একজন লোভী ডাক্তার ও আমার অভিজ্ঞতা

আমার প্রফেশনাল ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিলো হসপিটালের ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার বানানোর মাধ্যমে। প্রথম সফটওয়্যারটা বানিয়েছিলাম একটা হাসপাতালে বসে। ওখানে আমার জন্য একটা রুম বরাদ্দ ছিলো। আর যে ডাক্তার আংকেলের হাসপাতালের সফটওয়্যার বানাচ্ছিলাম, তাঁর একটা গবেষণায় সাহায্য করার জন্য একটা এনালাইসিস টুলও বানাচ্ছিলাম যেটার জন্য উনার ব্যাক্তিগত প্রাকটিস চেম্বারে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাতে হয়েছে। রোগীর চাপ একটু কমে আসলেই টুলটা ডেভেলপের জন্য উনার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ইনপুট আর দিকনির্দেশনা নিতাম। তো, খোদ ডাক্তারের চেম্বারে দীর্ঘদিন সময় কাটানোর দরুন বাংলাদেশের রোগীদের খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিলো। এছাড়াও পরবর্তী ৫/৬ বছর দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই হসপিটাল সিস্টেম ডেভেলপ, সাপোর্ট দিতে গিয়ে আরো অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি- এই দেশে অল্প কিছু খারাপ ডাক্তারের পাশাপাশি অনেক ভালো ডাক্তার আছে। আর আছে অসংখ্য বিবেকহীন মূর্খ রোগী ও রোগীর আত্মীয়স্বজন।

কত অদ্ভুত সব সময়ের ভেতর দিয়ে আমরা এসেছি

মাঝে মাঝে চিন্তা করি... আমরা ৮০'র দশকে যারা জন্মেছি, তারা কত ভাগ্যবান! কত অদ্ভুত সব সময়ের ভেতর দিয়ে আমরা এসেছি। আমি যখন খুব ছোট, তখন এলাকার দুইটা কি তিনটা বাড়িতে টিভি ছিলো। একদম ছোটবেলাটা আমাদের টিভি ছাড়াই কেটেছে। যদিও রেডিও আর ক্যাসেট প্লেয়ার ছিলো। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর বাসায় টিভি এলো। টিভি দেখাটা তখন কত এক্সাইটিং ছিলো। এর ভেতরে এলো টিভি গেমস। সেটা আমাদের প্রচুর বিনোদন দিয়েছে। স্কুল পার হওয়ার আগেই এলো কম্পিউটার। সেটা আরো এক্সাইটিং ব্যপার ছিলো। কলেজে ওঠার আগেই ইন্টারনেট পেলাম। কলেজ পার হয়ে ভার্সিটিতে যেতে যেতে ইন্টারনেট এভেইলেবলও হয়ে গেল। এর মাঝে মোবাইল ক্রেজ... সোশ্যাল মিডিয়া... ইউটিউব...! চক, ক্রেয়নে আঁকাআকি থেকে কম্পিউটারে লেখালেখি, কাজ।

নতুন বছরের রেজ্যুলেশন ও এইসব দিবস টিবস

বছরের এক তারিখে কেন সবাই নতুন বছরের রেজ্যুলেশন ঠিক করে? অথবা রেজ্যুলেশন ঠিক করার জন্য এরকম একটা দিন-ক্ষনকে কেন বেছে নেয়া হয়? কেনইবা এত দিবস-টিবস?

ভালো চাওয়ার রোগ

মানুষের ভালো চাওয়া ভালো। কিন্তু এই সকল ভালো চাওয়া কি আসলেই ভালো চাওয়া? অনেকেই আছে, যাদের এই ভালো চাওয়াটা মানসিক রোগে পরিনত হয়। সেই রোগের কিছু নমুনা তুলে ধরি।

আমাদের দেশের কর্ম ঘন্টায় এরকম পরিবর্তন করলে কেমন হয়?

একটা ব্যপার ভাবছিলাম। আমাদের দেশের অফিস-আদালতের সময়টা ১০টা-৫টা থেকে পরিবর্তন করে ভোর ৫টা-১টা করলে কেমন হয়? মানুষজন ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে হালকা কিছু খেয়ে বের হয়ে পড়লো। অফিসগুলোতে লাঞ্চ ব্রেকের মত ১০টার দিকে ব্রেকফাস্ট ব্রেক দিলো। তারপর ১টায় ছুটি। লোকজন দুপুরে বাসায় ফিরে পরিবারের সাথে লাঞ্চ করলো, আপনজনের সাথে বাকীটা দিন কাটালো। শপিং করলো, ঘুরলো। তারপর সন্ধ্যায় ডিনার করে ৮টার ভেতরে ঘুমিয়ে গেল। এর পজেটিভ সাইডগুলোর ভেতরে গুরুত্বপূর্ন কয়েকটি পয়েন্ট তুলে ধরা যাক

একটা সিনেমা বা টিভি সিরিজের আইডিয়া

একবার পৃথিবীর সমস্ত ভালো মানুষেরা মিলে ঠিক করলো তারা একটা দেশ গঠন করবে। সুতরাং তারা অনলাইনে পিটিশন খুললো। সেখানে দুই'শ মিলিয়ন মানুষ সাইন আপ করলো। পৃথিবীর নেতারা দেখলেন এই দুই'শ মিলিয়ন মানুষদের তো সামলানো সম্ভব না, তাই তারা আলোচনা করে একটা ভূমি ছেড়ে দিলো। সেইখানে দুই'শ মিলিয়ন ভালো মানুষেরা বসতি করলো এবং সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো। ভালো মানুষদের ফিলোসফিগুলো তারা বাস্তবায়ন করতে লাগলো। এই যেমন- সেনাবাহিনী তৈরি করলো না। অস্ত্র আর সকল প্রকার ধ্বংসাত্মক জিনিষপত্রের গবেষণা বন্ধ করে দিলো এবং সেগুলোর টাকা বাঁচিয়ে মানুষের কল্যাণে ইনভেস্ট করে আরো ভালো থাকতে লাগলো।

সুখী মানুষের খোঁজে

জগতে কিছু মানুষ আছে যারা স্ফটিক স্বচ্ছ জলাধারের মত। শান্ত, সৌম্য আর হাসি-খুশী। তাদের নিজেদের ভেতরে যেমন সুখী সুখী একটা বিরাজ করে, তাদের সাথে থাকলে অন্যরাও একটা অদ্ভুত শান্তি অনুভব করে। এধরনের মানুষের কাছাকাছি থাকলে কেন শান্তি শান্তি লাগে তার ব্যাখ্যা নিউরোসায়েন্টিস্টরা ভালো দিতে পারবে হয়তো, কিন্তু আপনি নিজে কিভাবে এধরনের মানুষগুলোর একজন হতে পারেন? কিভাবে? ভাবা যেতে পারে। মানুষের মনকে যদি এরকম জলাধারের সাথে তুলনা করেন, তাহলে ভেবে দেখুন- আপনার সেই জলাধার কতটা স্ফটিক স্বচ্ছ আর শান্ত। অথবা, চিন্তা করে বের করুন- এই দু'টো অবস্থায় আপনার মন পৌঁছানোর পথে বাঁধাটা কোথায়? এই ভাবনাটাও সচল রাখুন, কিছু বের হয়ে আসলেও আসতে পারে।

আত্মপরিচয়

জার্মান লেখক প্যাট্রিক সাসকিন্ড (Patrick Süskind)-এর একটা নভেল আছে, পারফিউম (Das Parfum)। মানুষের আত্মপরিচয়ের গল্প নিয়া অসাধারণ একটা উপন্যাস। পৃথিবী কিসের মূল্য দেয় আর মানুষ কি চায় এই সংক্রান্ত ভাবনা সেই ছোটবেলা শেখ সাদীর দামী পোষাকেের পকেটে খাবার রাখার গল্প পড়ে শুরু হয়েছিলো। প্যাট্রিক সাসকিন্ড সেইটারে আরো পূর্নতা দিছেন। সেই পূর্নতার বোধ শেয়ার করার মত ভাষাজ্ঞান আমার এখনো হয় নাই বইলাই মনে হয়। তাই সে চেষ্টা আর করলাম না। তারচাইতে নিজের কিছু ভাবনা প্রকাশের চেষ্টা করবো আজকে।

বাক স্বাধীনতা, ফেসবুক ও আমার একটি স্বপ্ন

সম্প্রতি ফেসবুকের বাক স্বাধীনতা নিয়ে বেশ জোরেশোরে প্রশ্ন উঠেছে। গার্ডিয়ান সহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় এই বিষয়ে রিপোর্ট ছাড়া হয়েছে। ফেসবুকের ব্যপারে এধরনের প্রশ্ন অনেক আগে থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে ছিলো। ইসরাইল বিরোধী অনেক কনটেন্ট ফেসবুক সরিয়ে ফেলতে দেখেছি। কিন্তু সম্প্রতি কাস্মীর ইস্যুতে ফেসবুকের যে ভূমিকাটা নিচ্ছে, এটা একেবারে নতুন। জাকারবার্গের বক্তব্যগুলোর সাথে এগুলো পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। কাস্মির ইস্যুতে লেখালেখির জন্য বহু লোকের ফেসবুক একাউন্ট ডিলিট করে দেয়া হয়েছে (ব্যান নয়, একেবারে ডিলিট)। বহু কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফেসবুকের বায়াসনেস এর আগে এত প্রকটভাবে আর কখনো এভাবে ধরা পড়েনি। এটা খুব বেশী দৃষ্টিকটু এই কারণে যে- বাক স্বাধীনতার ব্যপারটা ফেসবুকের চাইতে বেশী কোন প্লাটফর্ম আজ পর্যন্ত দিতে সক্ষম হয়নি। একারণে ব্যপারটা অনেকে মেনে নিতে পারছেন না।

বাচ্চা লালন-পালনঃ তাতিয়ানা ও আমি

একটা বাচ্চাকে কিভাবে বড় করা উচিত তা ভালোভাবে জানতে গত তিন-চার বছর ধরে বাচ্চা লালন-পালন বিষয়ক অনেক আর্টিকেল পড়েছি। বেশ কয়েকটা বই পড়েছি। আর তারচাইতেও বেশী করেছি চিন্তা এবং পর্যবেক্ষন। পর্যবেক্ষন সম্ভব হয়েছে কারণ- তাতিয়ানা হওয়ার পরপরই আমি গুলশানের অফিস ক্লোজ করে উত্তরা নিজের বাসায় অফিস খুলে বসি। বাকীরা কাজ করতো রিমোট অফিসে। ফারাহ সকালে অফিস চলে যেত। দুপুরে এসে তাতিয়ানাকে খাইয়ে আবার চলে যেত এবং সন্ধ্যার পর ফিরে রাতের খাবার দিতো। এর মাঝখানের দেখাশোনাটুকু আমি করতাম। আমার ধারণা ছিলো তাতিয়ানাকে দেখার পাশাপাশি কাজ করা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা পুরোই ভিন্নরকম ছিলো। একটা বাচ্চাকে যে কি পরিমান সময় দিতে হয় সেটার খুব বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো গত তিন বছরে। ফারাহ বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া থেকে ফেরা পর্যন্ত একদম পুরোটা সময় আমার তাতিয়ানাকে দিতে হয়েছে। কাজ করতে বসতাম শুধুমাত্র তাতিয়ানা ঘুমিয়ে যাওয়ার পর।

আমি জানি না বাচ্চা লালন-পালন সম্পর্কে কতটুকু শিখতে পেরেছি। কিন্তু তাতিয়ানাকে নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। সে অনেক চঞ্চল কিন্তু কখনো কোন জিনিষ নষ্ট করে না। প্রচুর উৎসাহী কিন্তু যন্ত্রনা দেয় না। নো-কান্নাকাটি। নো মারামারি। কেউ তার খেলনা হাত থেকে কেড়ে নিলে সে আরেকটা খেলনা খুঁজে নেয় খেলার জন্য। কোনরকম যন্ত্রনা করে না। আমি জানি না, জেনেটিক্যালিই সে এরকম হয়েছে কিনা... কিন্তু এটুকু বলতে পারি যে- ওকে অনেক যত্ন করে অনেক সাবধানতার সাথে বড় করছি।
বাংলাদেশে বাচ্চা লালন-পালন সংক্রান্ত অনেক ভুল আচরণ আছে। এসব ভুলের কিছু কিছু নিয়ে আজকে আলোচনা করবো, সাথে এসব ক্ষেত্রে তাতিয়ানার সাথে আমি কি করেছি সংক্ষেপে সেটা বলবো।

Thoughts