পারসুইট অব হ্যাপিনেস

মানুষ কেন অসুখী হয়? কিভাবে মানুষ সুখে থাকতে পারে? এইসব নিয়ে নানারকম ভাবনা শেয়ার করবো এখানে।

Related Blogs

সুখী মানুষের খোঁজে

জগতে কিছু মানুষ আছে যারা স্ফটিক স্বচ্ছ জলাধারের মত। শান্ত, সৌম্য আর হাসি-খুশী। তাদের নিজেদের ভেতরে যেমন সুখী সুখী একটা বিরাজ করে, তাদের সাথে থাকলে অন্যরাও একটা অদ্ভুত শান্তি অনুভব করে। এধরনের মানুষের কাছাকাছি থাকলে কেন শান্তি শান্তি লাগে তার ব্যাখ্যা নিউরোসায়েন্টিস্টরা ভালো দিতে পারবে হয়তো, কিন্তু আপনি নিজে কিভাবে এধরনের মানুষগুলোর একজন হতে পারেন? কিভাবে? ভাবা যেতে পারে। মানুষের মনকে যদি এরকম জলাধারের সাথে তুলনা করেন, তাহলে ভেবে দেখুন- আপনার সেই জলাধার কতটা স্ফটিক স্বচ্ছ আর শান্ত। অথবা, চিন্তা করে বের করুন- এই দু'টো অবস্থায় আপনার মন পৌঁছানোর পথে বাঁধাটা কোথায়? এই ভাবনাটাও সচল রাখুন, কিছু বের হয়ে আসলেও আসতে পারে।

সিক্রেট অব হ্যাপিনেস

ছোটবেলা থেকেই আমি একজন সুখী মানুষ। একদম বাচ্চাবেলা থেকে বড়বেলা পর্যন্ত আমার হ্যাপিনেসের কারণ ছিলো নানারকম জিনিষ নিয়া গবেষণা ও চিন্তা করতে ভালো লাগতো। বই পড়তে অনেক ভালো লাগতো, পড়তাম। বাসার ইলেকট্রনিক্স জিনিষপত্র খুলে দেখতে ভালো লাগতো, দেখতাম (তবে সেগুলো নষ্ট করে বকা খেয়ে হ্যাপিনেসে কিছুটা ব্যাঘাট ঘটতো)। আরেকটু বড় হয়ে ভিডিও গেমস, কম্পিউটার আর বন্ধুবান্ধব ছিলো আমার হ্যাপিনেসের প্রধান উৎস। বন্ধুরা সবসময় বলতো, আমার মত টেনশনলেস আর হ্যাপি মানুষ নাকি তারা কখনো দেখে নাই। কিভাবে এত সুখী ছিলাম? অনেক ভেবে তার দু'টো প্রধান কারণ বের করেছি। প্রথমত, আমার চাহিদা খুব কম ছিলো। জীবনে যা পেয়েছি তা নিয়ে সুখী হয়েছি, যা পাইনি সেগুলো নিয়ে কোন আফসোস কাজ করেনি। দ্বিতীয় কারণ ছিলো- লোভ, হিংসা আর অহংকার কাজ করতো না। এটা অন্যতম বড় ব্যপার। কারণ, আমাদের বেশীরভাগ হ্যাপিনেসের ব্যঘাত ঘটায় লোভ, হিংসা আর অহংকারের মত মানবিক ত্রুটিগুলো। আর এই লোভ, হিংসা আর অহংকার মুক্ত হতে পেরেছি মানুষের প্রতি মমতা কাজ করায়। যেখানে মমতা থাকে সেখানে ঈর্ষা কাজ করে না। বাবা-মায়েরা এজন্য বাচ্চাদের সাফল্যে ঈর্ষার্নীত হয় না। এই 'মমতা' জিনিষটা হ্যাপিনেসের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ন।

Thoughts