মোবাইল ও সেলফি প্রজন্ম

আমাদের প্রজন্মের অনেকেই দেখি নতুন প্রজন্মের মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকা, গেম খেলা, সেলফি তোলা, ফেসবুকিং নিয়া হা-হুতাশ করেন। নিজেদের সময়ে যেটা করেছিলেন সেটাকেই তাদের কাছে সেরা মনে হয়, নতুনদেরটা অর্থহীন লাগে। আমাদের প্রজন্মের ব্যপারেও পুরানোরা মোটামুটি একই মতামত প্রকাশ করতো। অথবা সেইসব পুরানোদের আগের প্রজন্মের লোকেরা তাদেরটা ঠিক সহ্য করতে পারতো না। প্রজন্ম-টু-প্রজন্ম ব্যপারটা এভাবেই চলে আসছে। 

ধরুন ভবিষ্যতে যদি একরকম একটা ট্রেন্ড আসে যে- পোলাপান শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। রিকশায় বসে, মাঠে বসে, বাসে বসে শুধুই উদাস হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে তাহলে মোবাইল টেপা প্রজন্মের অনেকে হয়তো আফসোস করবে- ইশ! কি সময় ছিলো আমাদের... মোবাইলে কত ইন্টারেস্টিং সব গেম খেলতাম আমরা। ফেসবুকে সবার সাথে যোগাযোগ রাখতাম, খোঁজখবর রাখতাম। এখনকার প্রজন্মতো শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, পৃথিবীর মানুষ নিয়া তাদের কোন আগ্রহই নাই। কি দিন আইলো!

যাহোক, সেলফি আর মোবাইল টেপায় আমি খারাপ কিছু দেখি না। মানুষের ব্রেইন হচ্ছে সেই দৈত্য যাকে সবসময় কোন না কোন কাজে ব্যস্ত রাখতে হয়।  এখন তারা গেমস খেলে বিনোদন নিচ্ছে। কম্পিউটার আর মোবাইল  গেমসেও শেখার মত অনেক কিছু আছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ায়। দুনিয়া চিনতে সাহায্য করে। এতে এত খারাপ কিছু নাই। আপনার যদি মনে হয় এরচাইতে ভালো ও মজার কিছু নিয়া তাদের ব্যস্ত থাকার উপায় আছে তাহলে সেটা সরবরাহ করেন, তারা সেটা তারা গ্রহন করবে। কিছু না দিয়ে তাদের বর্তমানটা কেড়ে নিতে চাওয়াটা ঠিক না।


Thoughts