শিশুদের বেড়ে ওঠা পর্যবেক্ষন - ১

ইউরোপ আর আমেরিকায় বাচ্চাদের বড় হওয়া এবং প্রত্যেকটা ব্যপার মনিটরিং এর সিস্টেম আছে। ওরা গবেষণা করে অনেক কিছু বের করেছে। আমাদের দেশে এধরনের গবেষণা হয় কিনা জানি না, কখনো কিছু চোখে পড়েনি। হয়না বোধহয়।  নয়তো এরকম গ্রীস্মমন্ডলীয় একটা দেশে বিয়ের বয়স ১৮ বছর বাধ্যতামূলক করা হতো না।  মানুষের জীবন নিয়ে ইউরোপ আমেরিকায় যেসব গবেষণা হয় সেগুলো আমাদের জন্য পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। জলবায়ুর ভিন্নতা ও আরো নানাবিধ কারণে। কিন্তু আমরা সরাসরি ওদেরকেই ফলো করি, ওদের গবেষণার ফল সরাসরি মেনে নেই।

বাচ্চাদের বেড়ে ওঠা ও বিভিন্ন ব্যপার মনিটরিং এর জন্য আমাদের এখানে মানুষ তাদের অভিজ্ঞতার উপরে নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞরা যেহেতু কোন গাইডলাইন প্রদান করছেন না, করলেও সেটা আমজনতা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না সেহেতু লোকজন নিজের মত করে বাচ্চাদের প্রতিপালন করছেন। এর ফলে বাচ্চা বড় করার ক্ষেত্রে একেকজনের একেকরকম মত পাওয়া যায়। বর্তমান সময়ে সবকিছু এত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে যে আগের প্রজন্মের বেড়ে ওঠা আর এই প্রজন্মের বেড়ে ওঠার ভেতরে বিস্তর পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম তাদের বাচ্চাদের যেভাবে বড় করতে চাচ্ছে পুরানোরা সেটাতে বাঁধা দিচ্ছে। পুরানোরা যেভাবে বড় করতে চাচ্ছে নতুনদের তা পছন্দ হচ্ছে না। এটা অনেক ধরনের সামাজিক সমস্যা তৈরি করছে। এ থেকে উত্তরনের একমাত্র উপায় হচ্ছে দেশের সমস্ত শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি গবেষণা টীম করা এবং সেখান থেকে এই দেশের উপযোগী একটা ম্যানুয়াল তৈরি করা। সেরকম কিছু যতদিন না হচ্ছে ততদিন আমাদেরকে অভিজ্ঞতার উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে।


Thoughts