করে ব্যাক্তিগত ব্লগে রেখেছি। পড়ে দেখতে পারেন।

লিংক: http://trivuz.com/blog/?p=175

যাই হোক, শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামীলিগের ‘A Secular Plan’ সম্পর্কে সবটুকু প্রকাশ করেননি। তবে যতটুকু প্রকাশ করেছেন তাতে অনেকগুলো প্রশ্ন ও সন্দেহ জেগেছে মনে। প্রথম পর্বে তেমনি একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি-

মাদ্রাসা ছাত্র ও সেনাবাহিনী
সজীব ওয়াজেদ জয় ও কার্ল জে সিওভাক্কো (Carl J. Ciovacco) কতৃক প্রকাশিত নিবন্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে ইসলামি ভূত তাড়াবেন একটি পরিকল্পনা হাজির করেছেন। তারা দাবী করেছেন সেনাবাহিনী ভর্তি হয়ে যাচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্রে। যদিও এর সাপক্ষে তারা শক্তিশালী কোন উৎস বা রেফারেন্স দিতে পারেননি। তবে ফরহাদ মজহারের সাথে আমিও এই বিষয়ে একমত যে ‘মাদ্রাসার ছাত্ররা যদি সেনাবাহিনীর নির্ধারিত পরীক্ষায় পাশ করে তাহলে আপত্তিটা কীসের? মাদ্রাসার ছাত্র বলেই কি আপত্তি?’

কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি লবি মাদ্রাসা ছাত্রদের ওখানে ভর্তির সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও আমি সেবার মাদ্রাসা ছাত্রদের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়টিকে ভিন্নদৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করেছি.. উম্মু আবদুল্লাহ ব্লগে এই বিষয়ক আমার আগের মন্তব্যগুলো পাওয়া যাবে। সেবার আমার বিরক্তিটা আমাদের ইসলামী শক্তিগুলোর উপরে ছিলো। কিন্তু একথাও ঠিক যে মাদ্রাসার ছাত্র যদি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির কঠিন পরিক্ষায় পাশ করতে পারে তাহলে তাদের সেখানে ঢুকতে দেয়া হবে না কেন? এমন তো না যে মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য আলাদা কোন কোটা বা ভর্তি সিস্টেম আছে! আসলে মূল বিষয়টা হচ্ছে মাদ্রাসায় ইসলাম শিক্ষা দেয়া হয়, আর ইসলামকে যেমন ভাবেই হোক এই বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করতে হবে। ‘A Secular Plan’ এর প্রাথমিক প্রস্তুতির একটা অংশ হিসেবে এটাকে দেখা যায়.. কারণ ইসলাম বিদ্বেষী সেক্যুলাররা এই ঘোষণায় আনন্দিত!

আবার সেনা বাহিনীর প্রসঙ্গে ফিরে আসি। হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ইরাক ও সৌদি আরবে মার্কিন সেনাদায়িত্ব পালন করা মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কার্ল জে সিওভাক্কো (Carl J. Ciovacco) মিলে আবিষ্কার করেছেন সেনাবাহিনী মাদ্রাসার ছাত্রদের দ্বারা ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। তাদের এই আবিষ্কারের স্বপক্ষে কোন রেফারেন্স নেই। থাকার কারণও নেই.. কারণ একজন সিভিল হিসেবে সেনাবাহিনীর তথ্য তাঁর জানার কথা নয়। কিন্তু এখানে একটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে যে সজীব ওয়াজেদ জয় সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁর লেখায় পরিষ্কার যে তিনি সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদকে পছন্দই করেছেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে আমরা যত কথাই বলি না কেন মাদ্রাসা শিক্ষা এদেশের দরিদ্রশ্রেণীর শিক্ষার অভাব মেটাতে একটা বিশাল ভূমিকা রাখছে। সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়া মানুষের তালিকায় আমাদের দেশের দরিদ্র ও নিন্ম আয়ের শ্রেণীর মানুষজনের সংখ্যাই বেশী। সুতরাং সেনাবাহিনীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ মাদ্রাসা থেকে গিয়ে থাকতেও পারে। মাদ্রাসা থেকে গিয়ে কেউ সেনাবাহিনীর নির্ধারিত পরিক্ষায় পাশ করলে তাদের নিতে আপত্তিটা কোথায়? লজিক্যালি কোন আপত্তি থাকার কথা নয়.. তাহলে বুঝা যাচ্ছে আপত্তি সৃষ্টি করতে হবে.. আপত্তি সৃষ্টি করার পদ্ধতিটা কেমন হতে পারে?

কিছুদিন আগে আমাদের এখানে লালনের কাল্পনিক মূর্তি ভাঙা নিয়ে সেনাবাহিনীর দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। প্রচারণাটা এমন ভাবে করা হয়েছে যে সেনাবাহিনী তথাকথিত মুসলিম মৌলবাদীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। অথচ ঐ মূর্তি সরানোর জন্য কোন ইসলামী শক্তি চাপপ্রয়োগ করেনি। এমনকি অনেকে দাবী করেছেন হাজীদেরও এটা নিয়ে কোন দাবী ছিলো না। যদিও মূর্তি সরানোর বিষয়টা বিতর্কে রুপ পাওয়ার পর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রাসঙ্গিক ভাবেই মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক বিতর্কটা কেন এবং কিভাবে সৃষ্টি হলো? অত:পর কারা লাভবান হলো সেনাবাহিনীকে তথাকথিত মৌলবাদী প্রমাণ করে? সবগুলো বিষয় নিয়ে নতুন করে আমাদের ভাবতে হবে….

একই সাথে এই দেশ তথাকথিত মৌলবাদীদের আস্তানা হিসেবে প্রামাণের আওয়ামী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আমরা আরো কতরকম সাজানো ঘটনা দেখতে পাবো তা নিয়েও ভাবা যেতে পারে…

…(চলবে)…

নির্বাচন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সমরনীতি
- ফরহাদ মজহার

সম্প্রতি Harvard International Review নামক একটি পত্রিকায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও কার্ল জে সিওভাক্কো (Carl J. Ciovacco) মিলে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। ছাপা হয়েছে ১৯ নভেম্বর ২০০৮ তারিখে। (দেখুন,  http://www.harvardir.org/articles/1784  or Click Here)।

যে সময়ে লেখাটি ছাপা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচনের সময়, বিচার করলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এখন যে নির্বাচনী রাজনীতি চলছে তাকে কিভাবে সাজানো হয়েছে বা হচ্ছে সেটা বোঝার জন্য এই লেখাটি পড়া ও বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া আমি সজীব ওয়াজেদ জয়কেও বুঝতে চাই। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি যখন দেশে ফিরছিলেন তখন তাঁর বিরুদ্ধে নানান প্রচারণা চলেছিল। আমি তা নিন্দা করেছি। বিশেষত শেখ হাসিনা নিজের ‘ডাইনেস্টি’ প্রতিষ্ঠা করতে চান এই অপবাদ দিয়ে রাজনীতিতে জয়ের সম্ভাব্য ভূমিকাকে নষ্ট করবার একটা তৎপরতা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেই তৎপর ছিল। ‘মানবজমিন’ পত্রিকায় ছাপা আমার বক্তব্য ছিল সোজা। জয় যদি বাংলাদেশের নাগরিক হিশাবে কোন অবদান রাখতে চান, এটা তাঁর অধিকার। (আশা করি তিনি এখনও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন, মার্কিন নাগরিক হননি)। তিনি শেখ হাসিনার পুত্র কিংবা শেখ মুজিবুর রহমানের নাতি­ এটা তার দোষ বা অপরাধ নয়। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁর একটা গ্রহণযোগ্যতা আগেই তৈরি হয়ে থাকা স্বাভাবিক। সেটাও তাঁর দোষ নয়। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ বৃদ্ধ ও প্রৌঢ়দের ভারে স্খবির। সেখানে তরুণরা সচলতা আনতে পারেন। একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়ে জয় বিদেশে দীর্ঘদিন থেকে কী শিখলেন, কী জানলেন সেটা জানার আগ্রহ অনেকেরই আছে। আমিও ব্যতিক্রম নই। লেখাটি পড়ে আমি বুঝেছি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যে নীতি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করছে, আওয়ামী লীগকে দিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় সেই নীতিই বাস্তবায়ন করার কথা বলছেন। তাঁর রাজনীতি সম্পর্কে আমার ধারণা আরো স্পষ্ট হয়েছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক কর্তব্য বা তাঁর ভাষায় ‘A Secular Plan’ হচ্ছে ইসলামি রাজনীতির বা তাঁর ভাষায় ‘ইসলামিজম’ ঠেকাতে বাংলাদেশে পরিপূর্ণ যুদ্ধে নেমে পড়া। কারণ যাকে নিয়ে বা যেখানে তিনি লেখাটি ছেপেছেন তাতে পরিষ্কার মার্কিন সন্ত্রাস ও যুদ্ধের অধীনে শুধু নয়, এমনকি সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় তিনি তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করবার কথা ভাবছেন। (কিংবা তাঁকে দিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এই কাজটিই করিয়ে নিতে চাইছে)। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী ম্যানিফেস্টো হিশাবে আমরা এই লেখাটি পাঠ করতে পারি। জয়কে ধন্যবাদ দিতে হয় কারণ আগামী দিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কী হতে যাচ্ছে তার আগাম নমুনা তিনি আমাদের জানিয়েছেন। (more…)


অনলাইন ক্লাশরুম বা বন্ধুর ডেস্কটপ শেয়ার করুন, Team Viewer দি

অনলাইনে বসে কোন বন্ধুর পিসির ডেক্সটপ দেখতে পেলে এবং সেখানে কাজ করতে পারলে কেমন লাগবে? ঠিক এধরনের কাজের জন্যই চমৎকার একটি টুল হলো Team Viewer। ধরুন আপনি বাংলাদেশে বসে একটি পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড তৈরি করেছেন। আমেরিকার এক বন্ধুকে তা সরাসরি দেখাতে চান। টিম ভিউয়ার খুলে বন্ধুর আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে Presentation মুডে কানেক্ট করে দেখিয়ে দিতে পারেন। আবার হয়তো কোন বন্ধুর পিসিতে একটা সমস্যা হয়েছে। সে পরিষ্কার ভাবে আপনাকে সেটা বুঝিয়ে বলতেও পারছে না। জেনে নিন তার আইডডি এবং পাসওয়ার্ড। তারপর কানেক্ট করে আপনার পিসিতে বসেই বন্ধুর পিসিটি চেক করে সমস্যাটা ঠিক করে দিতে পারেন। আবার ধরুন আপনি কারো সাথে VPN করতে চান। আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে Team Viewer এর VPN মুডে কানেক্ট করুন। খুবই সহজ…! এমনি ভাবে File Transfer মুডে কানেক্ট করে সরাসরি কারো পিসির হার্ডডিস্ক থেকে ব্রাউজ করে পিসি টু পিসি (বা পিয়ার টু পিয়ার) ফাইল ট্রান্সফার করতে পারেন। আরো বিস্তারিত জানতে Team Viewer এর অফিসিয়াল সাইটে ঢু মারুন।

বিস্তারিত জানার লিংক: http://www.teamviewer.com/products/benefits.aspx
ডাউনলোড লিংক: http://www.teamviewer.com/download/index.aspx

যারা রিমোট ডেক্সটপ টুলগুলোর সাথে পরিচিত তারাও ট্রাই করতে পারেন। Team Viewer আমার দেখা সেরা রিমোট ডেক্সটপ শেয়ারিং টুল। সবচেয়ে বড় বিষয় এটি ফ্রি…
(more…)

আজ আমি,
দীর্ঘ ক্লান্ত রোগা ছায়াটাকে বয়ে বেড়াই
সূর্যাস্তের অপেক্ষায়!

প্রভাতের দীর্ঘ ছায়াটার পরম যত্নের অভাব ছিল না
দীর্ঘ ছায়া শুধু প্রভাতেই হয় না,
যখন ছায়ার সাথে আমার সহবাস,
তখনও বুঝতে পারিনি

দীর্ঘ জীর্ণ ছায়া নিয়ে আমার পানে তাকিয়ে ছিলো,
একটুখানি তপ্ত তেজী ছায়ার আশায়
বুঝতেই পারিনি,
আমাকেও আজ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে
নিভু নিভু আলোয় অস্পষ্ট একটা জীর্ণ ছায়া, নি:সঙ্গ!

ভিনেগারে ভিজিয়ে রাখা
এক টুকরো তপ্ত কোমল-
ছায়ার মত কিছু একটা
প‌্যারেন্টস ডে তে বাজার হতে কিনে দেয়া,
একটুকরো কৃত্রিম ছায়া!


ত্রিভুজ
০৫ নভেম্বর, ২০০৮

প্রথম আলো ব্লগে প্রকাশিত।

জেড নেট থেকে নেওয়া, ইংরেজি সাক্ষাৎকারের সংক্ষেপিত অনুবাদ
অরুন্ধতি রায়: (বুকার পুরস্কারজয়ী ভারতীয় কথাসাহিত্যিক ও প্রতিবাদী বুদ্ধিজীবী।)

গত কয়েক বছরে আমেরিকার থেকে ভারত অনেক এগিয়েছে। অবুঝ মার্কিনভক্তদের মধ্যেও ‘আমেরিকা গণতন্ত্রের বাতিঘর’ এই গল্প আর চলে না। অন্যদিকে গত এক দশকে ভারত দারুণভাবে জনমতের মধ্যে ক্যু ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে যে, ‘ভারত আফগানিস্তান নয়’, ‘ভারত পাকিস্তান নয়’, ‘ভারত হলো এক ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র’৷ অথচ বিশেষ সরকারী হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যায় ভারত এক নম্বরে। এটা এমন এক দেশ যার ২৫ ভাগ এলাকায় সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন নেই। কাশ্মীরই হোক আর উত্তর-পূর্ব প্রদেশগুলোই হোক ছত্তিশগড় বা অন্ধ্র প্রদেশের কিছু এলাকা, এসবের খবর বাইরে আসে না। ভারত বিশাল ও বৈচিত্রময় এলাকা। হয়তো ছত্তিশগড়ে হত্যাকান্ড চলছে, ওদিকে তামিলনাডুতে জমেছে উৎসব অথবা ভারত-অষ্ট্রেলিয়া ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আদেলেইদে। আলো পড়চে সেখানেই, যেখানে সেনসেক্সে স্টক মার্কেট চাঙা বা যেখানে বিনিয়োগ আসছে। আর অন্ধকারে রাখা এলাকাগুলোয় হত্যাকান্ড চলছে, কৃষকরা আত্মহত্যা করছে- এধরনের কৃষকের সংখ্যা এখন এক লাখ ৩৬ হাজার ছাপিয়ে গেছে। ধরুন, কাশ্মীরের কথা। সেখানে এখন ৬৮ থেকে ৮০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। সেখানে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সশস্ত্র বাহিনীর সেপাইরাও কেবল সন্দেহবশত গুলি করার বৈধতা পেয়েছে।
কাশ্মীরে ইরাকের মত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধপরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইরাকে আমেরিকার রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার সেনা। আর কাশ্মীরে ভারতের রয়েছে ৭ লাখ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাকর্মী: সেনা, পুলিশ ও মিলিশিয়া। ভারত সরকার সেখানে মূলত যা করছে তা হলো কাশ্মীরের জনগণের ইচ্ছাকে দমন করা। কেন তারা গণভোটে এত ভীত? কেন বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র জানতেও ভয় পায় জনগণ কী চায়?
(more…)

বছর দু’য়েক আগে বিজয়ের বাংলা যুক্তবর্ণের তালিকা তৈরি করেছিলাম বিজয়-এর হেল্প ম্যানুয়াল দেখে। ঈদের ছুটিটা ভাবলাম ত্রিভুজ প্যাডের একটি নতুন ভার্সনের বের করার কাজে লাগাই। লক্ষ্য, যারা কম্পিউটারে বাংলায় লেখালেখিতে একদমই নতুন, তাদের জন্য এমন কিছু করা যাতে বাংলা টাইপ করতে এসে সমস্যা না হয়। পুরানো পোস্ট ঘাঁটতে গিয়ে দেখি দুই বছর আগে করা যুক্তবর্ণের তালিকা সম্বলিত পোস্টের কনটেন্ট গায়েব। সম্ভবত ব্লগ ভার্সন আপগ্রেড করার সময় পোস্টটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এবার গুগলে সার্চ দিয়ে wiktionary.org থেকে পেয়ে গেলাম… হাতের কাছে রাখার জন্য এখানে পোস্ট করে দিলাম। অন্যদেরও হয়তো কাজে আসবে।

নিচের যুক্তবর্ণের তালিকাটি বাংলা সঠিকভাবে লিখতে সহায়ক হতে পারে। এখানে বাংলায় ব্যবহৃত ২৮৫টি যুক্তবর্ণ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কোন যুক্তবর্ণ সম্ভবত বাংলায় প্রচলিত নয়।

1. ক্ক = ক + ক; যেমন- আক্কেল, টেক্কা
2. ক্ট = ক + ট; যেমন- ডক্টর (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
3. ক্ট্র = ক + ট + র; যেমন- অক্ট্রয়
4. ক্ত = ক + ত; যেমন- রক্ত
5. ক্ত্র = ক + ত + র; যেমন- বক্ত্র
6. ক্ব = ক + ব; যেমন- পক্ব, ক্বণ
7. ক্ম = ক + ম; যেমন- রুক্মিণী
8. ক্য = ক + য; যেমন- বাক্য
9. ক্র = ক + র; যেমন- চক্র (more…)

কিছু মজার সমস্যা…

ক) একজনের সাথে চ্যাট করতে গিয়ে এই মজার সমস্যাটা হঠাৎ মাথায় আসলো….

১ম ব্যক্তি: আপনাকে এখন থেকে যা করতে বলবো সবকিছুতেই “না” করবেন।
২য় ব্যক্তি: না *
১ম ব্যাক্তি: তারমানে আপনি “হ্যাঁ” বলতে চান?
২য় ব্যক্তি: হ্যাঁ
১ম ব্যাক্তি: তাহলে যে একটু আগে “না” বললেন।
সমস্যা: ২য় ব্যাক্তি সবকিছুতেই “হ্যাঁ” বলতে চাইলে জবাবটা কিরকম হওয়া উচিত?
(more…)

সেদিন তাড়াহুরা করে সার্ভার রুম থেকে ফিরছিলাম। রুমে ফিরে দেখি ব্লু-টুথ কার্ডটা ব্যাগে নেই। যদিও নেটে কানেক্ট করে বেশীর ভাগ সময়ই নেট ব্যবহার না করে প্রয়োজনীয় কাজগুলো করে থাকি, কিন্তু নেট না থাকলে কেমন যেন অসহায় লাগে। অনেকটা মোবাইল ভুলে ফেলে আসলে যেমনটা লাগে…। এই অবস্থায় কোন কাজও করা হয় না.. অনেক সময় নেট ডাউন থাকলে বসে বসে গেম খেলি বা বই পড়ি.. অথবা লেখালেখি করি। তো সেদিন কি করা যায় ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মনে হলো আগের রাতে হুমায়ূন আহমেদের ‘মধ্যাহৃ ‘ ডাউনলোড করেছিলাম। বসে গেলাম পড়তে….

‘মধ্যাহ্ন’ আমার দেখা হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম একটি বই সন্দেহ নেই। বেশ কিছুদিন পর সম্ভবত হুমায়ূন আহমেদ তাঁর অসাধারণ লেখনির পরিচয় দিলেন… দুই খন্ডের বই। ব্যাস্ততার কারণে পুরোটা এখনো শেষ করা হয়নি। ১৯০৫ সালের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস। হুমায়ূন আহমেদ তাঁর চমৎকার লেখনীতে বিভিন্ন উল্লেখ যোগ্য ঘটনা তুলে ধরছেন… কিশোর নজরুলের হোটেলে রুটি বানাতে বানাতে গান লেখা থেকে শুরু করে বঙ্গভঙ্গে হিন্দুদের ভূমিকা পর্যন্ত অনেক ঘটনা তুলে ধরেছেন। ভাল লাগলো যে আমাদের এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে হিন্দুদের বিরোধীতার ঘটনাকে অনেক গোঁয়ার গবিন্দের মত চোখ কান বন্ধ করে অস্বীকার করেননি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধীদের আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা কোন এক বিচিত্র কারণে এড়িয়ে গিয়েছেন। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে যে রাখি বন্ধনের প্রচলন করা হয়েছিলো সেটার বিষয়েও দেয়া তথ্যটা নিয়ে একটু সন্দেহ আছে.. (রাখি বিষয়ক তথ্যটার বিষয়ে অবশ্য আমি নিজেও নিশ্চিত নই.. তাই এটা নিয়ে আপাতত আর কিছু বলা গেল না)।

ভাল লেগেছে তৎকালীন মুসলিম সমাজের উপরে হিন্দু সমাজের নির্মম অত্যাচারের কিছু কিছু চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন দেখে। হিন্দুরা মুসলমানদের খুব নিকৃষ্ট মনে করতো তখনকার সময়ে। মুসলমানরা তাদের দৃষ্টিতে ছিলো ‘অস্পৃশ্য’। আমার মা’য়ের মুখে এধরনের বেশ কিছু গল্প শুনেছিলাম। যেমন কোন ঘাট হতে হিন্দুরা কলসি ভরে পানি নিয়ে যাচ্ছে.. কোন মুসলমান যদি ভুলেও ঐ পানির কোথাও স্পর্শ করতো তাহলে তারা সব পানি ফেলে দিয়ে নতুন করে পানি ভরে নিতো। বই থেকে একটা লাইন কোট করি-
“তিনি এক মুসলমান কাঠমিস্ত্রির ছেলে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন- এ দৃশ্য হাস্যকর। যবনপুত্র অস্পৃশ্য হওয়ার কথা। ব্রাক্ষণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র। শূদ্রের নিচে যবনের অবস্থান। “ (more…)