এত ভালোবাসার ঋণ আমি শুধিব কেমনে?

যখন কাজের অনেক চাপ কিন্তু কাজ করতে ইচ্ছা করে না বা সমস্যাগুলো প্যাঁচ খেয়ে যায় তখন ক্রিটিক্যাল সমস্যাগুলোর একটা তালিকা বানাই। তারপর একনজর দেখে সব ক্লোজ করে অনলাইনে গেইম খেলি। মাথা পুরোপুরি কর্ম চিন্তা মুক্ত থাকে। কিছুক্ষন পর গেইম ক্লোজ করে সমস্যাগুলো নিয়ে বসি। মজার ব্যপার হচ্ছে, বেশীরভাগ সমস্যাই তখন অটো সলভ হয়ে যায়। যে কয়টা রয়ে যায় সেগুলোর দিকে তাকিয়ে আবার গেইম বা ফেসবুক নিয়ে বসি। এক্ষেত্রে ফেসবুকের হোমপেজে না গিয়ে পুরানো পোস্ট পড়ি... এমনপোস্টগুলো, যেগুলো পড়লে মন ভালো হয়ে যায়। আমি জানি, ফেসবুকিং রেখে আবার কাজে বসলে বাকী সমস্যাগুলোও সলভ হয়ে যাবে। এই অটো সলভ হওয়ার ব্যপারটার একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। তবে আজকে সেই ব্যাখ্যা বলে কাউকে বিরক্ত করবো না। তারচে, ফেসবুক পোস্ট পড়লে কেন মন ভালো হয় সেটা বলি।

ফেসবুক একটা সোশ্যাল মিডিয়া। এটাকে মানুষ কতটুকু সোশ্যাল ভাবে নেয় জানি না, তবে আমি খুব আনসোশ্যালের মত ফেসবুক ব্যবহার করি। এই যেমন- ইনবক্সে অনেক ম্যাসেজ জমে থাকে, জবাব দেই না (আসলে ম্যাসেজ বক্সে ঢুকলে কারটা বাদ দিয়ে কারটার জবাব দেব খুঁজে পাই না, তাই বেশীর ভাগ ম্যাসেজেরই জবাব দেয়া হয় না)। কারো প্রোফাইলে যাই না খুব একটা... গেলেও লাইক/কমেন্ট টমেন্ট খুব একটা দেই না (কেন দেই না এটারও একটা ব্যাখ্যা আছে, আরেকদিন দেব)। ফেসবুকে আমি হয় নিজের কোন চিন্তা বা পর্যবেক্ষন শেয়ার করি অথবা পুরানো পোস্টগুলোর কমেন্ট পড়ি। অনেক সময় ছেলেমানুষের মত লাইকও গুনি... কে কে লাইক দিলো দেখি। পুরোপুরি স্বার্থপরের মত ফেসবুকিং যাকে বলে।

তো, এই যে আমি এত আনসোশ্যাল... তবুও লোকজন কেন আমাকে লাইক কমেন্ট দেয়, এটা একটা বিরাট রহস্য। পলিটিক্যাল বা ক্রিটিক্যাল থিংকিং এর পোস্টে না হয় সমাজ-রাজনীতি সচেতন লোকজন লাইক টাইক দেয়, রাজনীতি বা দেশের স্বার্থে। কিন্তু ব্যক্তিগত পোস্টগুলোতে লাইক দেয় কেন? প্রায়ই ভাবি, একদিন রাগ করে চলে যেতে যেতে কেউই থাকবে না আমার লেখা পড়ার... তখন নিজের আনন্দের জন্যই লিখবো শুধু। কিন্তু সেই দিন আর আসে না। সেইদিন আসে না, কারণ প্রচুর লোকজন আমাকে ভালোবাসে। জানি না কেন। জনপ্রিয় হওয়ার জন্য যে পথ, সেই পথে আমি খুব কমই হেঁটেছি। স্রোতের বিপরীতেই আমার বেশীরভাগ অবস্থান। ন্যায্যতার প্রশ্নে কখনো ছাড় না দেয়াতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ আমাকে গণহারে আনফ্রেন্ড/ব্লক করেছে। ভবিষ্যতেও করবে। কিন্তু তারপরেও অনেক মানুষ আছে, যারা কখনো ছেড়ে যান নাই। কোনরকম বিনিময় ছাড়াই ভালোবাসা দিয়ে যাচ্ছেন। সবচাইতে বেশী আপ্লুত হয়েছিলাম যেদিন এই ব্লগটা রিডিজাইন করে এখানের লেখাগুলো প্রোফাইলে দিতে শুরু করেছি। একেকটা পোস্টা দুই/একশ লাইক পড়লেও একেকটা লিংক হাজার হাজার ভিউ (কিছু কিছু লেখা লাখও ছাড়িয়েছে)। কারা পড়ে এগুলো? কেন পড়ে?

লেখক হিসেবেও তো আমি খুব একটা সুবিধার না। পাঠক হিসেবে যখন নিজের কোন লেখা পড়ি, ভাষার অবস্থা দেখে লজ্জায় পড়ে যাই। আমার প্রায় প্রতিটা ফেসবুক পোস্টেই দেখবেন প্রচুর এডিট... হয় শব্দের বানান ঠিক করছি অথবা বাক্যের গঠন। পাঠক ত্রিভুজ লেখক ত্রিভুজের খুব বড় ভক্ত নয়। তাহলে মানুষ আসলে কেন আমার লেখা পড়ে? শুধুই ভালোবাসার জন্য? যদি তাই হয়, তাহলে এই ভালোবাসার রহস্য কী?

লেখালেখি করতে গিয়ে আজকাল খালি মনে হয়– 'দিনে দিনে বাড়িতেছে ঋণ, শুধিতে হইবে দেনা!' এত ভালোবাসার ঋণ আমি শুধিব কেমনে?


Thoughts