নারীবাদী ও পুরুষবাদী ক্যাচাল

ফেসবুকে নারী-পুরুষ লইয়া ব্যপক ক্যাচাল চলতেছে টাইমলাইনে টাইমলাইনে। কেউ নারীবাদীদের ধুয়ে দিচ্ছেন আর কেউ পুরুষদের বা পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে ধুয়ে দিচ্ছেন। এই ধোয়ামোছায় কার কী উপকার হচ্ছে কে জানে, তবে এগুলো নারীদের সাথে পুরুষদের দুরত্ব বাড়াচ্ছে বৈ কমাচ্ছে না। তারা কি তাই চান?

নারীবাদীদের দিয়ে শুরু করা যাক। নারীবাদীদের প্রিয় একটা শব্দ হচ্ছে "পুরুষতান্ত্রিক" সমাজ। তারা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নামক একটা ব্যপারকে দাঁড় করিয়েছেন অনেকদিন ধরে এবং এর বিলুপ্তি কামনা করেন। কিন্তু তারা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সাথে কমপিট করতে নারীতান্ত্রিক কোন সমাজ কায়েম করতে চাচ্ছেন না। তার মানে পুরুষদের সাথেই বা পুরুষদের সেই সমাজেই তারা থাকতে চাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কিন্তু একসাথে থাকারই ইচ্ছা। কিন্তু ঝগড়া করে, গালমন্দ করে কি তারা পুরুষদের সেই সমাজে বন্ধুত্বের মর্যাদা পাবেন? বন্ধুত্ব কি ঝগড়া আর কমপিটিশন করে হয়?

নারীবাদীদের যারা দেখতে পারেন না তাদের কথায় আসি এবার। তারা কি নারীদের ছাড়া জীবন কাটাতে পারবেন? যদি পারেন তাহলে ঠিক আছে, ইচ্ছেমত নারীদের কোনঠাসা করার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু যদি না পারেন, তাহলে এ থেকে তাদের প্রাপ্তি কী? একজন ছেলে হিসেবে আমার উপলদ্ধি হচ্ছে পুরুষরা বিয়ে করে লাইফ লং একজন বন্ধু বানানোর জন্য। যারে আপনি ছোট ভাবেন বা ছোট করতে চান, তারে বন্ধু বানাবেন কিভাবে?
কমপিটিশন দিয়া ব্যবসা হতে পারে, ক্যারিয়ারে সাফল্য আসতে পারে এমনকি পরকালে স্বর্গও লাভ করা যেতে পারে, কিন্তু বন্ধু? নাহ, সম্ভব না। বর্তমান সমাজের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে নারী-পুরুষ পরস্পরের বন্ধু না হওয়া। আগে কিন্তু ছিলো, এখন নাই। কেন নাই, এইটা লইয়া উভয়েই ভাবেন। পরস্পররে শত্রু বানাইয়েন না, কমপিটিশনেও যাইয়েন না। আখেরে তাতে কোন লাভ নাই।

 


Thoughts