ফেসবুকে লেখালেখি করে কি কাজ হয়?

ফেসবুকে লেখালেখি করে কি কাজ হয়? বিভিন্ন সময়ে এই আলাপ চোখে পড়ে। শেষ চোখে পড়লো ব্রাত্য রাইসু'র আলাপ।

ফেসবুকে লেখালেখি করে কাজ হয়। কিছু খুব দ্রুত হয় কিছু দীর্ঘমেয়াদে। সবচাইতে বড় পরিবর্তনটা হচ্ছে মানুষের মননে। বোর্হেস বলছিলেন, দুই লাইনে যেই কথা বলা যায় সেই কথা বলার জন্য পাঁচশ পৃষ্ঠার উপন্যাস লেখার কী দরকার? ফেসবুক স্টেটাসগুলো হইতেছে দুইলাইনে সেই পাঁচশ পৃষ্ঠার উপন্যাসের সারাংশ। এই দেশে বইয়ের পাঠক কম। ছয় বছর ধরে একটা বইয়ের গ্রুপ চালিয়ে এবং অন্যসকল বইয়ের গ্রুপগুলোর একটিভিটিস দেখে বুঝতে পারি পাঠকের সংখ্যা কত কম। বইমেলায় যতই ভীর হোক না কেন, বই বিক্রি হয় কয়টা? সেই বাঙালিই ফেসবুকে রাত-দিন পড়ে। হোক সেটা দুই/চার লাইনের স্ট্যাটাস। পড়ে তো! বরং এভারেজ একজন মানুষ যত পৃষ্ঠা বই কিংবা খবরের কাগজ পড়েছে তারচাইতে বেশী পড়া হচ্ছে ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো। এই পড়া ফেলনা না। এগুলো কাজ করে। কারো কারো ক্ষেত্রে খুব ধীরে হলেও কাজ করে। আর মানুষ বাই ডিফল্ট সত্য জানতে চায়। ঘটনা বুঝতে, জানতে এবং সেখান থেকে কিছু শিখতে চায়। ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে স্বীকার না করলেও ভেতরে ভেতরে সে অনেক সত্যই মেনে নেয়। অবচেতন মনে হলেও নেয়। এমনকি দশটা মিথ্যার ভীরে একটা সত্য পেলেও ঐ নয়টাকে ছাপিয়ে একটাকে সে মেনে নেয়। একটু দেরীতে হলেও।

তাই ফেসবুকে/অনলাইনে লেখালেখি চলবে। লেখালেখি চলুক।


Thoughts