যেই কারণে ফেসবুক থিকা ধীরে ধীরে সইরা যাইতেছি

ইন্টারনেট মানুষের কমিউনিকেশন সহজ করছে। সেই সাথে কিছু অনাকাংখিত ঝামেলাও নিয়ে আসছে। এই যেমন- অনলাইনে বইসা আপনি কারো লগে কথা কইতেছেন। এমন সময় নেট লাইন গেল গা। আলাপ হয়তো এমন একটা জায়গায় ছিলো যেইখানে আপনার রিপ্লাই না পাইয়া অপর ব্যক্তি এর কোন একটা অর্থ ধইরা নিলো। এইটা পারস্পরকি ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে যার পরিনতিতে সম্পর্কের ইতি পর্যন্ত ঘটতে পারে। ফেসবুক আইসা বিপত্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। ফেসবুকে আপনি থাকেন বা না থাকেন, মোবাইলে লগইন করা থাকলে অথবা ব্রাউজারের কোন একটা ট্যাবে ওপেন করা থাকলে আপনারে অনলাইন দেখাইবো। এতে যেটা হয়, কেউ একজন অনলাইন ভাইবা আপনারে নক দিলো। আপনি তো আর নাই, রিপ্লাই দিবেন ক্যামনে? অনেকে মাইন্ড করে ব্যপারটায়। অনেক সময় এমনও হয়, মোবাইল ব্যবহার করতে গিয়া হয়তো ম্যাসেজ সিনও হয়ে গেছে, কিন্তু আপনি আসলে খেয়াল করেন নাই। মহা পাপ কইরা ফেললেন। ম্যাসেজ দ্যাখলো, রিপ্লাই দিলো না... ভাব কত! এর মাঝখানে আছে কাজের মাঝখানে বিরক্ত করার ব্যপার। আপনি হয়তো খুব ব্যস্ত, কাজ করতেছেন বা কোন একটা মিটিং এ আছেন। কেউ একজন আপনারে অনলাইন দেইখা নক দিলো। আপনি তারে কইলেন 'কাজ করতেছি ভাই'। কিন্তু সেই লোক হইলো মহা আজাইরা। সে ভাবে অন্যরা যারা ফেসবুকে অনলাইন তারাও তার মত মহা আজাইরা। আপনারে নক দিতেই থাকবো। কয়দিন আগে একটা গুরুত্বপূর্ন মিটিং এর মাঝখানে একজন আমারে নক কইরা হেল্প চাইলো। মোবাইল সাইলেন্ট করতে ভুলে গেছিলাম, টুং কইরা উঠছে। আমিও ভাবলাম একটা রিপ্লাই দিয়া ফেলি। মিটিং এর মাঝখানে পাঁচ সেকেন্ড ব্যায় কইরা রিপ্লাই দিলাম যে- মিটিং এ আছি। কিন্তু সেই লোক কইয়া বসলো- একমিনিট সময় দেন। তারপর এত্তগুলি ম্যাসেজ পাঠাইছে। জবাব না পাইয়া স্যাড ইমোটিকনও পাঠাইছে। পরে আবার 'আপ্নের হেল্প লাগবো না, সলভ কইরা ফেলছি' টাইপ একটা ম্যাসেজও পাঠাইছে। এইগুলি তো সম্পর্ক নষ্ট করে। ফেসবুক সম্পর্ক তৈরির চাইতে ধ্বংস বেশী করতেছে এইভাবে।

ফেসবুকে লেখালেখিও বিপদজনক। হঠাৎ কোন একটা চিন্তা মাথায় আসায় আপনি হয়তো কিছু একটা লেখছেন, অন্য একজন ভাবলো তার স্টেটাসের জবাব দিছেন। সে আক্রান্তবোধ করলো। আরো বিপত্তি বাঁধে ক্লোজ ফ্রেন্ডস ও ফ্যামিলি মেম্বারদের নিয়া। আপনার লেখালেখির বিষয়ের ভেতরে তারা সবসময় নিজেদের খুঁইজা পায়। ক্যামনে? আল্লাহ মালুম! আরো আছে আপনার ভার্চুয়াল বন্ধু ও ফলোয়াররা, যারা আপনার সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না। তারা মনে করে আপনি নিজের জীবনে অনেক সমস্যায় আছেন তাই এইসব লিখতেছেন। আপনার লেখালেখি থেকে তারা আপনার পার্সোনাল লাইফ বোঝার চেষ্টা করে। আরেকটা সমস্যা হইলো ভাষাগত। ফেসবুক যেহেতু আমজনতার প্লাটফর্ম সেহেতু বিভিন্ন বুদ্ধিমত্তার লোকজনের বিচরন এইখানে। দেখা গেল আপনি কইলেন একটা পাবলিক বুঝলো আরেকটা। মৌলিক লেখালেখির সাইটে ঐসব কমবুঝদার পাবলিক কখনো যাইবো না পড়তে, তাই ঐখানে এই সমস্যা কম। তাই এই সমস্যা শুধুমাত্র ফেসবুকে। এই সমস্যা এড়ানোর কোন উপায় নাই।

সব মিলায়া, ফেসবুক একটা বিপদজনক জায়গা। এইখানে অবস্থান বা লেখালেখি উভয়ই বিপদজনক। আস্তে আস্তে সইরা যাইতেছি তাই।


Thoughts