তাতিয়ানার জন্য

ঠিক করেছিলাম ৪০ এর আগে কোন সিরিয়াস লেখালেখি করবো না। কিন্তু তাতিয়ানার জন্য একটা বই লেখা শুরু করবো ভাবছি। বেসিক কার্টেসি, কমনসেন্স, মানবতা, ভালো-মন্দের পার্থক্য... এইসব বোঝার জন্য এই দেশে তেমন কোন টেক্সট নাই। ফ্যামিলিতে তাতিয়ানা এগুলো এমনিতেই শিখবে.. কিন্তু তাতিয়ানার মত আরো যারা আছে তাদেরও তো শেখা জরুরী। আবার কবে হুট করে মরে টরে যাই... তাই বই হিসেবেই লিখে রাখা ভালো মনে হলো।

মূলত আমার সারাজীবনের পড়াশোনা-চিন্তা-ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে লিখছি। মোটামুটি ইজম নিরপেক্ষ বই... কোন বিশেষ ধর্ম বা মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত কিছু না। তবে পৃথিবীর সকল মহান ব্যক্তিদের উক্তি থাকবে তাতে। কারো কারো বায়োগ্রাফির কিছু কিছু অংশও থাকতে পারে। এরজন্য সারাজীবনে যত ভালো ভালো বই পড়েছিলাম সেগুলো আরেকবার করে পড়ে ফেলতে হবে। স্কুল-কলেজ জীবনে পড়া বইগুলো এখন পড়লে অনেক নতুন জিনিষ বের হয়ে আসে যেটা আগে খেয়াল করা হয়নি। সেজন্যই আবার পড়া। সেই সাথে, আপনাদের যদি কোন সাজেশন থাকে... দিতে পারেন।

Related Blogs

প্রিয় তাতিয়ানা - ভূমিকা

বেসিক ম্যানার, কার্টেসি, কমনসেন্স, মানবতা, ভালো-মন্দের পার্থক্য... এইসব বোঝার জন্য এই দেশে তেমন ভালো কোন টেক্সট নাই। যাও আছে, খুব বিচ্ছিন্নভাবে লেখা। তাই 'প্রিয় তাতিয়ানা' নামে একটা বই লেখার পরিকল্পনা করছিলাম গত কয়েক বছর ধরে। মূলত আমার সারাজীবনের পড়াশোনা-চিন্তা-ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে লেখা হবে বইটা। মোটামুটি ইজম নিরপেক্ষ... কোন বিশেষ ধর্ম বা মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত কিছু না। এবং যেহেতু খুব উপদেশমূলক ও নিজস্ব চিন্তা-চেতনা নির্ভর বই হবে তাই ঠিক করেছিলাম বইটার মাত্র একটা কপি ছাপাবো। শুধুমাত্র তাতিয়ানার জন্য। কারণ, বইটাতে যে ভঙ্গিতে লেখার পরিকল্পনা করেছিলাম সেটা অনেকের ভালো নাও লাগতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনো খুব জোর দিয়ে নিজের মত প্রকাশ করার পক্ষে নই। আমার লেখালেখির একটা বড় উদ্দেশ্য মানুষকে চিন্তা করতে শেখানো, মানুষের উপরে আমার চিন্তা-ভাবনা চাপানো নয়। কিন্তু একটা বাচ্চার জন্য সেটা খুব কার্যকর পন্থা নয় বিধায় বইটার একটাই কপি ছাপানোই ভালো মনে হয়েছিলো। তারপর, বেশকিছু পরিচিতজন ও বন্ধু-বান্ধবকে এই পরিকল্পনার কথা জানালাম। আমাকে অবাক করে দিয়ে তাদের সকলেই বলে বসলো তাদের জন্য হলেও এক কপি অতিরিক্ত ছাপাতে। তারপর মনে হলো- আচ্ছা, ব্লগে লিখলেই তো পারি। যার ইচ্ছে হলো পড়লো, যার ইচ্ছে পড়লো না। পুরোটা লেখা শেষ হওয়ার পর না হয় বই হিসেবে কিছু কপি ছাপিয়ে নিলাম। ফেসবুকে এর ভেতরে একটা ঘোষণাও দিলাম। সেখানেও অনেকে উৎসাহ দেখালো। সুতরাং লিখতে শুরু করলাম।

তুমি কি জানো, তুমি কতটা মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ন?

প্রিয় তাতিয়ানা। তুমি কি জানো, একজন মানুষ কতটা মূল্যবান? আচ্ছা, মানুষ কেন স্পেশাল ও মূল্যবান? মানুষের শরীর তো নীল তিমি বা হাতির মত বড় নয়। চিতাবাঘের মত ছুটতে পারে না। পাখির মত আকাশে উড়তে পারে না। মাছের মত দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে না। পেঁচার মত অন্ধকারে দেখতে পারে না। মানুষের শরীরে খুব বেশী শক্তিও নেই। খুব বেশী ঠান্ডা গরমও মানুষ সহ্য করতে পারে না। খুব দুর্বল একটা শরীর মানুষের, একটু জ্বরেই কোঁ কোঁ করতে থাকে। জন্ম হওয়ার পরে দীর্ঘদিন পুরোপুরি অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। তাহলে মানুষের বিশেষত্বটা কোথায়? চলো মানুষের কিছু বিশেষত্ব জেনে ফেলি।

মানুষকে বোঝার চেষ্টা করো

বুঝলে তাতিয়ানা, এই পৃথিবীর মানুষের না খুব অভাব। তুমি ভাবছো যারা তিন বেলা খেতে পায় না তাদের কথা বলছি? নাহ! যে অভাবের কথা আজকে বলবো সেটা ঐ অভুক্তদের নেই বললেই চলে। এটা হচ্ছে শান্তির অভাব। যেদিন থেকে তুমি তিন বেলা খাওয়া ও থাকার চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে সেদিন থেকে এই অভাব অনুভব করতে শুরু করবে। পৃথিবীর মানুষের যাবতীয় কাজ-কর্মের উদ্দেশ্যের একদম গভীরে আছে এই শান্তি পাওয়ার ইচ্ছে। তোমার চারদিকে যত ধরনের মানুষ দেখতে পাবে তাদের কাজকর্মের ব্যাখ্যা পাওয়া সহজ হয়ে যাবে যদি এই শান্তি তত্ত্ব বুঝতে পারো। একজন মানুষ তোমার কাছে এসে খামোখাই আরেকজন মানুষের বদনাম করে, কারণ এটা করে সে শান্তি পায়। একজন মানুষ খামোখাই তোমার পেছনে লাগবে কারন এতেই তার শান্তি। একজন মানুষ তোমাকে কষ্ট দিবে, কারণ এটা করে সে শান্তি পায়। আরেকজন মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে এবং তোমার জন্য নিঃস্বার্থভাবে কিছু করে যাবে, কারণ সে ওখানে শান্তি খুঁজে পেয়েছে। এভাবে মানুষের যাবতীয় খারাপ ও ভালো কাজের পেছনে তুমি শান্তি পাওয়ার আকাঙ্খা খুঁজে পাবে।

বাচ্চা লালন-পালনঃ তাতিয়ানা ও আমি

একটা বাচ্চাকে কিভাবে বড় করা উচিত তা ভালোভাবে জানতে গত তিন-চার বছর ধরে বাচ্চা লালন-পালন বিষয়ক অনেক আর্টিকেল পড়েছি। বেশ কয়েকটা বই পড়েছি। আর তারচাইতেও বেশী করেছি চিন্তা এবং পর্যবেক্ষন। পর্যবেক্ষন সম্ভব হয়েছে কারণ- তাতিয়ানা হওয়ার পরপরই আমি গুলশানের অফিস ক্লোজ করে উত্তরা নিজের বাসায় অফিস খুলে বসি। বাকীরা কাজ করতো রিমোট অফিসে। ফারাহ সকালে অফিস চলে যেত। দুপুরে এসে তাতিয়ানাকে খাইয়ে আবার চলে যেত এবং সন্ধ্যার পর ফিরে রাতের খাবার দিতো। এর মাঝখানের দেখাশোনাটুকু আমি করতাম। আমার ধারণা ছিলো তাতিয়ানাকে দেখার পাশাপাশি কাজ করা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা পুরোই ভিন্নরকম ছিলো। একটা বাচ্চাকে যে কি পরিমান সময় দিতে হয় সেটার খুব বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো গত তিন বছরে। ফারাহ বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া থেকে ফেরা পর্যন্ত একদম পুরোটা সময় আমার তাতিয়ানাকে দিতে হয়েছে। কাজ করতে বসতাম শুধুমাত্র তাতিয়ানা ঘুমিয়ে যাওয়ার পর।

আমি জানি না বাচ্চা লালন-পালন সম্পর্কে কতটুকু শিখতে পেরেছি। কিন্তু তাতিয়ানাকে নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। সে অনেক চঞ্চল কিন্তু কখনো কোন জিনিষ নষ্ট করে না। প্রচুর উৎসাহী কিন্তু যন্ত্রনা দেয় না। নো-কান্নাকাটি। নো মারামারি। কেউ তার খেলনা হাত থেকে কেড়ে নিলে সে আরেকটা খেলনা খুঁজে নেয় খেলার জন্য। কোনরকম যন্ত্রনা করে না। আমি জানি না, জেনেটিক্যালিই সে এরকম হয়েছে কিনা... কিন্তু এটুকু বলতে পারি যে- ওকে অনেক যত্ন করে অনেক সাবধানতার সাথে বড় করছি।
বাংলাদেশে বাচ্চা লালন-পালন সংক্রান্ত অনেক ভুল আচরণ আছে। এসব ভুলের কিছু কিছু নিয়ে আজকে আলোচনা করবো, সাথে এসব ক্ষেত্রে তাতিয়ানার সাথে আমি কি করেছি সংক্ষেপে সেটা বলবো।

Thoughts