জন্মের প্রথমদিন থেকেই শিশুরা যেভাবে শব্দদুষনের শিকার হয়

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ দেখবেন খুব জোরে জোরে কথা বলে। চিৎকার চেচামেচি খুব কমন ব্যপার এখানে। আবার তিন/চার প্রজন্ম ধরে শিক্ষিত যে ফ্যামিলিগুলো, তারা দেখবেন অতটা চিৎকার করে না। আরো বেশীদিন ধরে যারা শিক্ষিত, মূলত উচ্চবিত্তরা... তাদেরকে আপনি চিৎকার করে কথা বলতে দেখবেন না। ঢাকার বিভিন্ন ক্লাশের খাবারের দোকানগুলোতে ঢু মারলে ব্যপারটা আপনি সহজেই খেয়াল করতে পারবেন। প্রশ্ন হলো— কেন এমন হচ্ছে?

যে লোকটা অনেক শব্দ করে কথা বলে, সেও দেখবেন খুব ধীরে সুন্দরভাবে কথা বলা লোকটাকে পছন্দ করছে। তারমানে চিৎকার করাটা খুব আনন্দের ব্যপার না তার কাছে, বরং অভ্যস্থতার ব্যপার।  এই অভ্যস্থতার ব্যপারটা শুরু হয় একটা বাচ্চা জন্মের দিন থেকেই।

একটা পরিবারে বাচ্চা আসার পরে সবাই খুব আনন্দিত হয়। সবাই সেই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আদর করার জন্য নানারকম কথা বলে থাকে। সেগুলো তারা অনেক জোরে জোরেই বলে থাকেন, আনন্দের আতিশ্যে। সামনে দাঁড়ানো লোকটার সাথে কথা বলার জন্য যতটুকু শব্দ করা উচিত ততটুকু বা তারচাইতে বেশী। কিন্তু তারা খেয়াল করেন না যে- বাচ্চার কান তার ঠিক মুখের কাছেই। বাচ্চাদের কান এমনিতেই অনেক সেনসেটিভ থাকে, তার ভেতরে তার কানের কাছে গিয়ে ক্রমাগত জোরে জোরে কথা বলায় দু'টো ব্যপার ঘটে।
১) বাচ্চাটার কান স্থায়ী ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মানুষের শরীরের অনেক কিছুই সেলফ রিপেয়ার হয়, কান হয় না।
২) জোরে কথা বলার অভ্যস্থতা তৈরি হয়।

এই বাচ্চাটা বড় হয়ে কানে কম শুনবে যার কারণে তাকে জোরে কথা বলতে হবে। আবার অভ্যস্থতার কারণে নিজের অজান্তেই চিৎকার করে কথা বলতে থাকবে। তার নিজের বা পরিবারের অন্য আরেকটি বাচ্চা জন্মের সাথে সাথে সেও গিয়ে জোরে কথা বলে ঐ বাচ্চার কান ও মনন ক্ষতিগ্রস্থ করতে থাকবে। শুধুমাত্র সচেতনতা এই চক্র ভাঙতে পারে। আপনি আজকে শব্দ কমিয়ে দিন, আপনার পরের প্রজন্ম আরো কম ভলিউমে কথা বলবে। এভাবেই আপনার ঘর হতে শব্দদুষনের মাত্রা কমতে থাকবে।

নোটঃ এই সিরিজের যেকোন লেখার যেকোন অংশের সাথে দ্বিমত থাকলে জানাতে পারেন। আমার পর্যবেক্ষন বা চিন্তা-ভাবনায় ভুল থাকতে পারে। আপনার মন্তব্য হয়তো সেই ভুলগুলো দূর করতে সাহায্য করবে। বই হিসেবে প্রকাশের আগে সমস্ত ভুল দূর করাও এখানে প্রকাশের একটা উদ্দেশ্য।


Thoughts