শিশুর সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য মায়ের যত্ন

একজন নতুন মানুষ পৃথিবীতে আসার আগে যে নয়-দশ মাস মায়ের পেটে থাকে, সেখানে সে মায়ের আচরণ ও মানসিক অবস্থার দ্বারা প্রভাবিত হয়। এমনকি বাইরে থেকে শব্দও শুনতে পায়। মেয়েদের শরীরে এসময় হরমোনাল ব্যপক পরিবর্তন হয়ে থাকে যা তাদেরকে অতিরিক্ত সেনসেটিভ করে তোলে। এরা সহজে কষ্ট পায়, খুব বেশী অভিমান করে ও সহজে রেগে যায়। সুতরাং এসময় খাবারের ব্যপারে অতিরিক্ত যত্নের পাশাপাশি মানসিক দিকগুলোতেও যত্নশীল হতে হয়। আমাদের দেশে সামাজিক পরিস্থিতির কারণে বেশীরভাগ মায়েরা এসময় সঠিক পরিবেশ পায় না। হরমোনাল ও নানারকম শারিরিক পরিবর্তনের কারণে তারা নিজেরাও সহজেই নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেন। এই অবস্থায় বাচ্চার সঠিক গঠন ও মায়ের সুরক্ষার জন্য কয়েকটা ব্যপার পালন করলে অনেকটা নিরাপদ থাকা সম্ভব। এব্যপারে সরাসরি কিছু পরামর্শ দিলাম-

১) সকল ধরনের নিউজ পেপার/টিভি খবর দেখা বন্ধ করে দিন। খারাপ কোন খবর যাতে না দেখতে হয়, এজন্য।
২) যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে ফেসবুকসহ সকল সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। ফেসবুকের হোমপেজে যাওয়া বন্ধ করে দিন। লোকজনের শেয়ার করা খারাপ কিছু যাতে চোখে না পড়ে যায় এজন্য।
৩) ভালো ভালো বই পড়ুন বা ভালো সবকিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকুন।
৪) আড্ডাবাজ প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন থেকে দূরে থাকুন, যাদের আলোচনার বেশীরভাগ জুড়ে থাকে অন্যের সমালোচনা ও খারাপ সব খবর। সকল ধরনের নেগেটিভ আলোচনা থেকে দূরে থাকা হচ্ছে উদ্দেশ্য। সেটা সম্ভব না হলে বাবার বাড়ি  চলে যান। বাবার বাড়ি যাওয়ার ব্যপারটায় অধিকাংশ ফ্যামিলিতে যেহেতু মেয়েরা নিজেরা আয়োজন করতে পারে না সেহেতু হাসবেন্ডকে এই দায়িত্ব নিতে হবে। আপনার ফ্যামিলি হয়তো ব্যপারটা ভালো চোখে দেখবে না, কিন্তু বাচ্চার ভবিষ্যত চিন্তা করে আপনাকে এখানে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
৫)   কুসংস্কার আচ্ছন্ন মানুষজন থেকে যতটা সম্ভব দুরত্ব বজায় রাখুন।
৬) ডাক্তারের পরামর্শের বাইরে কোন ধরনের চিকিৎসা/পথ্য গ্রহন থেকে বিরত থাকুন।
৭) বর্তমান ভেজাল খাবারের সময়ে চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব ফ্রেশ খাবার সংগ্রহের। সকল ধরনের প্যাকেটজাত খাবার থেকে মা'য়েদের দূরে রাখুন। কোমল পানীয় থেকে শুরু করে যেকোন ধরনের প্যাকেটজাত খাবারই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
৮)  পানির ব্যপারে খুব সতর্ক থাকুন। বিশেষ করে ঢাকায় যারা থাকেন, তাদের অতিরিক্ত সচেতনতা প্রয়োজন। ঢাকার পানি মারাত্বক রকমের দূষিত যা সাধারণ ফিল্টার দ্বারা দূষনমুক্ত হয় না। এক্ষেত্রে RO (Reverse Osmosis) প্রযুক্তির পানি পিউরিফিকেশন সিস্টেম লাগিয়ে নিন বাসায়। খাবার ও পানির দূষনের কারণে আপনার বাচ্চার মারাত্বক রকমের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
৯) মা'কে সময় দিন। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে বাচ্চারা বাইরের আওয়াজ শুনতে পায়। এসময় থেকে সে শিখতে শুরু করে। সুতরাং যা শেখাতে চান, শুরু করে দিতে পারেন।

নোটঃ 'পূর্ণতার সন্ধানেঃ মানুষ' নামে যে বইটা লিখছি, সেখানে এগুলোর বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যাখ্যা থাকবে। এখানে অল্প কথায় নির্দেশনামূলক লেখা দেয়া হলো।​


Thoughts