তুমি কি জানো, তুমি কতটা মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ন?

প্রিয় তাতিয়ানা। তুমি কি জানো, একজন মানুষ কতটা মূল্যবান? আচ্ছা, মানুষ কেন স্পেশাল ও মূল্যবান? মানুষের শরীর তো নীল তিমি বা হাতির মত বড় নয়। চিতাবাঘের মত ছুটতে পারে না। পাখির মত আকাশে উড়তে পারে না। মাছের মত দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে না। পেঁচার মত অন্ধকারে দেখতে পারে না। মানুষের শরীরে খুব বেশী শক্তিও নেই। খুব বেশী ঠান্ডা গরমও মানুষ সহ্য করতে পারে না। খুব দুর্বল একটা শরীর মানুষের, একটু জ্বরেই কোঁ কোঁ করতে থাকে। জন্ম হওয়ার পরে দীর্ঘদিন পুরোপুরি অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। তাহলে মানুষের বিশেষত্বটা কোথায়? চলো মানুষের কিছু বিশেষত্ব জেনে ফেলি।

তুমি কি লক্ষ্য করেছ, পৃথিবীতে এত শত জীবজন্তুর ভেতরে শুধুমাত্র মানুষই নিজের মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য ভাষার ব্যবহার জানে? সহজ ভাবে বললে- মানুষ কথা বলতে জানে। আবার দেখ, এত শক্তিশালী ও নানারকম ক্ষমতার জীব-জন্তুদের কেউ মানুষের মত দুই পায়ে দাঁড়িয়ে হাঁটে না। হাত দিয়ে ইচ্ছেমত নিখুঁতভাবে কাজকর্ম করতে পারে না। এই হাত দিয়ে প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ নিজের জন্য পোষাক তৈরি করতে শিখেছে। ভাল্লুকের মত লোমশ শরীর আমাদের নেই তো কি হয়েছে, আমরা চাইলেই একটা পশমের কোট বানিয়ে ভাল্লুকের মত ঠান্ডায় ঘুরতে পারি। পাতলা স্যান্ডো গেঞ্জি বানিয়ে গরমে ঘুরতে পারি। ছাতা বানিয়ে রোদ থেকে বাঁচতে পারি। আর এগুলো আমরা করতে পারি কারণ আমাদের আছে অসাধারণ একটা ব্রেইন। একটা তিমি মাছ বা হাতির চাইতে আমরা ছোট হতে পারি, আমাদের মাথার আকৃতি তাদের থেকে ছোট হতে পারে, কিন্তু আমরা আমাদের ব্রেইন ব্যবহার করে অনেক কিছু করতে পারি। পৃথিবীর সবচাইতে বড় ব্রেইনের অধিকারী হচ্ছে স্পার্ম তিমি (Sperm whale)। কিন্তু দেখ, আমাদের ব্রেইনের ক্ষমতার সাথে তাদের কোন তুলনাই চলে না। পৃথিবীর সকল সুপারকম্পিউটারগুলোর সম্মিলিত শক্তির চাইতেও আমাদের ব্রেইন হাজার/লাখ গুন বেশী শক্তিশালী। সেই ব্রেইন ব্যবহার করে আমরা আগুন জ্বালাতে শিখেছি। পৃথিবীর আর কোন প্রাণীকে দেখেছ আগুন জ্বালতে? আগুন দিয়ে রান্না করে খেতে? মেরু অঞ্চলের প্রাণীদের মত তীব্র ঠান্ডায় বেঁচে থাকার মত শরীর আমাদের নেই বলে কি হয়েছে, আমরা আগুন জ্বেলে সেখানেও বসবাস করতে পারি। পাখির মত উড়তে পারি না তো কি হয়েছে, বিমান বানিয়ে ঠিকই আমরা উড়ে যাচ্ছি। সাবমেরিন বানিয়ে পানির নিচে মাছের মত ডুব দিয়ে থাকতে পারি, দ্রুত সাঁতার কাটার মত ছুটতে পারি। গাড়ি বানিয়ে চিতা বাঘের চাইতেও দ্রুত ছুটতে পারি। যন্ত্র বানিয়ে পৃথিবীর যেকোন শক্তিশালী প্রানীর চাইতেও ভারী বস্তু তুলতে পারি। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু বানাতে পারি। এতসব আমরা পারি শুধুমাত্র আমাদের ব্রেইনের জোরে। আমাদের বুদ্ধিমত্তা ও কল্পনা শক্তির জোরে। আমরা এজন্যই ইউনিক। মূল্যবান। স্পেশাল। গুরুত্বপূর্ন।

একজন মানুষ হিসেবে তুমিও অনেক মূল্যবান, অনেক স্পেশাল। এই ব্যপারটা খুব ভালোভাবে যদি উপলদ্ধি করতে পারো, তাহলে তুমি নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারবে। নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে জানে না বলে একটা হাতিকেও হালকা রশি দিয়ে বেঁধে রাখা যায়। সুতরাং নিজেকে জানা জরুরী। আমরা ধীরে ধীরে নিজের এই ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে থাকবো। এবং সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে একজন মহান মানুষ হয়ে উঠবো। সকল প্রকার ক্ষুদ্রতা ও হীনতাকে অতিক্রম করবো।


Thoughts