নিউগিনিয়ানদের উপাখ্যান

নিউগিনিয়ানদের সাথে আমরা পেরে উঠছিলাম না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা তাদেরকে হারিয়ে দেই। কিভাবে জানো?

শত্রু শত্রু খেলা

গত পাঁচবছর ধইরা অনলাইনে War Commander নামের একটা গেম খেলি। খেলতে খেলতে ঐ গেমের একজন ডেভেলপারের সাথে পরিচয় হয়া গেল। সেই থ্রুতে গেমটার মালিক পক্ষের সাথে অনলাইনে যোগাযোগ। তো, একদিন কইলাম... তোমরা এত ভালো একটা গেম বানাইছো কিন্তু এইটারে আরো ভালো কেমনে বানানো যায় সেই পরামর্শ আমি দিতে পারি। তয়, ফ্রি দিবার পারুম না। আবার তোমারে ক্যাশ পে-ও করতে হইবো না। গেমে আমরা ডলার খরচ কইরা যে গোল্ড কিনি, তুমরা আমার পরামর্শের বিনিময়ে গোল্ড দিবা। অরা কয়, এইরাম কুনো পলিসি আমাগো নাই। সুতরাং তুমি চাইলে ফ্রি পরামর্শ দিবার পারো। আমি কইলাম, ফ্রি পরামর্শ দেই না। ফুটো।

সিক্রেট অব হ্যাপিনেস

ছোটবেলা থেকেই আমি একজন সুখী মানুষ। একদম বাচ্চাবেলা থেকে বড়বেলা পর্যন্ত আমার হ্যাপিনেসের কারণ ছিলো নানারকম জিনিষ নিয়া গবেষণা ও চিন্তা করতে ভালো লাগতো। বই পড়তে অনেক ভালো লাগতো, পড়তাম। বাসার ইলেকট্রনিক্স জিনিষপত্র খুলে দেখতে ভালো লাগতো, দেখতাম (তবে সেগুলো নষ্ট করে বকা খেয়ে হ্যাপিনেসে কিছুটা ব্যাঘাট ঘটতো)। আরেকটু বড় হয়ে ভিডিও গেমস, কম্পিউটার আর বন্ধুবান্ধব ছিলো আমার হ্যাপিনেসের প্রধান উৎস। বন্ধুরা সবসময় বলতো, আমার মত টেনশনলেস আর হ্যাপি মানুষ নাকি তারা কখনো দেখে নাই। কিভাবে এত সুখী ছিলাম? অনেক ভেবে তার দু'টো প্রধান কারণ বের করেছি। প্রথমত, আমার চাহিদা খুব কম ছিলো। জীবনে যা পেয়েছি তা নিয়ে সুখী হয়েছি, যা পাইনি সেগুলো নিয়ে কোন আফসোস কাজ করেনি। দ্বিতীয় কারণ ছিলো- লোভ, হিংসা আর অহংকার কাজ করতো না। এটা অন্যতম বড় ব্যপার। কারণ, আমাদের বেশীরভাগ হ্যাপিনেসের ব্যঘাত ঘটায় লোভ, হিংসা আর অহংকারের মত মানবিক ত্রুটিগুলো। আর এই লোভ, হিংসা আর অহংকার মুক্ত হতে পেরেছি মানুষের প্রতি মমতা কাজ করায়। যেখানে মমতা থাকে সেখানে ঈর্ষা কাজ করে না। বাবা-মায়েরা এজন্য বাচ্চাদের সাফল্যে ঈর্ষার্নীত হয় না। এই 'মমতা' জিনিষটা হ্যাপিনেসের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ন।

বিবাহ প্রথা কি বিলুপ্তির পথে?

২০১৪ সালে টাইম ম্যাগাজিন Why 25% of Millennials Will Never Get Married শিরোনামে একটা রিপোর্ট ছেপেছিলো। ঐ রিপোর্টে বলা হয়েছিলো যে, অতীতের যেকোন সময়ের চাইতে এখন সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ বিয়ের ব্যপারে অনাগ্রহী। Pew Research report এর উপরে ভিত্তি করে লেখা এই আর্টিকেলটায় আমেরিকার তরুন/তরুনীদের উপর করা জরিপের কিছু প্রশ্নের ডাটা প্রকাশ করা হয়েছিলো। সেরকম একটি প্রশ্ন ছিলো- কেন মানুষ বিয়ে করতে চাচ্ছে না আর? উত্তরদাতাদের ভেতরে ৩০ ভাগ বলেছিলো— 'সঠিক মানুষ'টি তারা খুঁজে পাচ্ছে না, ২৭ ভাগ বলেছিলো— অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবে এবং ২২ ভাগ বলেছিলো— বিয়ের জন্য তারা প্রস্তুত না।

যান্ত্রিক গোলযোগ

ডিয়ার টেকনিক্যাল সাপোর্ট, গত বৎসর আমি গার্লফ্রেন্ড ৭.০ থেকে ওয়াইফ ১.০ তে আপগ্রেড করেছিলাম। তার কিছুদিনের মাঝেই আমি বুঝতে পারলাম এটি অযাচিত ভাবে একটি চাইল্ড প্রসেসিং শুরু করেছে যা অনেক জায়গা এবং রিসোর্স নিয়ে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওয়াইফ ১.০ ইনষ্টল হওয়ার সাথে সাথে অন্য প্রোগ্রামগুলোর সাথে ইন্টিগ্রেটেড হতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে এটি সব ধরনের সিস্টেম একটিভিটি মনিটর করতে শুরু করেছে। ওয়াইফ ১.০ যেসকল প্রোগ্রামের সাথে কনফ্লিক্ট শুরু করেছে তার কয়েকটি- পোকার নাইট ৭.১, ফুটবল ৫.০, হান্টিং এন্ড ফিসিং ৭.৫ এবং গলফিং ৩.৬।
আমি ওয়াইফ ১.০ কে কিছুতেই ব্যাকগ্রাউ প্রসেসে পাঠিয়ে আমার প্রিয় এপ্লিকেশনগুলো রান করাতে পারছি না। তাই আমি ঠিক করেছিলাম আমার আগের গার্লফ্রেন্ড ৭.০ তে যাওয়ার ব্যপারে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য ওয়াইফ ১.০ তে কোনরকম আনইনস্টল প্রসিডিউর নাই। দয়া করে আমাকে উদ্ধার করুন।

যেই কারণে ফেসবুক থিকা ধীরে ধীরে সইরা যাইতেছি

ইন্টারনেট মানুষের কমিউনিকেশন সহজ করছে। সেই সাথে কিছু অনাকাংখিত ঝামেলাও নিয়ে আসছে। এই যেমন- অনলাইনে বইসা আপনি কারো লগে কথা কইতেছেন। এমন সময় নেট লাইন গেল গা। আলাপ হয়তো এমন একটা জায়গায় ছিলো যেইখানে আপনার রিপ্লাই না পাইয়া অপর ব্যক্তি এর কোন একটা অর্থ ধইরা নিলো। এইটা পারস্পরকি ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে যার পরিনতিতে সম্পর্কের ইতি পর্যন্ত ঘটতে পারে। ফেসবুক আইসা বিপত্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। ফেসবুকে আপনি থাকেন বা না থাকেন, মোবাইলে লগইন করা থাকলে অথবা ব্রাউজারের কোন একটা ট্যাবে ওপেন করা থাকলে আপনারে অনলাইন দেখাইবো। এতে যেটা হয়, কেউ একজন অনলাইন ভাইবা আপনারে নক দিলো। আপনি তো আর নাই, রিপ্লাই দিবেন ক্যামনে? অনেকে মাইন্ড করে ব্যপারটায়। অনেক সময় এমনও হয়, মোবাইল ব্যবহার করতে গিয়া হয়তো ম্যাসেজ সিনও হয়ে গেছে, কিন্তু আপনি আসলে খেয়াল করেন নাই। এইটা তো মহাপাপের পর্যায়ের ব্যপার। ম্যাসেজ দ্যাখলো, রিপ্লাই দিলো না... ভাব কত! এর মাঝখানে আছে কাজের মাঝখানে বিরক্ত করার ব্যপার। আপনি হয়তো খুব ব্যস্ত, কাজ করতেছেন বা কোন একটা মিটিং এ আছেন। কেউ একজন আপনারে অনলাইন দেইখা নক দিলো। আপনি তারে কইলেন 'কাজ করতেছি ভাই'। কিন্তু সেই লোক হইলো মহা আজাইরা। সে ভাবে অন্যরা যারা ফেসবুকে অনলাইন তারাও তার মত মহা আজাইরা। আপনারে নক দিতেই থাকবো। কয়দিন আগে একটা গুরুত্বপূর্ন মিটিং এর মাঝখানে একজন আমারে নক কইরা হেল্প চাইলো। মোবাইল সাইলেন্ট করতে ভুলে গেছিলাম, টুং কইরা উঠছে। আমিও ভাবলাম একটা রিপ্লাই দিয়া ফেলি। মিটিং এর মাঝখানে পাঁচ সেকেন্ড ব্যায় কইরা রিপ্লাই দিলাম যে- মিটিং এ আছি। কিন্তু সেই লোক কইয়া বসলো- একমিনিট সময় দেন। তারপর এত্তগুলি ম্যাসেজ পাঠাইছে। জবাব না পাইয়া স্যাড ইমোটিকনও পাঠাইছে। পরে আবার 'আপ্নের হেল্প লাগবো না, সলভ কইরা ফেলছি' টাইপ একটা ম্যাসেজও পাঠাইছে। এইগুলি তো সম্পর্ক নষ্ট করে।

একজন লোভী ডাক্তার ও আমার অভিজ্ঞতা

আমার প্রফেশনাল ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিলো হসপিটালের ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার বানানোর মাধ্যমে। প্রথম সফটওয়্যারটা বানিয়েছিলাম একটা হাসপাতালে বসে। ওখানে আমার জন্য একটা রুম বরাদ্দ ছিলো। আর যে ডাক্তার আংকেলের হাসপাতালের সফটওয়্যার বানাচ্ছিলাম, তাঁর একটা গবেষণায় সাহায্য করার জন্য একটা এনালাইসিস টুলও বানাচ্ছিলাম যেটার জন্য উনার ব্যাক্তিগত প্রাকটিস চেম্বারে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাতে হয়েছে। রোগীর চাপ একটু কমে আসলেই টুলটা ডেভেলপের জন্য উনার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ইনপুট আর দিকনির্দেশনা নিতাম। তো, খোদ ডাক্তারের চেম্বারে দীর্ঘদিন সময় কাটানোর দরুন বাংলাদেশের রোগীদের খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিলো। এছাড়াও পরবর্তী ৫/৬ বছর দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই হসপিটাল সিস্টেম ডেভেলপ, সাপোর্ট দিতে গিয়ে আরো অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি- এই দেশে অল্প কিছু খারাপ ডাক্তারের পাশাপাশি অনেক ভালো ডাক্তার আছে। আর আছে অসংখ্য বিবেকহীন মূর্খ রোগী ও রোগীর আত্মীয়স্বজন।

কত অদ্ভুত সব সময়ের ভেতর দিয়ে আমরা এসেছি

মাঝে মাঝে চিন্তা করি... আমরা ৮০'র দশকে যারা জন্মেছি, তারা কত ভাগ্যবান! কত অদ্ভুত সব সময়ের ভেতর দিয়ে আমরা এসেছি। আমি যখন খুব ছোট, তখন এলাকার দুইটা কি তিনটা বাড়িতে টিভি ছিলো। একদম ছোটবেলাটা আমাদের টিভি ছাড়াই কেটেছে। যদিও রেডিও আর ক্যাসেট প্লেয়ার ছিলো। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর বাসায় টিভি এলো। টিভি দেখাটা তখন কত এক্সাইটিং ছিলো। এর ভেতরে এলো টিভি গেমস। সেটা আমাদের প্রচুর বিনোদন দিয়েছে। স্কুল পার হওয়ার আগেই এলো কম্পিউটার। সেটা আরো এক্সাইটিং ব্যপার ছিলো। কলেজে ওঠার আগেই ইন্টারনেট পেলাম। কলেজ পার হয়ে ভার্সিটিতে যেতে যেতে ইন্টারনেট এভেইলেবলও হয়ে গেল। এর মাঝে মোবাইল ক্রেজ... সোশ্যাল মিডিয়া... ইউটিউব...! চক, ক্রেয়নে আঁকাআকি থেকে কম্পিউটারে লেখালেখি, কাজ।

নতুন বছরের রেজ্যুলেশন ও এইসব দিবস টিবস

বছরের এক তারিখে কেন সবাই নতুন বছরের রেজ্যুলেশন ঠিক করে? অথবা রেজ্যুলেশন ঠিক করার জন্য এরকম একটা দিন-ক্ষনকে কেন বেছে নেয়া হয়? কেনইবা এত দিবস-টিবস?

ভালো চাওয়ার রোগ

মানুষের ভালো চাওয়া ভালো। কিন্তু এই সকল ভালো চাওয়া কি আসলেই ভালো চাওয়া? অনেকেই আছে, যাদের এই ভালো চাওয়াটা মানসিক রোগে পরিনত হয়। সেই রোগের কিছু নমুনা তুলে ধরি।

Thoughts