বাংলা ব্লগ
Simple Living High Thinking

মানুষ স্বভাবগত ভাবেই রহস্য প্রিয়। রহস্য প্রিয় মানুষেরা রহস্যের খোঁজে বের হয়ে যুগে যুগে পৃথিবীর জন্য অনেক কিছু করেছেন, তাই রহস্যপ্রিয়তাকে মানুষের স্বভাবগত দূর্বলতা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। কিন্তু এই রহস্যপ্রিয়তাকে পুঁজি করে পৃথিবীতে অনেক ধরনের বানিজ্য হয়েছে। বারমুডাও কি সেরকম একটি পণ্য? সেটাই খোঁজার চেষ্টা করবো…

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল যা শয়তানের ত্রিভূজ নামেও পরিচিত এলাকাটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিশেষ ত্রিভূজাকার অঞ্চল, যেখান বেশ কিছু জাহাজ ও উড়োজাহাজ রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হওয়ায় কথা বলা হয়। কিন্তু সত্যিকার অর্থে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের ভৌগলিক অবস্থান নির্দিষ্ট নয়। কেউ মনে করেন এর আকার ট্রাপিজয়েডের মত, যা ছড়িয়ে আছে স্ট্রেইটস অব ফ্লোরিডা, বাহামা এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপূঞ্জ এবং ইশোর (Azores) পূর্বদিকের আটলান্টিক অঞ্চল জুড়ে, আবার কেউ কেউ এগুলোর সাথে মেক্সিকোর উপসাগরকেও যুক্ত করেন। তবে লিখিত বর্ণনায় যে সকল অঞ্চলের ছবি ফুটে ওঠে তাতে বুঝা যায় ফ্লোরিডার আটলান্টিক উপকূল, সান হোয়ান (San Juan), পর্তু রিকো, মধ্য আটলান্টিকে বারমুডার দ্বীপপূঞ্জ এবং বাহামা ও ফ্লোরিডা স্ট্রেইটস এর দক্ষিণ সীমানা জুড়ে এটি বিস্তৃত। বিভিন্ন লেখক লেখায় বারমুডার যে বিচিত্র-চিত্র পাওয়া যায় তা নিন্মরুপ-

 

ছবি সূত্র: উইকিপিডিয়া

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের বিষয়ে বিভিন্ন লেখক লিখতে গিয়ে সর্বপ্রথম ক্রিস্টোফার কলম্বাসের কথা উল্লেখ করেছেন। কলম্বাস লিখেছিলেন যে তাঁর জাহাজের নবিকেরা এ অঞ্চলের দিগন্তে আলোর নাচানাচি, আকাশে ধোঁয়া দেখেছেন। এছাড়া তিনি এখানে কম্পাসের উল্টাপাল্টা দিক নির্দেশনার কথাও বর্ণনা করেছেন।

১৯৫০ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর সর্বপ্রথম এ বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে খবরের কাগজে লিখেন ই. ভি. ডব্লিউ. জোন্স( E.V.W. Jones)। এর দুই বছর পরেই এই বিষয়ে ফেইট (Fate)ম্যাগাজিনে জর্জ এক্স. স্যান্ড( George X. Sand) “Sea Mystery At Our Back Door” শিরোনামে একটি ছোট প্রবন্ধ লিখেন। এ প্রবন্ধে তিনি ফ্লাইট নাইনটিন ( ইউ এস নেভী-র পাঁচটি ‘টি বি এম অ্যাভেন্জার’ বিমানের একটি দল, যা প্রশিক্ষণ মিশনে গিয়ে নিখোঁজ হয়) এর নিরুদ্দেশের কাহিনী বর্ণনা করেন এবং তিনিই প্রথম এই অপরিচিত ত্রিভূজাকার অঞ্চলের কথা সবার সামনে তুলে ধরেন।
সূত্র: George X. Sand (October 1952). “Sea Mystery At Our Back Door” ও উইকিপিডিয়া

ফ্লাইট নাইনটিনের দূর্ঘটনাকে আমেরিকান লিজান (American Legion) ম্যগাজিনে ১৯৬২ সালে সর্বপ্রথম অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখানো হয় (লেখক- Allen W. Eckert (April 1962). “The Lost Patrol”. American Legion.)। সেসময়ে এই রহস্যময় ঘটনা নিয়ে প্রচুর আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ১৯৬৪ সালে ‘The Deadly Bermuda Triangle’ নামের আরেকটি কাহিনী ছাপিয়ে এই আলোড়নে আরো মশলা ঢালার কাজ করেন ভিনসেন্ট গডিস (Vincent Gaddis) নামের এক লেখক। এর উপরেই আরো রং চড়িয়ে ‘Invisible Horizons’ নামের বিখ্যাত বইটি লেখা হয় যা বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে আরো রহস্যাবৃত করে তোলে। বারমুডার বিষয়ে লেখালেখি পাঠক প্রিয়তার তুঙ্গে উঠে আসলে প্রকাশিত হয় আরো কিছু লেখকের বই। এর ভেতরে উল্লেখযোগ্যগুলো হচ্ছে ওয়ালেস স্পেন্সারের “লিম্বো অফ দ্যা লস্ট” (Limbo of the Lost, 1969, repr. 1973), রিচার্ড উইনারের “দ্যা ডেভিল’স ট্রায়াঙ্গেল” “শয়তানের ত্রিভূজ” (The Devil’s Triangle, 1974) এবং চার্লস বার্লিটজ (Charles Berlitz)-এর সেই বিখ্যাত বই “দি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল”(The Bermuda Triangle, 1974)। এদের প্রায় সকলেই ঘুরেফিরে একার্ট (Eckert) বর্ণিত অতিপ্রাকৃতিক ঘটানাই বিভিন্ন স্বাদে উপস্থাপন করেছেন। (Allen W. Eckert (April 1962). “The Lost Patrol”. American Legion)।

এসব লেখকরা বারমুডা ট্রায়াঙ্গল বিষয়ে কি লিখেছে সেটা কমবেশী সবাই জানেন। সেগুলো বর্ননা করে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে চাই না। আমরা বরং এই ঘটনাগুলোর পেছনের ঘটনা ও এসব কাহিনীর বিষয়ে হওয়া বিভিন্ন গবেষণা নিয়ে আলোচনা করবো। (more…)

তুমি কেমন নদী বলো
ঢেউ জানো না
স্রোত জানো না
চর জাগে না বুকে

তুমি কেমন নদী বলো
গাছ থাকে না
মাছ থাকে না
গহীন দেশের সুখে

তুমি কেমন নদী বলো
ছায়ায় থাকো
মায়ায় থাকো
পাড় ভাঙ্গোনা দুঃখে

তুমি কেমন নদী বলো
চিল ওড়ে না
বিল ভাসে না
ঝড়ো হাওয়া রুখে


খবরগুলো শুধু দেখেই যাচ্ছি। দেখে অক্ষমের মত আক্রোশে ফেটে পড়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না। যাদের ক্ষমতা আছে তারা কী করছে? আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কী হচ্ছে? এইটুকুন একটা ইসরায়েল, জনসংখ্যা এক মিলিয়নও না… অথচ অবাক বিস্ময়ে দেখছি পুরো বিশ্বের দাবী উপেক্ষা করে তারা একের পর এক অন্যায় করেই চলেছে। সত্যিই কি পুরো পৃথিবী ইসরায়েলের এই হামলার নিন্দা করে? করলে এই কয়টা মানুষের এত ক্ষমতা যে পুরো বিশ্বের দাবী উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছে মত কাজ করে যাচ্ছে? জাতিসংঘ এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে?

এসব দেখে শুনে মনে হয় আসলে পৃথিবী কতটুকু এগিয়েছে? জংগলের মত জোর যারা মুল্লুক তার নীতিতেই এখনো পুরো বিশ্ব চলছে। কিভাবে আমরা নিজেদের সভ্য দাবী করি?

বুয়েটে ব্যপক লুটপাট আর ভাংচুরের খবর পেলাম। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যসকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক লুটপাট, ভাংচুর ও সন্ত্রাসী ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে। (সূত্র: নয়াদিগন্ত / আইডিফোরাম) অতীতেও এসব ঘটেছে.. কিন্তু বুয়েটের মত প্রতিষ্ঠানেও এসব ঘটনা খুবই দু:খজনক। মূলত নির্বাচনের রাত থেকেই এসব ঘটনা শুরু হয়েছে। আরো কতদিন চলে সেটা এক মাত্র সৃষ্টিকর্তা জানেন। ঐদিকে বিজয়ী দল থেকে বারবার ঘোষণা দেয়া হচ্ছে যে তারা এসব বিষয়ে অনেক সচেতন এবার। কোথায় অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটানোর জন্য বারবার নির্দেশ দিচ্ছেন তারা। কয়েকদিন ধরে মিডিয়াতে বড় গলায় এসব ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবতা পুরোপুরিই বিপরীত। শিক্ষাঙ্গনে যেসসব সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে সেগুলোর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত খবর পাও যায়নি। আবার বড় বড় মিডিয়াও এসব সন্ত্রাসের ঘটনাকে বেমালুম চেপে যাচ্ছে। এর পেছনে আসল কারণটা কী হতে পারে ভাবার চেষ্টা করি-

১) দলগুলো এবং মিডিয়া উপরে উপরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বললেও ভেতরে ভেতরে সমর্থন করে
২) এসব সন্ত্রাসীর উপরে দলের কতৃত্ব নেই এবং মিডিয়া এদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস পায় না

প্রথম কারণটি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে সেটা খুবই দু:খজন জনক বিষয়। আমরা বিশ্বাস করতে চাই প্রথম কারণটি সত্যি নয়। তাহলে দ্বিতীয় কারণটি সামনে এসে পরে। দ্বিতীয় কারণটি যদি সত্যি হয় তাহলে বলতে হয় ছাত্র রাজনীতি এখন রাজনৈতিক দলগুলোর চাইতে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। এবং এরা এতই ভয়ংকর অবস্থানে আছে যে মিডিয়াও এদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। যদি এমনটাই হয়ে থাকে তাহলে সেটা খুবই দু:খজনক বিষয় হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি বিষয়ক জরীপ করা হয় তাহলে নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির বিরুদ্ধেই বেশী সংখ্যক ভোট পড়বে। বেশীর ভাগ ছাত্র/ছাত্রীই শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি দেখতে চান না। সাধারণ জনগণও সেটা চায় না। এই সরকার নিজেকে জনগণের সরকার বলে দাবী করছে। তার মানে জনগণ যা চায় সেটার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আছে বা থাকা উচিত। একইসাথে তারা যে পরিমান আসন নিয়ে সংসদে যাচ্ছেন তাতে চাইলেই শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির মত একটি জঘন্য বিষয়কে নিষিদ্ধ করতে পারেন। সেটা তারা করবেন কিনা তাই এখন দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে….


ত্রিভুজ ডট কম মূলত একটি ওয়েব সাইট/ব্লগ/রিভিউ/ফোরাম কমিউনিটি টাইপ পোর্টাল। কিন্তু এর চাইতে গুরুত্বপূর্ন পরিচয় হচ্ছে এটি আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা টাইপ একটা সাইট। এই সাইটে যে আমি কতকিছু রেখেছি তার কোন ইয়াত্তা নাই। এদের ভেতরে বেশীর ভাগেরই পাবলিক একসেস নেই। মূলত বিভিন্ন সাইটের চমৎকার সব সার্ভিসের একটা করে প্রোটোটাইপ করে রাখার মত। মাঝে মাঝে অবশ্য এরকম প্রাইভেট লিংকগুলোর দুই একটা বন্ধুদের কাছে প্রকাশ করার পর কিভাবে কিভাবে যেন সবাই জেনে যায় এবং পরিশেষে সেটার লিংক মূল সাইটে যুক্ত না করার কোন যৌক্তিকথা থাকে না। এরকম একটা সার্ভিস ছিলো eSnips ডাউনলোড লিংক জেনারেটর। যাই হোক, নতুন বছর উপলক্ষে হ্যাপি বার্থডে বা নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ব্যবহৃত Glitter Text Maker এর পার্সোনাল পেজটি সবার জন্য উন্মক্ত করে দিচ্ছি…। যারা ইতিপূর্বে greetvalley.com এ গিয়েছেন তাদের কাছে এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু greetvalley তে ঐ পেজটায় এত বেশী বিজ্ঞাপণ যে বিরক্ত লাগে। রেন্ডমলি আসা বিজ্ঞাপণের ভেতরে মাঝে মাঝে যখন পর্ণগ্রাফিক বিজ্ঞাপণ চলে আসে তখন বিরক্তির পাশাপাশি অস্বস্তিও লাগে। আর সেজন্যই ওদের ফ্লাশ বেজড Glitter Text Maker -টা যুক্ত করে রেখেছি… (তবে হোমপেজে যুক্ত করার কারণে দু’টো বিজ্ঞাপণ ব্লকও যুক্ত করে দিলাম……ব্যান্ডউইথ খরচটুকু উঠে আসুক. )

তো যারা ফেসবুক, অর্কুট বা মাইস্পেসে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে চান কিন্তু এক গাদা বিজ্ঞাপণ ডিঙ্গিয়ে greetvalley তে যেতে চান না তাদের জন্য নিচের লিংকটি-

- http://trivuz.com/services/glitter-maker.php


ইতিপূর্বে ঘোষিত ওয়েবে বাংলা ভাষায় ফোরাম ও বাংলা সাপোর্ট গ্রুপ সম্পর্কে যারা জানেন তাদের নতুন করে কিছু বলার নেই। আজ মহান বিজয় দিবসের প্রথম ঘন্টায় ওয়েবে বাংলা ভাষায় ফোরাম ও বাংলা সাপোর্ট গ্রুপ ‘ত্রিভুজ নেটওয়ার্ক বাংলা সাপোর্ট ফোরাম ও আভাটীম’ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করছি।

আমাদের লক্ষ্যঃ
মূলত ওয়েবে বাংলা ভাষার চর্চা বাড়ানো এবং বাংলা ভাষায় ওয়েব সাইট তৈরিতে সহায়তা প্রদান।
(more…)

কয়েকদিন আগেই বলেছিলাম যে আরো নতুন নাটক দেখতে যাচ্ছি আমরা। সেই নাটকের দ্বিতীয় এপিসোড দেখলাম। আমার মতে পুরোপুরিই অযৌক্তিক ভাবে বলাকা ভাস্কর্যে হামলা চালানো হয়েছে। কেন করা হলো? কারা করলো? এই প্রশ্নগুলোর জবাব দেয়ার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে সময়। সামনে নির্বাচন। আওয়ামীলিগের তরফ থেকে নেত্রীর ছেলে ‘জয়’ ঘোষনা করেছেন বাংলাদেশে ইসলামিজমের এখন জয়জয়কার চলছে। এই এলাকায় বোরখা বিক্রি বেড়ে যাওয়া নাকি সেটার প্রমাণ। এই দেশে বোরখা বা হিজাব করা যাবে না.. আমেরিকান সেনা কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে আওয়ামীলিগ এসে এইসব হিজাবওয়ালাদের দেখে নিবে ঘোষনা করে দিয়েছে। তুরষ্কের মত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে হবে আমাদের যেখানে হিজাব নিষিদ্ধ হবে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে বাংলাদেশী হিজাবওয়ালাদের আবার আমেরিকানরা ‘মডারেট’ মুসলিম মনে করে। তাদের কাছে এদেরকে সন্ত্রাসী প্রমাণ করতে গত বেশ কিছু বছর ধরেই আওয়ামীলিগের নেত্রী ও বুদ্ধিজীবি ও উচ্ছিষ্ট ভোগীরা প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনেক লবিং টবিং করে বাংলাদেশকে একবার ব্লাক লিষ্টে ফেলতেও সক্ষম হয়েছিলেন প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। দু:খজনক ভাবে হিলারী ক্লিনটনের লবিং এ সেই লিষ্ট থেকে মুক্ত হয়েছিলাম আমরা। তারপর তো কতকিছু… তাও ফলাফল প্রায় শূণ্য… এভাবে তো চলবে না! কিছু একটা করতে হবে!! (more…)

আগের লেখাটা দেয়ার পর আওয়ামীলিগের ‘A Secular Plan’ এর পক্ষে প্রচুর বক্তব্য পাওয়া গিয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে তারা কিন্তু মাদ্রাসার ছাত্র নন (বা প্রায় সবাই সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত) এবং মাদ্রাসা সিস্টেমের ঘোর বিরোধী। মূল আলোচনা শুরু করার আগে তাদের মন্তব্যগুলোর বিষয়ে কিছু বলে নিতে হচ্ছে তাই-

প্রথমেই এটা সবার বুঝা উচিত যে ‘A Secular Plan’ নামে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রচারনাটা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। দ্বিতীয়ত এতে মার্কিনিদের একটা সুস্পষ্ট আগ্রাসনের পথ খুলে দেয়া হচ্ছে।

একজন বাংলাদেশী নাগরিক হয়েও দেশের বিরুদ্ধে এধরনের আত্মঘাতী প্রচারণার পক্ষে যেতে তাদের একটুও বাঁধেনি। দেখা যাচ্ছে তথাকথিত আধুনিক শিক্ষা তাদের ভেতরে দেশপ্রেম ও দেশাত্ববোধ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ! এদেরকেই আবার মাঝে মাঝে দেখা যায় বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে প্রমাণ করতে কালঘাম ছুটিয়ে ফেলেন। তাদের নেতৃরা দেশের বাইরে গিয়ে দেশের দূর্নাম করতে সিদ্ধহস্ত। অথচ অন্যদিকে মাদ্রাসার শিক্ষক বা ছাত্রদের কোনদিন দেখা যায়নি বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিতে। এমনকি দেশের বাইরে গিয়ে দেশের নামে দূর্নাম রটানোতেও তাদের কোন ভূমিকা কোন কালেই ছিলো না।

তো যাই হোক, কথা হচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে। তথাকথিত প্রগতিশীলরা ও তাদের বিদেশী সাহায্যপুষ্ট মিডিয়া দ্বারা সৃষ্ট প্রচলিত ধারনা হচ্ছে মাদ্রাসায় সব অকাট মূর্খ আর বোধশক্তিহীন জড়পদার্থ তৈরি হয়। কিন্তু দেখা গেল মিডিয়ার এই প্রপাগান্ডাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই ‘বোধশক্তিহীন জড়পদার্থ’রা ঢাকা ভার্সিটির মত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠিন ভর্তিপরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করে ফেলছে। তাদের কেউ কেউ নাকি আবার ঢাকা ভার্সিটির “গ” এবং “খ” বিভাগে প্রথম দ্বিতীয়ও হয়ে গিয়েছে। প্রপাগান্ডায় অশ্ব ডিম্ব প্রসবে ব্যার্থ হওয়ায় অত:পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন করে এদের রুখাতে হয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় তার আমেরিকান সেনা বন্ধুকে সাথে নিয়ে এখন আবার সেনাবাহিনীতেও এদের নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছেন। তারা এই বিষয়ে এতই মদদপুষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী যে নির্বাচন হওয়ার এক মাস আগেই এই বিষয়ক খোলাখুলি ঘোষণাও দিয়ে ফেলেছেন।

তো আওয়ামীলিগের নেতৃত্বে ‘A Secular Plan’ এর অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে মাদ্রাসা ছাত্রদের নিষিদ্ধ করার কার্যক্রমটা কতদূর পর্যন্ত বাস্তবায়ন হতে পারে তার একটা হিসেব করে ফেলি-
১) মাদ্রাসা ছাত্রদের সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোন মাদ্রাসা ছাত্র সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পায় তার ব্যবস্থা নেয়া হবে
২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সকল পাবলিক বিশ্বিবিদ্যারয়ে মাদ্রাসা ছাত্রদের নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হবে। উল্লেখ্য ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদ্রাসার ছাত্রদের নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েও গিয়েছে।
৩) সকল সরকারী অফিস-আদালত মাদ্রাসা ছাত্রদের জন্য নিষিদ্ধ হবে। যারা ইতিমধ্যে মাদ্রাসা থেকে পাশ করে নিজ যোগ্যতাবলে ওখানে প্রবেশ করেছেন তাদেরকে কোন না কোনভাবে বহি:স্কার করা হবে।
৪) মাদ্রাসা ও এর সাথে জড়িতদের জন্য সরকারী সকল সুবিধা বাতিল করা হবে। এমনিক মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করলেও আশ্চর্য হওয়ার মত কিছু থাকবে না।

সর্বপরি মাদ্রাসা এবং মাদ্রাসার ছাত্রদের এদেশের যাবতীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত করার মহা-পরিকল্পনা নিয়ে আওয়ামীলিগ ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।

কথা হচ্ছে কেন তাদেরকে এভাবে বঞ্চিত করা হবে? প্রাথমিক ভাবে বলা হচ্ছে মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা দুর্বল এবং এর মান উন্নয়ন করতে হবে। বেশীর ভাগ মাদ্রাসাগুলের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে আমার মনেও প্রশ্ন আছে। কিন্তু এটা তো আমাদের জাতীয় বাস্তবতা। আমাদের মত দরিদ্র একটি দেশে এই বাস্তবতা কাটিয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন। মজার বিষয় হচ্ছে আমাদের সাধারণ শিক্ষার জন্য দেশজুড়ে যে হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে সেগুলোর শিক্ষার মান ও পরিবেশও আশংকাজনক খারাপ। কিন্তু সেগুলো বন্ধ করে দেয়ার কথা আজ পর্যন্ত কেউ উচ্চরণও করেনি। শুধু মাদ্রাসা’ই তাদের আক্রমনের লক্ষ্যবস্তু! কেন?

আরো যুক্তি দেখানো হয় মাদ্রাসা থেকে টেরোরিস্ট তৈরি হচ্ছে.. তাই মাদ্রাসা শিক্ষা ক্ষতিকর। আমি দাবী করছি না যে মাদ্রাসার কেউ কেউ সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে না। কিন্তু এর জন্য তার মাদ্রাসা শিক্ষাকে দায়ী করাটা কতটুকু সাজে? বিশ্বের বেশীর ভাগ সন্ত্রাসী-ই কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত নয়। The New York Times এর The Madrassa Myth শিরোনামের লেখাটায় PETER BERGEN and SWATI PANDEY পরিষ্কার ভাবেই বলেছেন যে সাধারন স্কুল-কলেজ শিক্ষিতদের ভেতরেই সন্ত্রাসী বেশী। যারা দুই-একটি ঘটনা উল্লেখ করে গোটা মাদ্রাসা সিস্টেমটাকেই সন্ত্রাসী বানানোর কারখানা হিসেবে ঘোষনা করছেন তারা কেন সাধারণ স্কুল-কলেজকে সন্ত্রাসী তৈরির কারখানা হিসেবে ঘোষনা করছেন না কেন সেটাই প্রশ্ন। যে অযুহাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পক্ষে ঠিক একই কারণে কেন তারা সাধারণ স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রদের থেকে সকল নাগরিক সুবিধা কেড়ে নিতে চাচ্ছেন না?

এরকম অনেক প্রশ্নই তোলা সম্ভব। সবগুলো বিবেচনা করলে শিক্ষার মান, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি কিন্তু ধোপে টেকে না। তাহলে মাদ্রাসার বিষয়ে তাদের ক্ষোভটা আসলে কোথায়?

এরজন্য আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষা চালুর ইতিহাসটা জানতে হবে। ইসলামের উপর ব্রিটিশ ও হিন্দুদের যৌথ আক্রমন থেকে মুসলিম প্রজন্মকে রক্ষার জন্যই মূলত মাদ্রাসা শিক্ষা চালু করা হয়েছিলো। সেই ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ব্রিটিশ ও হিন্দুদের অনুগতরা এখনো মুসলমান ও ইসলামকে খেয়ে ফেলার প্রচেষ্টায় রত। এখন তারা এতটাই শক্তিশালী যে প্রকাশ্যে ইসলামকে শত্রু হিসেবে ঘোষনা করার দু:সাহস দেখাচ্ছে। বলা হচ্ছে, ইসলামই (Islamism) হচ্ছে বাংলাদেশের সংবিধান ও তার সেকুলার উপাদানের প্রধান বিপদ।

আর তাই মার্কিন সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোষনা দেয়া হয়- “বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক কর্তব্য বা তাঁর ভাষায় ‘A Secular Plan’ হচ্ছে ইসলামি রাজনীতির বা তাঁর ভাষায় ‘ইসলামিজম’ ঠেকাতে বাংলাদেশে পরিপূর্ণ যুদ্ধে নেমে পড়া।”

…(চলবে)..

ফরহাদ মজহারের ‘নির্বাচন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সমরনীতি’ শিরোনামে প্রকাশিত লেখাটি পড়লাম। সত্যি কথা বলতে কি একজন বাংলাদেশী মুসলিম হিসেবে আতংকিত হয়েছি। আমাদের রাজনৈতিকরা আমাদের দেশের জন্য খারাপ এটা আমরা সবাই জানি। আবার এদের ভেতরে ‘আওয়ামীলিগ’ নামের দলটি ইসলামের জন্য ক্ষতিকর এটাও জানি। কিন্তু কতটুকু ক্ষতিকর হতে পারে সেটা বুঝতে হলে ইসলাম সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন হতে হয়। সাধারন গরু খাওয়া মুসলিমরা এর গুরুত্ব বুঝতে বরাবরের মত্ই অক্ষম হবে বলে আমি মনে করি। এবং নিজেকে আমি একজন গরু খাওয়া মুসলিম মনে করি না। এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলিগের ‘A Secular Plan’ জানতে পেরে তাই বাংলাদেশের ইসলাম ও প্রাকটিসিং মুসলিমদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত!!


যারা লেখাটি এখনো পড়েননি তাদের জন্য ইউনিকোডে পড়ার উপযোগী করে ব্যাক্তিগত ব্লগে রেখেছি। পড়ে দেখতে পারেন।

লিংক: http://trivuz.com/blog/?p=175

যাই হোক, শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামীলিগের ‘A Secular Plan’ সম্পর্কে সবটুকু প্রকাশ করেননি। তবে যতটুকু প্রকাশ করেছেন তাতে অনেকগুলো প্রশ্ন ও সন্দেহ জেগেছে মনে। প্রথম পর্বে তেমনি একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি-

মাদ্রাসা ছাত্র ও সেনাবাহিনী
সজীব ওয়াজেদ জয় ও কার্ল জে সিওভাক্কো (Carl J. Ciovacco) কতৃক প্রকাশিত নিবন্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে ইসলামি ভূত তাড়াবেন একটি পরিকল্পনা হাজির করেছেন। তারা দাবী করেছেন সেনাবাহিনী ভর্তি হয়ে যাচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্রে। যদিও এর সাপক্ষে তারা শক্তিশালী কোন উৎস বা রেফারেন্স দিতে পারেননি। তবে ফরহাদ মজহারের সাথে আমিও এই বিষয়ে একমত যে ‘মাদ্রাসার ছাত্ররা যদি সেনাবাহিনীর নির্ধারিত পরীক্ষায় পাশ করে তাহলে আপত্তিটা কীসের? মাদ্রাসার ছাত্র বলেই কি আপত্তি?’

কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি লবি মাদ্রাসা ছাত্রদের ওখানে ভর্তির সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও আমি সেবার মাদ্রাসা ছাত্রদের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়টিকে ভিন্নদৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করেছি.. উম্মু আবদুল্লাহ ব্লগে এই বিষয়ক আমার আগের মন্তব্যগুলো পাওয়া যাবে। সেবার আমার বিরক্তিটা আমাদের ইসলামী শক্তিগুলোর উপরে ছিলো। কিন্তু একথাও ঠিক যে মাদ্রাসার ছাত্র যদি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির কঠিন পরিক্ষায় পাশ করতে পারে তাহলে তাদের সেখানে ঢুকতে দেয়া হবে না কেন? এমন তো না যে মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য আলাদা কোন কোটা বা ভর্তি সিস্টেম আছে! আসলে মূল বিষয়টা হচ্ছে মাদ্রাসায় ইসলাম শিক্ষা দেয়া হয়, আর ইসলামকে যেমন ভাবেই হোক এই বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করতে হবে। ‘A Secular Plan’ এর প্রাথমিক প্রস্তুতির একটা অংশ হিসেবে এটাকে দেখা যায়.. কারণ ইসলাম বিদ্বেষী সেক্যুলাররা এই ঘোষণায় আনন্দিত!

আবার সেনা বাহিনীর প্রসঙ্গে ফিরে আসি। হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ইরাক ও সৌদি আরবে মার্কিন সেনাদায়িত্ব পালন করা মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কার্ল জে সিওভাক্কো (Carl J. Ciovacco) মিলে আবিষ্কার করেছেন সেনাবাহিনী মাদ্রাসার ছাত্রদের দ্বারা ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। তাদের এই আবিষ্কারের স্বপক্ষে কোন রেফারেন্স নেই। থাকার কারণও নেই.. কারণ একজন সিভিল হিসেবে সেনাবাহিনীর তথ্য তাঁর জানার কথা নয়। কিন্তু এখানে একটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে যে সজীব ওয়াজেদ জয় সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁর লেখায় পরিষ্কার যে তিনি সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদকে পছন্দই করেছেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে আমরা যত কথাই বলি না কেন মাদ্রাসা শিক্ষা এদেশের দরিদ্রশ্রেণীর শিক্ষার অভাব মেটাতে একটা বিশাল ভূমিকা রাখছে। সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়া মানুষের তালিকায় আমাদের দেশের দরিদ্র ও নিন্ম আয়ের শ্রেণীর মানুষজনের সংখ্যাই বেশী। সুতরাং সেনাবাহিনীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ মাদ্রাসা থেকে গিয়ে থাকতেও পারে। মাদ্রাসা থেকে গিয়ে কেউ সেনাবাহিনীর নির্ধারিত পরিক্ষায় পাশ করলে তাদের নিতে আপত্তিটা কোথায়? লজিক্যালি কোন আপত্তি থাকার কথা নয়.. তাহলে বুঝা যাচ্ছে আপত্তি সৃষ্টি করতে হবে.. আপত্তি সৃষ্টি করার পদ্ধতিটা কেমন হতে পারে?

কিছুদিন আগে আমাদের এখানে লালনের কাল্পনিক মূর্তি ভাঙা নিয়ে সেনাবাহিনীর দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। প্রচারণাটা এমন ভাবে করা হয়েছে যে সেনাবাহিনী তথাকথিত মুসলিম মৌলবাদীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। অথচ ঐ মূর্তি সরানোর জন্য কোন ইসলামী শক্তি চাপপ্রয়োগ করেনি। এমনকি অনেকে দাবী করেছেন হাজীদেরও এটা নিয়ে কোন দাবী ছিলো না। যদিও মূর্তি সরানোর বিষয়টা বিতর্কে রুপ পাওয়ার পর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রাসঙ্গিক ভাবেই মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক বিতর্কটা কেন এবং কিভাবে সৃষ্টি হলো? অত:পর কারা লাভবান হলো সেনাবাহিনীকে তথাকথিত মৌলবাদী প্রমাণ করে? সবগুলো বিষয় নিয়ে নতুন করে আমাদের ভাবতে হবে….

একই সাথে এই দেশ তথাকথিত মৌলবাদীদের আস্তানা হিসেবে প্রামাণের আওয়ামী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আমরা আরো কতরকম সাজানো ঘটনা দেখতে পাবো তা নিয়েও ভাবা যেতে পারে…

…(চলবে)…

নির্বাচন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সমরনীতি
- ফরহাদ মজহার

সম্প্রতি Harvard International Review নামক একটি পত্রিকায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও কার্ল জে সিওভাক্কো (Carl J. Ciovacco) মিলে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। ছাপা হয়েছে ১৯ নভেম্বর ২০০৮ তারিখে। (দেখুন,  http://www.harvardir.org/articles/1784  or Click Here)।

যে সময়ে লেখাটি ছাপা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচনের সময়, বিচার করলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এখন যে নির্বাচনী রাজনীতি চলছে তাকে কিভাবে সাজানো হয়েছে বা হচ্ছে সেটা বোঝার জন্য এই লেখাটি পড়া ও বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া আমি সজীব ওয়াজেদ জয়কেও বুঝতে চাই। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি যখন দেশে ফিরছিলেন তখন তাঁর বিরুদ্ধে নানান প্রচারণা চলেছিল। আমি তা নিন্দা করেছি। বিশেষত শেখ হাসিনা নিজের ‘ডাইনেস্টি’ প্রতিষ্ঠা করতে চান এই অপবাদ দিয়ে রাজনীতিতে জয়ের সম্ভাব্য ভূমিকাকে নষ্ট করবার একটা তৎপরতা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেই তৎপর ছিল। ‘মানবজমিন’ পত্রিকায় ছাপা আমার বক্তব্য ছিল সোজা। জয় যদি বাংলাদেশের নাগরিক হিশাবে কোন অবদান রাখতে চান, এটা তাঁর অধিকার। (আশা করি তিনি এখনও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন, মার্কিন নাগরিক হননি)। তিনি শেখ হাসিনার পুত্র কিংবা শেখ মুজিবুর রহমানের নাতি­ এটা তার দোষ বা অপরাধ নয়। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁর একটা গ্রহণযোগ্যতা আগেই তৈরি হয়ে থাকা স্বাভাবিক। সেটাও তাঁর দোষ নয়। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ বৃদ্ধ ও প্রৌঢ়দের ভারে স্খবির। সেখানে তরুণরা সচলতা আনতে পারেন। একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়ে জয় বিদেশে দীর্ঘদিন থেকে কী শিখলেন, কী জানলেন সেটা জানার আগ্রহ অনেকেরই আছে। আমিও ব্যতিক্রম নই। লেখাটি পড়ে আমি বুঝেছি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যে নীতি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করছে, আওয়ামী লীগকে দিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় সেই নীতিই বাস্তবায়ন করার কথা বলছেন। তাঁর রাজনীতি সম্পর্কে আমার ধারণা আরো স্পষ্ট হয়েছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক কর্তব্য বা তাঁর ভাষায় ‘A Secular Plan’ হচ্ছে ইসলামি রাজনীতির বা তাঁর ভাষায় ‘ইসলামিজম’ ঠেকাতে বাংলাদেশে পরিপূর্ণ যুদ্ধে নেমে পড়া। কারণ যাকে নিয়ে বা যেখানে তিনি লেখাটি ছেপেছেন তাতে পরিষ্কার মার্কিন সন্ত্রাস ও যুদ্ধের অধীনে শুধু নয়, এমনকি সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় তিনি তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করবার কথা ভাবছেন। (কিংবা তাঁকে দিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এই কাজটিই করিয়ে নিতে চাইছে)। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী ম্যানিফেস্টো হিশাবে আমরা এই লেখাটি পাঠ করতে পারি। জয়কে ধন্যবাদ দিতে হয় কারণ আগামী দিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কী হতে যাচ্ছে তার আগাম নমুনা তিনি আমাদের জানিয়েছেন। (more…)