শিশুদের বেড়ে ওঠা পর্যবেক্ষন - ২

আমাদের এখানে (বাংলাদেশে) শিশুদের বেড়ে ওঠার ব্যপারটা যেহেতু অনেকটাই অভিজ্ঞতা থেকে নিতে হচ্ছে সেহেতু এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় হওয়া গবেষণার একটা গড় ফল ফলো করে একটা টাইমলাইন বানানো যাক। তবে এটি একেবারে পারফেক্ট কিছু নয়। আপনার শিশুর বৃদ্ধি এই টাইমলাইনের আগে পরে হতে পারে।


৫-৬ সপ্তাহঃ এসময়ে বাচ্চারা কাছের কাউকে দেখলে  হাসতে শুরু করে। বিশেষ করে মা বা বাবাকে দেখে।
৩-৪ মাসঃ শব্দের প্রতি রেসপন্স করে। যেকোন শব্দ শুনে মাথা ঘুরিয়ে সেদিকে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করে।
৫ মাসঃ ঝুকে বা হাত বাড়িয়ে কিছু ধরতে শেখে।
৬ মাসঃ খাবার চিবিয়ে খেতে শুরু করে। এক হাত থেকে অন্য হাতে জিনিষ নিতে পারে। অনেক বাচ্চা এসময়েই প্রথম বসতে শেখে বা বসার চেষ্টা করে। তবে এর জন্য তার হাত বা শরীর কিছুতে ঠেকিয়ে নিতে হয়। সরাসরি বসে থাকতে পারে না। যদিও আজকাল অনেক বাচ্চাকে এর আগেই বসতে দেখা যায়। আবার এর পরেও অনেকে বসে।
৭ মাসঃ কিছু সময়ের জন্য কোন কিছুর সাথে ঠেকা না দিয়েই বসতে শেখে।
৯ মাসঃ হামাগুড়ি দিতে চেষ্টা করে।
১০ মাসঃ হামাগুড়ি দেয়। কিছু একটা ধরে হাঁটার চেষ্টা করে। সবার দিকে তাকিয়ে হাসতে শুরু করে।
১২ মাসঃ হামাগুড়ি দেয়। (যদিও অনেক বাচ্চা আজকাল এসময়েই পুরোপুরি হাঁটতে শুরু করে। আবার অনেকে আরো অনেক পরে হাঁটে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।)
১৩ মাসঃ কারো সাহায্য ছাড়াই হাঁটতে শেখে।
১৫ মাসঃ সিঁড়ি বাইতে পারে। নিজে থেকে উঠে দাঁড়াতে পারে। চেয়ার বা উঁচু কোথাও উঠে বসতে চেষ্টা করে। নিজে থেকে ফিডার তুলে খেতে পারে। কোন কোন বাচ্চা এসময়েই দুই/চারটা শব্দ মিলিয়ে কথা বলতে শুরু করে।
১৮ মাসঃ সাহায্য ছাড়াই উঁচু কোথাও উঠে বসতে পারে। চাকাওয়ারা খেলনা দিয়ে খেলতে পারে। বল ছুঁড়তে পারে। অনেকে লাফ দিতেও শিখে যায়। নিজের শরীরের বিভিন্ন অংশ চিহৃিত করতে শেখে। বইয়ের পাতা ওলটাতে পারে অনেকে। পেন্সিল/কলম দিয়ে আঁকাআকি করতে পারে।
২ বছরঃ নিজের নাম বলতে পারে। (অনেক বাচ্চা এটা অনেক আগেই পারে। তবে সাধারণত বাচ্চারা দুই বছর থেকে করে)। কাঠের টুকরা বা যেকোন বস্তু একটির উপরে আরেকটি রেখে টাওয়ার বানাতে পারে। বিভিন্ন জিনিষ পাশাপাশি রেখে ট্রেনের মত বানাতে শুরু করে (অনেকে এটাকে অটিজমের লক্ষণ মনে করেন। ব্যপারটা আসলে তা না)।
৩ বছরঃ সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে উঠতে পারে। এক/দুই ধাপ  টপকে যেতে পারে। নিজে নিজে জামা-কাপড় পড়তে ও খুলতে পারে। বৃত্ত বা এধরনের শেপ আঁকতে পারে। কমপক্ষে দশ পর্যন্ত গুনতে শেখে (যদিও আজকালকার বাচ্চারা ট্যাবে/মোবাইলে রাইম দেখতে দেখতে এক/দেড় বছরেই এগুলো শিখে যাচ্ছে। কিন্তু স্বাভাবিক সময় হচ্ছে এটা)।  তিন চাকার গাড়ি চালাতে পারে।
৪ বছরঃ সাবলিল ভাবে হাঁটতে, দৌঁড়াতে ও সিঁড়িতে লাফিয়ে লাফিয়ে নামতে পারে। এক পায়ে লাফাতে পারে। জামার বোতাম লাগাতে পারে। সর্বক্ষন প্রশ্ন করতে থাকে। নিজে থেকে কাল্পনিক গল্প বলতে শুরু করে।
৫ বছরঃ জুতার ফিতা বাঁধতে পারে। রঙ, শেপ ও বর্ণমালা শিখে যায়। ত্রিভুজ বা এধরনের শেপ আঁকতে পারে। শেখালে বর্ণমালা লিখতে পারে।

এটা হচ্ছে স্বাভাবিক টাইম লাইন। অনেক বাচ্চা এর আগে বা পরে এসব করতে পারে। খুব বেশী আগে/পরে না হলে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।

তথ্যসূত্রঃ 'শিশুর মন ও শিক্ষা' - মমতাজ লতিফ
এবং অনলাইন রিসার্চ


Thoughts