মানুষকে বোঝার চেষ্টা করো

বুঝলে তাতিয়ানা, এই পৃথিবীর মানুষের না খুব অভাব। তুমি ভাবছো যারা তিন বেলা খেতে পায় না তাদের কথা বলছি? নাহ! যে অভাবের কথা আজকে বলবো সেটা ঐ অভুক্তদের নেই বললেই চলে। এটা হচ্ছে শান্তির অভাব। যেদিন থেকে তুমি তিন বেলা খাওয়া ও থাকার চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে সেদিন থেকে এই অভাব অনুভব করতে শুরু করবে। পৃথিবীর মানুষের যাবতীয় কাজ-কর্মের উদ্দেশ্যের একদম গভীরে আছে এই শান্তি পাওয়ার ইচ্ছে। তোমার চারদিকে যত ধরনের মানুষ দেখতে পাবে তাদের কাজকর্মের ব্যাখ্যা পাওয়া সহজ হয়ে যাবে যদি এই শান্তি তত্ত্ব বুঝতে পারো। একজন মানুষ তোমার কাছে এসে খামোখাই আরেকজন মানুষের বদনাম করে, কারণ এটা করে সে শান্তি পায়। একজন মানুষ খামোখাই তোমার পেছনে লাগবে কারন এতেই তার শান্তি। একজন মানুষ তোমাকে কষ্ট দিবে, কারণ এটা করে সে শান্তি পায়। আরেকজন মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে এবং তোমার জন্য নিঃস্বার্থভাবে কিছু করে যাবে, কারণ সে ওখানে শান্তি খুঁজে পেয়েছে। এভাবে মানুষের যাবতীয় খারাপ ও ভালো কাজের পেছনে তুমি শান্তি পাওয়ার আকাঙ্খা খুঁজে পাবে।

আত্মার খাবার হচ্ছে 'শান্তি'। মানুষের যাবতীয় কাজের মূল উদ্দেশ্যের শেষ মাথায় আছে এই 'শান্তি' প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা। মৌলিক চাহিদাগুলোর কেন্দ্রে এর অবস্থান। বেশীরভাগ মানুষ সচেতনভাবে এটা উপলদ্ধি করতে পারে না। যারা পারে, তাদের জীবনে শান্তির অভাব কখনো হয়না।
Trivuz Alam

এখন কথা হচ্ছে- মানুষ যে শান্তি পাওয়ার জন্য এতকিছু করে, তবুও তাদের শান্তির এত অভাব কেন? কারণ, বেশীরভাগ মানুষই ভুল পথে শান্তি পাওয়ার চেষ্টা করে। তুমি একজন মানুষকে গালি দিয়ে বা কষ্ট দিয়ে শান্তি পাবে সত্যি, কিন্তু সেই শান্তি খুব ক্ষনস্থায়ী। আবার এধরনের কাজ তোমার জীবনে অনেক অশান্তি ডেকে আনবে। ধরো তুমি কাউকে খুব কষ্ট দিয়ে ১০ পরিমান শান্তি পেলে। কিন্তু এর জন্য ভবিষ্যতে তোমাকে ৫০ পরিমান অশান্তি ভোগ করতে হবে। তুমি যদি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ হও, তাহলে তুমি দেখতে পাবে যে ঐ কাজ তোমার শান্তি বাড়ানোর পরিবর্তে ৪০ পরিমান অশান্তি বাড়িয়েছে। এভাবে যখন তোমার অশান্তির পরিমান বাড়তে থাকবে তখন তুমি সেই অভাব পুরনের জন্য আরো বেশী বেশী মানুষকে কষ্ট দিতে থাকবে। ধরো ১০০ জনকে কষ্ট দিয়ে ১০০ x ১০ = ১০০০ শান্তি পেলে। কিন্তু তোমার জন্য ঐদিকে ১০০ x ৫০ = ৫০০০ পরিমান অশান্তি অপেক্ষা করছে। সেই ৫ হাজার পরিমান অশান্তি যখন তুমি ভোগ করতে শুরু করবে তখন আরো বেশী পরিমানে খারাপ আচরণ ও কাজ করতে থাকবে... শান্তির খুব বড় ধরনের অভাব তৈরি হবে বলে। এটা খুব বাজে ধরনের একটা চক্র। এটাকে তুমি অশান্তির দুষ্ট চক্র বলতে পারো। এই চক্র থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো। দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে তুমি বুঝতে পারবে যে- মানুষকে কষ্ট দেয়ার চাইতে আনন্দ ও প্রশান্তি দেয়ার ভেতরে বেশী শান্তি লুকিয়ে আছে। আবার সেই শান্তি ভবিষ্যতে অশান্তি ডেকে আনার পরিবর্তে আরো শান্তি ডেকে আনবে। এমন একজন লোকের কথা ভেবে দেখ, যে সকল মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করে। সুন্দর করে কথা বলে। সম্ভব হলে সাহায্য করে। এটা করে তিনি প্রশান্তি লাভ করেন। আবার যাদের সাথে তিনি এই সুন্দর ব্যবহার করলেন ও যাদেরকে সাহায্য করলেন, তারাও বর্তমানে ও ভবিষ্যতে তার সাথে ভালো ব্যবহার করবে, বিপদে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে। এভাবে দিনে দিনে তার শুভাকাংখির সংখ্যা বাড়তে থাকবে। জীবনে শান্তির উপাদান এবং সম্ভবনাও বেড়ে চলবে।

অনেক সময় এরকম হতে পারে যে- তুমি কারো সাথে ভালো ব্যবহার করলে এবং সাহায্য করলে কিন্তু বিনিময়ে তার কাছ থেকে খারাপ ব্যবহার পেলে, অকৃতজ্ঞের মত আচরণ করতে দেখলে, এমনকি তোমার ক্ষতি করার চেষ্টাও করতে দেখলে। আবার কিছু কিছু মানুষ কোন কারণ ছাড়াই তোমাকে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করবে। তোমার নামে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করবে। তুমি তো এখন জানো, কেন এরা এটা করছে। এটা এরা করছে অশান্তির ঐ দুষ্ট চক্রের জন্য, যেখানে সে আটকে আছে। তাই এদের প্রতি রাগ অনুভব না করে করুনা অনুভব করবে। তুমি ইতিমধ্যে জেনেছ মানুষ কত মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ন। তোমার মত সেও যদি নিজেকে জানতে পারতো, মানুষের গুরুত্ব বুঝতে পারতো তাহলে অবশ্যই এধরনের আচরণ করতো না। তুমি তাকে ক্ষমা করে দিতে পারো, কারণ তুমি জানো তুমি কত বড়। ক্ষমা করার ভেতরেও অনেক প্রশান্তি আছে। তুমি যদি তাকে ক্ষমা করে দাও অথবা ব্যপারটা নিয়ে কোনরকম প্রতিক্রিয়া না দেখাও, তাহলে একদিন না একদিন সে তার ভুল অবশ্যই বুঝতে পারবে। সেদিন সে অনুতপ্ত হবে, তোমার কাছে এসে ক্ষমাও চাইতে পারে। সেটা না করলেও অন্তত তুমি কতটা মহৎ ও বড় সেটা বুঝতে পারবে। ওটাও একদিন তোমার প্রশান্তির কারণ হতে পারে। সেটা না হলেও, অন্তত অশান্তির কারণ হবে না নিশ্চিত থাকো।

An eye for an eye only ends up making the whole world blind.
Mahatma Gandhi

তবে ক্ষমা করার সাথে সাথে তোমাকে আরেকটা ব্যপার খেয়াল রাখতে হবে। সেটা হচ্ছে সার্কেল থিওরী। এ বিষয়ে পরে আরো কথা হবে।


Thoughts