শিক্ষার্থীদের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন নিয়ে আমার যত ফেসবুক স্ট্যাটাস

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনটা মূলত সফল হয়েছে শিক্ষার্থীদের অসম সাহস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একতাবদ্ধ হওয়ার ফলে। সেসময় গুটিকয়েক ব্যক্তি ছাড়া বাকী সকলেই ধীরে ধীরে এই আন্দোলনে পক্ষে কথা বলেছিলো। পুলিশ ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উপর গুলিবর্ষন করার দিন থেকে এর প্রতিবাদে ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খোলা হয়েছিলো। সেই ইভেন্টে নিয়মিত আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষন ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে প্রোফাইল পিকচারে 'NO VAT ON EDUCATION' ব্যাজ ধারণ করে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। প্রতিদিন আন্দোলনের পক্ষে অসংখ্য কমেন্ট করেছি, ফেসবুকে স্টেটাস দিয়েছি। তেমনি কিছু স্টেটাস এখানে সংকলিত হলো।

সুতরাং দেখা গেল, পুলিশের গুলি উপেক্ষা করে আন্দোলন করার হ্যাডম এই দেশে একমাত্র প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্রদেরই আছে। অভিনন্দন ও সংগ্রামী শুভেচ্ছা তাদের জন্য। ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের গুলির তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
ঢাকা কার্যত অচল আজকে। অঘোষিত হরতাল চলছে বলা চলে। শাবাশ! এটাকেই বলে আন্দোলন... বাকীরা শিখে নাও, গুলির মুখে পালিয়ে না গিয়ে কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। কিভাবে 'গুলি কর' স্লোগান দিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। এই দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য তাদের সেরকম কোন লিডার লাগে নাই। 'আমাদের লিডাররা মাঠে নাই তাই আমরা নাই' টাইপ লেইম লজিক দিয়ে ঘরে বসে থাকে নাই তারা। মিডিয়া কাভারেরজের জন্য অপেক্ষা করে নাই (প্রথম আলো সহ দেশের বেশির ভাগ জাতীয় পত্রিকায় ৩০ জন ছাত্রের গুলি খাওয়ার খবরটাও প্রথম পেজেও ছাপে নাই। টিভি মিডিয়াগুলোও খবরে কিছুটা দেখানো ছাড়া কোন লাইভ কাভারেজ এখন পর্যন্ত দেয় নাই)। আন্দোলন করার জন্য এগুলো লাগে না হে বাঙালি... আন্দোলন করতে হয় কিভাবে শিখে নে!
দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, কিছুদিন পর পর নতুন নতুন ভ্যাট/ট্যাক্স আরোপ, বিদ্যুত-গ্যাসের অযৌক্তিক হারে মূল্যবৃদ্ধি সহ দেশের যাবতীয় দূর্নীতি-লুটপাট ও অব্যবস্থার বিরুদ্ধে এভাবেই একদিন সবাই দাঁড়িয়ে যেতে শিখবে। সেইদিন সম্ভবত খুব বেশি দূরে নেই...
১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
Thats the spirit! That's the difference... kudos!
১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

প্রাইভেট ভার্সিটির 'বড়লোক' পোলাপানদের আবার কিসের আন্দোলন?
ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনকারীদের পক্ষে লেখা ব্লগ/নোট

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
যেদিন অংক কষে ১০০০ টাকার ৭.৫% = ৭৫০ টাকা এবং ৩০,০০০ টাকার ৭.৫% = ৭৫ টাকা ফল বের করতে পারবেন, সেইদিন বুঝবেন দ্যাশের অর্থমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আপনি অর্জন করে ফেলেছেন। :)
আপডেটঃ
১০০০ টাকার ৭.৫% এখন ৭৫,০০০ টাকা। ভিডিও লিংক কমেন্টে.. ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
শিক্ষার্থীদের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনটা কয়লার ভেতরের আগুনের মত। আপনি যেটুকু দেখতে পাইতেছেন এটা তারচাইতেও বড় কিছু। শুধু পার্থক্য এই জায়গাতে যে- কয়লা পুড়ে ছাই হয়, এখানে বারুদ হচ্ছে। আপনি একে যত বেশি পুড়তে দিবেন তত বেশী বারুদ তৈরি হবে।
১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
ভ্যাট বিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দ্বিতীয় দিনের মত ঢাকা শহর অচল। অথচ দেখুন- এই অচল করার জন্য একটা গাড়িও তাদের ভাঙ্গতে হয়নি, কোনরকম ভাংচুর মারামারি করতে হয়নি। শান্তিপূর্ন আন্দোলনের মাধ্যমে ঢাকা সহ দেশের বেশ কয়েকটা বড় সিটি অচল করে রেখেছে। এখানেও এরা অন্যদের সাথেনিজেদের বড় ধরনের একটা পার্থক্য দেখাতে সক্ষম হয়েছে। অভিনন্দন। এগিয়ে চলুক আন্দোলন!
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
এটা শুধুমাত্র VAT বিরোধী আন্দোলন নয়, এটা অধিকার আদায়ের আন্দোলন। পাশে আছি।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
মির্জা গালিব তখনো দিল্লীতে প্রসিদ্ধ হননি। তিনি যে এলাকায় বাস করতেন সেখানকার লোকজন তাঁর কাব্য প্রতিভা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। মির্জা গালিবের বেশ কিছু ব্যক্তিগত দোষ-ত্রুটি ছিলো, ফলে তাঁর কাব্য প্রতিভায় ঈর্ষান্বিত কিছু ব্যক্তি সুযোগ পেয়ে গালিবের নামে নানা কথা ছড়ায়। বাজারে আজাইরা সময় কাটানো ব্যক্তিরা সেগুলো লুফে নিয়ে গালিবের নানারকম সমালোচনায় মত্ত্ব থাকতো। গালিবের বউ একদিন গালিবকে এটা মনে করিয়ে দেয়ার পর গালিব বলেছিলেন- 'আমার চর্চা তারা করছে না তো কি হয়েছে, পরচর্চা তো করছে'। (বা এধরনেরই কিছু একটা... গালিবের মত বড় কবির উর্দূ শের ঠিকঠাক অনুবাদে এই অধমের অক্ষমতা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশাকরি।)
ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের সমর্থকরা ভ্যাট আন্দোলনের বিরোধী পক্ষের নানারকম চুলকানীমূলক প্রতিক্রিয়াশীল বক্তব্যে অনেক ক্ষুব্দ ও বিরক্ত। কিন্তু আমি গালিবের অনুকরণে বলতে চাই-
ভ্যাট আন্দোলনের পক্ষে তারা বলছে না তো কি হয়েছে, বিপক্ষে তো বলছে। ভ্যাট আন্দোলনটা যে সবাইকে আন্দোলিত করছে এটাই তো তারা প্রমাণ করে যাচ্ছেন প্রতিটা কথায়, প্রতিটা চুলকানির খস-খস শব্দে।
পুনশ্চঃ গালিবের সেই সমালোচনাকারীদের কিন্তু ইতিহাস মনে রাখে নাই, গালিব ঠিকই ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। আক্কেলমন্দকি লিয়ে ইশারাই কাফি। :)
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
তৃতীয় দিনের মত ঢাকা অচল। আন্দোলন চলছে, শান্তিপূর্ন ভাবে।
যে ছাত্রলীগ 'জয় বাংলা' বলে আন্দোলনকারীদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়লো, ফেসবুকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এত অপপ্রচার চালালো তারা যখন আজকে ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য সরকারকে অনুরোধ করে তখন বোঝা যাচ্ছে যে সরকার ইতিমধ্যে ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে কিন্তু লজ্জ্বায় নিজেরা বলতে না পেরে তাদের ছাত্র সংগঠনকে দিয়ে বলাচ্ছে।
ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের জয় এখন সময়ের ব্যপার মাত্র। খুব সম্ভবত আজকের ভেতরেই সরকার থেকেও ঘোষণা চলে আসতে পারে। আন্দোলন এগিয়ে চলুক।
আওয়ামীলীগ খুব সম্ভবত ছাত্রলীগকে মিছিল নিয়ে নামতেও নির্দেশ দিবে এবং ভ্যাট প্রত্যাহারের ক্রেডিট ছাত্রলীগকে দেয়ার চেষ্টা করবে। করুক.. তাও ভ্যাট প্রত্যাহার হোক।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
ব্রেকিং : শিক্ষার উপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ভ্যাট বিরোধী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন। বিজয় এভাবেই ছিনিয়ে আনতে হয়... আন্দোলন সফল করার জন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
তোমরা দেখিয়ে দিলে, কিভাবে অধিকার আদায় করে নিতে হয়। তোমাদেরকে নিয়ে জাতী গর্বিত। যেদিন বাংলাদেশের সকল মানুষ তোমাদের মত করে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে যেতে পারবে, সেদিন এই দেশ থেকে অন্যায়-দূর্নীতি-অত্যাচার-জুলুম-নির্যাতন ও সকল লুটেরারা পালানোর পথ পাবে না। সাধারণ জনতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাওয়ার সেই দিনটা হয়তো বেশি দূরে নয়।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের বিরোধীতা করতে গিয়ে যে কয়টা মিডিয়া পাবলিকের আস্থা হারালো, সেটা তারা খুব সহজে পুনরুদ্ধার করতে পারবে বলে মনে হয় না। তারচাইতেও বড় কথা, এদেশে সোশ্যাল মিডিয়া আগের চাইতে আরো বেশি শক্তিশালী হলো। এমনি সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে সোকল্ড মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার দিন শেষের পথে... তার ভেতরে কিছু কিছু মিডিয়া নির্লজ্জ্ব ভাবে অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে যেভাবে নিজেদের ধ্বংস করছে, এর দায় তাদের নিজেদেরই বহন করতে হবে।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫


Thoughts